সিনিয়র-জুনিয়র কেন্দ্রিক বাকবিতণ্ডা ও বুলিংয়ের জেরে এক শিক্ষার্থীর হাত ভেঙে দেওয়ার ঘটনার বিচার চেয়ে বিক্ষোভ করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
রোববার দুপুরে ভারী বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অভিযুক্তদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানান।
শিক্ষার্থীদের দেওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৯ আগস্ট চবির সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অডিটরিয়ামে এক সেমিনারে অংশ নিতে যান ইতিহাস বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। সেখানে দর্শন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী নিজেদের ‘সিনিয়র’ দাবি করে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের হ্যারাসমেন্ট ও ধাক্কাধাক্কি করেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম সায়েম জানান, দর্শনের যেসব শিক্ষার্থী নিজেদের ২০২৪-২৫ সেশনের দাবি করছিলেন, পরবর্তীতে জানা যায় তারা ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের সমসাময়িক ব্যাচের। পরে এ নিয়ে কথা বলতে গেলে দর্শন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের কিছু শিক্ষার্থী লাঠিসোটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।
এই হামলায় ইতিহাস বিভাগের ২০২৪-২৫ সেশনের শিক্ষার্থী মাশরাফি মনোয়ার মাহির বাম হাত ভেঙে দুই টুকরো হয়ে যায়। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার হাত জোড়া দেওয়া হয়। মাহি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
ইতিহাস বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী সপ্তম গুহ অভিযোগ করেন, দর্শনের শিক্ষার্থীরা তাদের ‘জুনিয়র’ আখ্যা দিয়ে বুলিং ও মারধর করেছে। ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো সুরাহা না পাওয়ায় তারা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থানে বাধ্য হন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চবির সহকারী প্রক্টর কামরুল হোসেন জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রক্টরিয়াল বডি ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা হওয়ার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।