ads

চট্টগ্রামকে লজিস্টিক হাব বানানোর পরিকল্পনা অর্থমন্ত্রীর

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রামকে লজিস্টিক হাব বানানোর পরিকল্পনা অর্থমন্ত্রীর
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: বাসস

চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে মাথায় রেখেই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম একটি পূর্ণাঙ্গ লজিস্টিক হাবে পরিণত হবে।

আজ শনিবার সকালে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব সম্ভাবনাকে মাথায় রেখে এবং সেই সম্ভাবনাগুলোকে আমরা কীভাবে সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে পারি, তা বিবেচনা করেই বাজেট করা হয়েছে। বন্দরনগরী হওয়ায় চট্টগ্রামের সম্ভাবনা স্বভাবতই অনেক বেশি।”

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “শুধু সমুদ্রবন্দর নয়, চট্টগ্রামের ভৌগোলিক ও স্ট্র্যাটেজিক (কৌশলগত) অবস্থানসহ সবকিছু মিলিয়েই এখানকার সম্ভাবনাকে আমরা পরিকল্পনায় যুক্ত করেছি। কর্ণফুলী নদীর ওপারে ৬০০ একর জমি নিয়ে একটি ফ্রি ট্রেড জোন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রামে বেশ কয়েকটি পোর্ট (বন্দর) আমরা একসাথে চালু করতে যাচ্ছি। চট্টগ্রামকে লজিস্টিক হাব করার যে কথা আমরা আগে বলেছিলাম, বাজেটে এবার সেটারই প্রতিফলন ঘটছে।”

চট্টগ্রাম বিমানবন্দর নিয়েও সরকারের বড় পরিকল্পনা রয়েছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, “শাহ আমানত বিমানবন্দরকে কার্গো ও প্যাসেঞ্জার হাব করার পরিকল্পনা আছে। এখানে চাইনিজ ইকোনমিক জোনও হতে যাচ্ছে। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে ভ্রমণের সময় আরও দুই ঘণ্টা কমিয়ে আনতে লাকসাম কর্ডলাইনের বিষয়টিও বাজেটে রাখা হয়েছে।”

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “চট্টগ্রামের সাথে দেশের যে কানেক্টিভিটি বা করিডোর তৈরি হচ্ছে, তা সম্পন্ন হলে এটি একটি মূল লজিস্টিক হাবে রূপ নেবে। এতে বন্দরগুলোর কর্মক্ষমতা অনেক বাড়বে। ওদিকে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরেও বড় ধরনের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে ঘিরে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন হতে কয়েক বছর সময় লাগবে, তবে আমরা যত দ্রুত সম্ভব কাজগুলো শুরু করার চেষ্টা করছি।”

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বাজেট প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, “বিগত সরকারগুলোর কাছ থেকে আমরা যে ভঙ্গুর অর্থনীতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি, তার ওপর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমন একটি কঠিন সময়ে আমাদের এত বড় বাজেট দিতে হয়েছে। অর্থনীতি এখন খুবই খারাপ অবস্থায় আছে। আমাদের প্রথম লক্ষ্য এই সংকট থেকে বেরিয়ে এসে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা। এরপর আমরা অগ্রগতির দিকে যাব। আশা করছি, তৃতীয় বা চতুর্থ বছর থেকে অর্থনীতির সমৃদ্ধি শুরু হবে এবং দেশের অর্থনীতি পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াবে।”

বিমানবন্দরে অর্থমন্ত্রীর সাথে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন এবং বিএনপি নেতা আবুল হাশেম বক্করসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

সম্পর্কিত