অর্থনৈতিক সংকটের কারণে এলডিসি উত্তরণ পেছাতে চান বাণিজ্যমন্ত্রী

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
অর্থনৈতিক সংকটের কারণে এলডিসি উত্তরণ পেছাতে চান বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ছবি: ফেসবুক

জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা বা এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। নবগঠিত সরকারের নেওয়া এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সুবিধাগুলোর ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা।

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মন্ত্রী জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সাথে সমন্বয় করে এই আনুষ্ঠানিক আবেদনপত্র তৈরির কাজ করছে, যা দেশের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। তিনি উল্লেখ করেন যে, নতুন সরকারের শুরুর দিনগুলোতে আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দেওয়ার কোনো তাৎক্ষণিক বাধ্যবাধকতা না থাকলেও এ-সংক্রান্ত প্রস্তুতিমূলক কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

মন্ত্রী দেশের সাম্প্রতিক মন্থর রপ্তানি পরিস্থিতির বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের রপ্তানি মূলত একটি নির্দিষ্ট খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল এবং মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশই আসে একটি পণ্য থেকে। অর্থনৈতিক ঝুঁকি কমাতে এবং স্থিতিশীলতা বাড়াতে রপ্তানি পণ্য ও বাজারে বৈচিত্র্য আনা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মত দেন।

এ ছাড়া মার্কিন শুল্কনীতির আকস্মিক পরিবর্তনসহ বিশ্ব বাণিজ্যের অনিশ্চয়তাকে বর্তমান মন্দার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন মন্ত্রী। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, উদ্যোক্তাদের প্রতি সরকারের সক্রিয় সহায়তায় এই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

বিনিয়োগের পরিবেশ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে তিনি জানান, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য স্থিতিশীলতা অপরিহার্য। প্রতি বছর শ্রমবাজারে আনুমানিক ২০ থেকে ২২ লাখ নতুন মুখ যুক্ত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, গত কয়েক বছরের স্থবির বিনিয়োগ পরিস্থিতি কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

উল্লেখ্য, মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা–জাতিসংঘের এই তিন সূচকেই টানা দুবার উত্তীর্ণ হওয়ায় ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশের এলডিসি থেকে বের হওয়ার কথা রয়েছে। এই উত্তরণকে উন্নয়নের একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হলেও বাণিজ্যিক সুবিধা ও অন্যান্য সহায়তা হারানোর শঙ্কায় ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যা পুনরায় উত্তরণের সময়সীমা পেছানোর দাবিকে জোরালো করেছে।

সম্পর্কিত