Advertisement Banner

কেন মাজারের পীরকে হত্যা করা হচ্ছে: রিজভী

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
কেন মাজারের পীরকে হত্যা করা হচ্ছে: রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের নিজস্ব সংস্কৃতি, লোকজ ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক চর্চা অব্যাহত না থাকলে জাতি ইতিহাস, শেকড় ও পরিচয় হারিয়ে ফেলবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

আজ বৃহস্পতিবার বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, “আউল-বাউল আমাদের সংস্কৃতির অংশ। যদি উগ্রবাদ দিয়ে এটাকে আক্রমণ করা হয়, তাহলে আমাদের মূল সংস্কৃতির চর্চা ধ্বংস হবে। আজকে কেন মাজারের পীরকে হত্যা করা হচ্ছে, কেন বাউলদের ওপর আঘাত করা হচ্ছে—এই আঘাত আমাদের সংস্কৃতির মর্মমূলে আঘাত।”

বিএনপির এই নেতা বলেন, “আমরা যে গণতন্ত্রের জন্য ১৬-১৭ বছর লড়াই করেছি, সেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে নিজস্ব সংস্কৃতির চর্চা করতে হবে। শুদ্ধ ঈশ্বরপ্রেম, মানবিক প্রেম, আধ্যাত্মিকতার ভাবনা ও লোকজ সাহিত্যের ধারাবাহিক অনুশীলন না থাকলে আমরা আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ভুলে যাব।”

অতীতে হালখাতা ও বাংলা পঞ্জিকাভিত্তিক জীবনযাপন ছিল সাধারণ মানুষের সংস্কৃতির অংশ, তবে নতুন প্রজন্ম ধীরে ধীরে বাংলা সাল ও পঞ্জিকা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, “অনেক ছেলে-মেয়েই বলতে পারবে না বাংলা সাল কত। ইংরেজি স্কুলে বাংলা পঞ্জিকা শেখানো হয় কি না, সেটিও প্রশ্নের বিষয়। এভাবে ভুলতে ভুলতে আমরা অনেক দিক থেকে হারিয়ে যাব।”

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো নিজেদের মৌলিক বর্ণমালা হারিয়ে রোমান লিপির দিকে ঝুঁকেছে।

তিনি আরও বলেন, “এটা সংস্কৃতির বড় দুর্লক্ষণ। আমরা বহু প্রতিকূলতার পরও নিজেদের লিপি ধরে রাখতে পেরেছি। দেশের নিজস্ব সংস্কৃতিকে ধর্মবিরোধী হিসেবে দেখার প্রবণতা ঠিক নয়। ইসলামী ঐতিহ্য ও লোকজ ধারা মিলেই এ অঞ্চলের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। ইউসুফ-জুলেখা, লাইলি-মজনু, রামায়ণভিত্তিক কাহিনি, গম্ভীরা, কবিগান, জারি-সারি, যাত্রাপালা—সব মিলিয়ে এ দেশের অভিন্ন সংস্কৃতির ভিত্তি তৈরি হয়েছে।”

রিজভী বলেন, দেশের মূল সংস্কৃতির চর্চা ধরে রাখতে হবে এবং প্রয়োজনে এটিকে আরও সমৃদ্ধ করতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, এতে যেন কোনো ধরনের অশ্লীলতা প্রবেশ না করে।

সম্পর্কিত