জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান: বিপুল অস্ত্র উদ্ধার, আটক ২২

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান: বিপুল অস্ত্র উদ্ধার, আটক ২২
ছবি: বাসস

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর (ছিন্নমূল/আলীনগর) এলাকায় সন্ত্রাসীদের আস্তানা ও অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখানায় এক বিশাল অভিযান পরিচালনা করেছে যৌথবাহিনী। সোমবার ভোর সাড়ে পাঁচটা থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে জড়িত থাকার অভিযোগে ২২ জনকে আটক করা হয়।

বিভাগীয় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিচালিত এই অভিযানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি), র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), এপিবিএন এবং আরআরএফসহ বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৩ হাজার ১৮৩ জন সদস্য অংশ নেন। এছাড়া পুরো কার্যক্রম তদারকি করতে ৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেন।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত করতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। অভিযানে তিনটি হেলিকপ্টার, ১৫টি সাঁজোয়া যান (এপিসি), ১২টি ড্রোন এবং র‍্যাব ও সিএমপি’র তিনটি ডগ স্কোয়াড অংশ নেয়। বাহিনীর সদস্যরা একযোগে আলীনগর ও এর আশেপাশের পাহাড়গুলোতে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযান শেষে যৌথবাহিনী একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশীয় পিস্তল, একটি এলজি, ২৭টি পাইপগান এবং ৩০টি পিস্তলের ম্যাগাজিন উদ্ধার করে। এছাড়া ৫৭টি অস্ত্র তৈরির পাইপ, ৬১টি কার্তুজ, ১ হাজার ১১৩ রাউন্ড গুলি, ১১টি ককটেল এবং পাইপগান তৈরির লেদ মেশিনসহ বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। অপরাধীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মুভমেন্ট নজরদারি করার জন্য যেসব সিসি ক্যামেরা, ডিভিআর ও বাইনোকুলার ব্যবহার করত, সেগুলোও উদ্ধার করা হয়েছে।

অভিযান চলাকালে সন্ত্রাসীদের বেশ কিছু আস্তানা ও পাহাড়ের চূড়ায় স্থাপিত ওয়াচ টাওয়ারগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পুরো অভিযানটি চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি (অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. আহসান হাবীব পলাশ, বিপিএম-সেবা এর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। এ সময় র‍্যাব-৭ এর সিও লে. কর্ণেল মো. হাফিজুর রহমান এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযান শেষে এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে এবং সন্ত্রাসীদের পুনরায় সংগঠিত হওয়া ঠেকাতে জঙ্গল সলিমপুরে দুটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এবং আলী নগর উচ্চ বিদ্যালয় ক্যাম্পে মোট ৩৬০ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

যৌথবাহিনীর এই সাফল্যের ফলে স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। উদ্ধারকৃত আলামত ও আটক আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এলাকায় রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং সন্ত্রাস দমনে ভবিষ্যতেও এ ধরনের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সম্পর্কিত