বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ শিক্ষকের পদোন্নতির দাবিতে বেঁধে দেওয়া পাঁচ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর ২০ ঘণ্টা ধরে অনশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন।
গতকাল সন্ধ্যা সাতটা থেকে উপাচার্যের (ভিসি) কার্যালয়ের সামনে এই আমরণ অনশন শুরু করেন, যা এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত চলমান রয়েছে।
এর আগে, গত ১১ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ শিক্ষকের পদোন্নতির জন্য শিক্ষকেরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বিশেষ করে উপাচার্যের গাফিলতিকে দায়ী করে। সমস্যা সমাধানের জন্য পাঁচ কর্মদিবসের সময় দেওয়া হয়। যা গতকাল রোববার শেষ হওয়ার পর থেকেই প্রথমে জামাল উদ্দীন নামের এই শিক্ষক অনশনে বসেন। পরবর্তীতে বাকি ১০-১৫ জন শিক্ষক তার সঙ্গে সঙ্গ দিতে জড়ো হতে থাকে।
অনশনরত শিক্ষক জামাল উদ্দিন বলেন, “বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই বছর ধরে শিক্ষকদের কোনো পদোন্নতি হচ্ছে না। অনেকেরই পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জনের ছয় মাস পার হয়ে গেছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আমি চাই, ৬০ জন শিক্ষকের পদোন্নতির কার্যক্রম দ্রুত সময়ে সমাধান করা হোক।”
অনশনের খবর পেয়ে উপাচার্য মোহাম্মদ তৌফিক আলম তার কার্যালয়ের সামনে যান এবং শিক্ষক জামাল উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলেন বলে জানা যায়।
পদোন্নতি প্রত্যাশী সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাদিকুর রহমান বলেন, “ছয় মাস ধরে আমাদের পদোন্নতি হচ্ছে না। এ নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে বহুবার বসেছি। কিন্তু কোনো সুরাহা না হওয়ায় উপাচার্যকে রোববার পর্যন্ত আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। তার পরও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।”
সাদিকুর রহমান আরও বলেন, “দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আমরা নতুন কর্মসূচি দিতে যাচ্ছি। এ জন্য দুপুরে আমরা শিক্ষকেরা বৈঠকে বসেছিলাম। সোমবার সকালে আবারও বৈঠক করে পরবর্তী আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, “ওই শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলছি এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।”
পদোন্নতিপ্রত্যাশী শিক্ষকদের মধ্যে আছেন ২৪ জন সহযোগী অধ্যাপক, ৩০ জন সহকারী অধ্যাপক এবং ৬ জন প্রভাষক। তাদের ভাষ্য, বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব পাওয়ার পর গত বছরের অক্টোবরের শেষ দিকে পদোন্নতি বোর্ড গঠন করেন। এরপর দুটি সিন্ডিকেট সভা হলেও উপাচার্য নিয়োগ বোর্ড অনুমোদনের প্রস্তাব সিন্ডিকেটে তোলেননি। সর্বশেষ গত ৩১ মার্চ সিন্ডিকেট সভা হয়।