ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর সঙ্গে সংযোগ আরও বাড়াতে শিলিগুঁড়ি করিডরে চার লেনের নতুন একটি মহাসড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে দেশটির সরকার। এ লক্ষ্যে ২ হাজার কোটি রুপি বরাদ্দ করেছে কেন্দ্র সরকার।
আজ শুক্রবার সকালে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
এই করিডরটি বাংলাদেশ সীমান্তের খুবই কাছে অবস্থিত। এছাড়া ভারতের সরু এ করিডরটির সঙ্গে নেপালের সীমান্তও আছে। এটি ভুটান ও চীন থেকেও খুব কাছে। তাই ভারতের নিরাপত্তার দিক থেকেও এই করিডর খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
শিলিগুঁড়ি করিডর চিকেনস নেক নামেও পরিচিত। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের একমাত্র স্থল যোগাযোগের পথ হলো এই চিকেনস নেক।
ভারতের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়কমন্ত্রী নিতিন গড়করি বৃহস্পতিবার জানান, নতুন সড়ক নির্মাণে ২ হাজার ৭৭ কোটি ১৮ লাখ রুপি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সড়কটি পশ্চিমবঙ্গের বাগডোগরা থেকে বিহারের গালগালিয়া পর্যন্ত যাবে। পথে পানিটাঙ্কি ও খড়িবাড়ি পড়বে।
নতুন মহাসড়কটি লম্বায় প্রায় ৩১ কিলোমিটার হবে। এটি বর্তমান মড়াসড়ক-২৭ এর পাশেই নির্মাণ করা হবে। নতুন সড়কটি জাতীয় মহাসড়ক-৩২৭ নামে পরিচিতি পাবে এবং জাতীয় মহাসড়ক-২৭ থেকে এটির দূরত্ব থাকবে ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার।
‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডরটি প্রায় ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ। সবচেয়ে সরু অংশে এর প্রস্থ মাত্র ২০ থেকে ২২ কিলোমিটার। ভারতের অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত নিরাপত্তার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া বলছে, ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শিলিগুড়ি করিডরকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে ভারত। এ জন্য সেখানে প্রতিরক্ষা স্থাপনা, অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা হচ্ছে।
দার্জিলিংয়ের সংসদ সদস্য রাজু বিস্তা প্রকল্পটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এটি উত্তরবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ করবে। পাশাপাশি নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের দিকেও যাতায়াতের সুবিধা বাড়বে। শিলিগুড়ি করিডরের কৌশলগত গুরুত্বের কারণে এই প্রকল্প শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে দেশের পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে প্রয়োজনীয় পণ্য, সেবা ও মানুষের চলাচল আরও সহজ হবে।