ads

পাটের তৈরি স্কুল ব্যাগ কবে পাবে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
পাটের তৈরি স্কুল ব্যাগ কবে পাবে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা
পাটের তৈরি স্কুল ব্যাগ। ছবি: চরচা

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বইয়ের পাশাপাশি এবার স্কুল ড্রেস ও পাটের তৈরি পরিবেশবান্ধব স্কুল ব্যাগ দেবে সরকার। দেশের প্রায় ২ কোটি শিক্ষার্থীকে এই ব্যাগ দেওয়ার প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ পাট অধিদপ্তর। আর এই ব্যাগ বিতরণের দায়িত্ব পেয়েছে জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি)।

জেডিপিসি সূত্র জানায়, শুরুতে পরীক্ষামূলকভাবে নির্ধারিত কিছু স্কুলের আড়াই লাখ শিক্ষার্থীকে এই ব্যাগ সরবরাহ করা হবে। প্রাথমিক এই পাইলটিং সফল হলে পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে ২ কোটি শিক্ষার্থী পাটের তৈরি এই ব্যাগ পাবে। ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য আলাদা রঙের ব্যাগ তৈরি করা হচ্ছে। ছাত্রীদের জন্য গোলাপি এবং ছাত্রদের জন্য নীল রঙের ব্যাগ নির্ধারিত হয়েছে।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শতাংশ পাটের সুতা এবং ৫০ শতাংশ তুলার সুতার মিশ্রণে (ব্লেন্ডেড ইয়ার্ন) তৈরি হচ্ছে এই স্কুল ব্যাগ। ব্যাগে ব্যবহৃত রঙে সামান্য কেমিক্যাল এবং ভেতরের একটি স্তরে ও জিপারে কিছুটা প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে বৃষ্টিতে ভেতরের বই ভিজে না যায়। সব মিলিয়ে এটি ৯৫ শতাংশ প্রাকৃতিক তন্তু দিয়ে তৈরি। যত্নের সঙ্গে ব্যবহার করলে এই ব্যাগ ৩-৪ বছর টিকবে। ব্যাগটি দীর্ঘস্থায়ী করতে ঘন ঘন না ভেজানোর পরামর্শ দিয়েছে জেডিপিসি। ব্যাগের গায়ে লেখা রয়েছে, ‘বাংলাদেশে প্রস্তুতকৃত পরিবেশবান্ধব পাট পণ্য’। শৈশবেই শিশুদের মাঝে পরিবেশবান্ধব পণ্যের প্রতি সংবেদনশীলতা ও ভালোবাসা তৈরি করতেই এই স্লোগান যুক্ত করা হয়েছে।

চলতি বছরের জুলাই মাসের শেষে কিংবা আগস্টের শুরুতে প্রাথমিকভাবে ২ লাখ স্কুল ব্যাগ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জানতে চাইলে জেডিপিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহিদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘‘সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও স্কুল ব্যাগ বিতরণের একটি কর্মসূচি রয়েছে। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অর্থায়নে পাট অধিদপ্তরের ছোট একটি প্রকল্পের আওতায় এটি শুরু হচ্ছে। শুরুতে আড়াই লাখ ব্যাগ আমরা জেডিপিসির নিবন্ধিত ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে তৈরি করে সরবরাহ করছি। এর সামগ্রিক প্রস্তুতি আমরা শেষ করেছি।’’

জেডিপিসির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘‘পাইলট প্রকল্পটি সফল হলে আমাদের নিবন্ধিত উদ্যোক্তারা সরকারের এই মহৎ উদ্যোগকে দেশব্যাপী এগিয়ে নিতে পারবে। এর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি পরিবারে অন্তত একটি পাটের পণ্য পৌঁছে যাবে। শিশুরা একই ধরনের পরিবেশবান্ধব ব্যাগ কাঁধে নিয়ে স্কুলে যাবে— এটি হবে একটি অভূতপূর্ব দৃশ্য। ছোটবেলা থেকেই যদি শিশুরা পাটের ব্যাগের স্মৃতি নিয়ে বড় হয়, তবে ভবিষ্যতে তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনেও পাট পণ্যের প্রতি একটা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হবে। আমরা পাটের বহুমুখীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া 'ইকো-ফ্রেন্ডলি' বা পরিবেশবান্ধব ধারণার সঙ্গে তাল মিলিয়ে একটি বড় অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি তৈরি করতে কাজ করে যাচ্ছি।’’

সম্পর্কিত