ভোলার গ্যাস এলএনজি করে আনতে গণশুনানি মঙ্গলবার

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
ভোলার গ্যাস এলএনজি করে আনতে গণশুনানি মঙ্গলবার
বর্তমানে ভোলায় আবিষ্কৃত তিনটি গ্যাস ফিল্ডে ৯টি কূপ খনন করা হয়েছে। ছবি: বাসস

ভোলার গ্যাস এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আকারে দেশের মূল ভূখণ্ডে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে পরিবহন খরচ নির্ধারণের লক্ষ্যে গণশুনানি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আজ মঙ্গলবার এই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ভোলা থেকে এলএনজি আকারে প্রতিদিন ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পেট্রোবাংলা এ ক্ষেত্রে গ্যাসের দাম ও পরিবহন খরচসহ প্রতি ঘনফুটের সমন্বিত মূল্য ৪৭ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাবের যৌক্তিকতা যাচাই করতেই মঙ্গলবার গণশুনানি ডেকেছে কমিশন।

এর আগে বিগত সরকারের আমলে ভোলা থেকে এলএনজি করে গ্যাস আনা লাভজনক নয় বলে বিবেচনা করা হয়েছিল। তখন একটি বেসরকারি কোম্পানিকে সীমিত পরিসরে (৫ মিলিয়ন ঘনফুট) সিএনজি আকারে গ্যাস আনার অনুমতি দেওয়া হয়। সেই সময় নির্বাহী আদেশে গ্যাসের দাম ১৭ টাকা এবং পরিবহন খরচ ৩০ টাকা ৫০ পয়সা মিলিয়ে মোট ৪৭ টাকা ৫০ পয়সা দাম চূড়ান্ত করা হয়েছিল। বর্তমানে পেট্রোবাংলা এলএনজি পরিবহনের ক্ষেত্রেও একই দাম বজায় রাখার প্রস্তাব করেছে।

বর্তমানে ভোলায় আবিষ্কৃত তিনটি গ্যাস ফিল্ডে ৯টি কূপ খনন করা হয়েছে, যেগুলোর দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ে চাহিদা কম থাকায় বর্তমানে মাত্র ৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। পেট্রোবাংলা আরও ১৫টি নতুন কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে। বাপেক্স মনে করছে এই কূপগুলো খনন সম্পন্ন হলে ভোলার গ্যাস উৎপাদন দৈনিক ৩০০ থেকে ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত করা সম্ভব হবে। এই বিশাল মজুতকে কাজে লাগিয়ে দেশের শিল্প খাতের বর্তমান সংকট মোকাবিলাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

সম্পর্কিত