লায়নের বলে লং-অফের দিকে বল ঠেলেই দিলেন দৌড়। এক রান পূর্ণ হতেই লাফ দিয়ে শূন্যে দিলেন ঘুষি। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সেঞ্চুরি, তাও আবার ক্যারিযারের প্রথম! তানজিদ হাসানের উদযাপন বাঁধভাঙ্গা তো হবেই।
তানজিদকে টেস্ট দলে নেওয়ার সাহসী সিদ্ধান্তের জন্য বাহবা পেয়েছিলেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার। ইতিবাচক ব্যাটিংই এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের মূল শক্তির জায়গা এবং এই কারণেই তিনি ডাক পান দলে। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে অনন্য নিবেদন দেখিয়ে ব্যাট করছেন তানজিদ। সেই প্রক্রিয়ায় এই ফরম্যাটে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচেই করে ফেললেন শতক, আর গড়লেন ইতিহাসও।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে সব ফরম্যাট মিলিয়ে সেঞ্চুরি করা প্রথম ব্যাটসম্যান এখন তানজিদ। দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনে এই কীর্তি গড়েছেন তরুণ এই ওপেনার। টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তার আগে সর্বোচ্চ স্কোর ছিল সাবেক ওপেনার বাশারের। ২০০৩ সালে তিনি করেছিলেন ৭৬।
তানজিদের আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে বাংলাদেশের একমাত্র সেঞ্চুরি ছল শাহরিয়ার নাফীসের। ২০০৬ সালে দেশের মাটিতে তিনি করেছিলেন ১৩৮। তানজিদ এগিয়ে যাচ্ছেন সেই রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ রানের কীর্তি গড়তে।
তানজিদ নেমেছিলেন ৩২ রানে অপরাজিত থেকে। সাবধানী ব্যাটিংয়ে বলতে গেলে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের সুযোগই দেননি। দলটির তিন তারকা পেসার মিচেল স্টার্ক, জস হ্যাজেলউড এবং প্যাট কামিন্সের পাশাপাশি তারকা স্পিনার নাথান লায়নকেও সামলান দক্ষতার সঙ্গে।
এরই মধ্যে ধারাভাষ্যকারদের বিস্মিত করে বিউ ওয়েবস্টারকে ছক্কা মেরে বসেন। মিডিয়াম পেস ডেলিভারি অনেকটা এগিয়ে এসে কভারের ওপর দিয়ে পার করেন বাউন্ডারি সীমানা।
তবে নব্বইয়ের ঘরে গিয়ে কিছুটা নার্ভাস হয়ে গিয়েছিলেন। লায়নের টার্ন করে বেরিয়ে যাওয়া ডেলিভারি তাড়া করতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন প্রায়। তবে লং-অফে কেউ পাননি বলের নাগাল।
এর এক ওভারে বাদে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ক্যারিয়ারের মাত্র তৃতীয় টেস্টেই শতকের দেখা পান তানজিদ, যা তাকে জায়গা করে দেয় নতুন উচ্চতায়।