চরচা ডেস্ক

স্কুল, কলেজে স্কাউটের নাম কে শোনেনি। আমাদের দেশে স্কুল, কলেজ, এমনকি ইউনিভার্সিটি পড়ুয়ারাও অনেকে স্কাউটে যোগ দেয়। এটা এক ধরনের এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিস হিসেবেই আমাদের দেশের শিক্ষাঙ্গনে পরিচিত। কিন্তু কীভাবে সারা দুনিয়ায় শুরু হয়েছিল এই স্কাউট?
১৯০৮ সালের ২৪ জানুয়ারি, রবার্ট ব্যাডেন-পাওয়েলের কালজয়ী হ্যান্ডবুক 'স্কাউটিং ফর বয়েজ' এর প্রথম খণ্ড প্রকাশের মধ্য দিয়ে ইংল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে বয় স্কাউট আন্দোলন। ব্যাডেন-পাওয়েল নামটির সাথে ব্রিটিশ কিশোররা আগে থেকেই পরিচিত ছিল, ফলে বইটি প্রকাশের সাথে সাথেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এপ্রিলের মধ্যে বইটির ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ শেষ হতে না হতেই ব্রিটেনজুড়ে গড়ে ওঠে অসংখ্য বয় স্কাউট দল।
১৯০০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার যুদ্ধে ২১৭ দিনব্যাপী মাফেকিং প্রতিরক্ষার মাধ্যমে ব্যাডেন-পাওয়েল ব্রিটিশদের কাছে জাতীয় বীর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। ১৮৯৯ সালে তিনি ব্রিটিশ সৈন্যদের জন্য এইডস টু স্কাউটিং নামে একটি সামরিক নির্দেশিকা লিখেছিলেন, যা অভাবনীয়ভাবে কিশোরদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ট্র্যাকিং ও বিচিত্র সব খেলার নেশায় কিশোররা বইটি লুফে নেয়। এটি দেখে ব্যাডেন-পাওয়েল সিদ্ধান্ত নেন যে, তিনি কিশোরদের জন্য একটি অসামরিক নির্দেশিকা তৈরি করবেন, যেখানে নৈতিকতা এবং পরোপকারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
পুরোদমে কাজ শুরুর আগে নিজের ভাবনাগুলোকে যাচাই করতে চেয়েছিলেন ব্যাডেন-পাওয়েল। ১৯০৭ সালের ২৫ জুলাই, ২১ জন কিশোরের একটি দলকে নিয়ে তিনি ডরসেটশায়ারের ব্রাউনসি দ্বীপে দুই সপ্তাহের জন্য ক্যাম্পিং করেন। সেখানে তিনি তাদের ক্যাম্পিং, পর্যবেক্ষণ, নৌচালনা, জীবনরক্ষা, দেশপ্রেম এবং শিষ্টাচারের শিক্ষা দেন। মজার সব খেলার মাধ্যমে শেখার এই কৌশলটি দারুণ সফল হয়।
'স্কাউটিং ফর বয়েজের সাফল্যের পর ব্যাডেন-পাওয়েল একটি কেন্দ্রীয় অফিস স্থাপন করেন এবং স্কাউটদের জন্য নির্দিষ্ট ইউনিফর্মের নকশা তৈরি করেন। ১৯০৮ সালের শেষ দিকে স্কাউট সদস্য সংখ্যা ৬০ হাজারে পৌঁছায় এবং ব্রিটিশ কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোতেও এর শাখা ছড়িয়ে পড়ে। ১৯০৯ সালে লন্ডনের ক্রিস্টাল প্যালেসে প্রথম জাতীয় স্কাউট সমাবেশে ১০ হাজার স্কাউটের সাথে একদল কিশোরীও ইউনিফর্ম পরে হাজির হয়, যারা নিজেদের গার্ল স্কাউট হিসেবে পরিচয় দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯১০ সালে ব্যাডেন-পাওয়েল মেয়েদের জন্য পৃথক সংস্থা হিসেবে 'গার্ল গাইডস' গঠন করেন।
যুক্তরাষ্ট্রে স্কাউটিং আন্দোলনের শুরুটা ছিল বেশ নাটকীয়। প্রচলিত আছে, ১৯০৯ সালে লন্ডনের কুয়াশায় পথ হারিয়ে ফেলেন শিকাগোর প্রকাশক উইলিয়াম বয়েস। সে সময় একজন বয় স্কাউট তাঁকে পথ দেখিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়। বয়েস তাকে বকশিশ দিতে চাইলে কিশোরটি তা প্রত্যাখ্যান করে জানায় যে, একজন স্কাউট হিসেবে পরোপকারের জন্য সে কোনো অর্থ গ্রহণ করতে পারে না। এই সাধারণ কিন্তু মহৎ আচরণ বয়েসকে এতটাই অনুপ্রাণিত করে যে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় স্কাউটিং সংস্থা গঠনের উদ্যোগ নেন। ১৯১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বয় স্কাউটস অফ আমেরিকা আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়। এর কিছুদিন পরেই ১৯১২ সালে জুলিয়েট গর্ডন লো জর্জিয়ায় 'গার্ল স্কাউটস অফ আমেরিকা' প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে শিক্ষা ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে স্কাউট আন্দোলন এক শক্তিশালী বৈশ্বিক সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে। এমনকি আমাদের দেশেও যে কোনো সামাজিক স্বেচ্ছাশ্রমে প্রথমেই স্কাউট সদস্যদের এগিয়ে আসতে দেখা যায়।

স্কুল, কলেজে স্কাউটের নাম কে শোনেনি। আমাদের দেশে স্কুল, কলেজ, এমনকি ইউনিভার্সিটি পড়ুয়ারাও অনেকে স্কাউটে যোগ দেয়। এটা এক ধরনের এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিস হিসেবেই আমাদের দেশের শিক্ষাঙ্গনে পরিচিত। কিন্তু কীভাবে সারা দুনিয়ায় শুরু হয়েছিল এই স্কাউট?
১৯০৮ সালের ২৪ জানুয়ারি, রবার্ট ব্যাডেন-পাওয়েলের কালজয়ী হ্যান্ডবুক 'স্কাউটিং ফর বয়েজ' এর প্রথম খণ্ড প্রকাশের মধ্য দিয়ে ইংল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে বয় স্কাউট আন্দোলন। ব্যাডেন-পাওয়েল নামটির সাথে ব্রিটিশ কিশোররা আগে থেকেই পরিচিত ছিল, ফলে বইটি প্রকাশের সাথে সাথেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এপ্রিলের মধ্যে বইটির ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ শেষ হতে না হতেই ব্রিটেনজুড়ে গড়ে ওঠে অসংখ্য বয় স্কাউট দল।
১৯০০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার যুদ্ধে ২১৭ দিনব্যাপী মাফেকিং প্রতিরক্ষার মাধ্যমে ব্যাডেন-পাওয়েল ব্রিটিশদের কাছে জাতীয় বীর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। ১৮৯৯ সালে তিনি ব্রিটিশ সৈন্যদের জন্য এইডস টু স্কাউটিং নামে একটি সামরিক নির্দেশিকা লিখেছিলেন, যা অভাবনীয়ভাবে কিশোরদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ট্র্যাকিং ও বিচিত্র সব খেলার নেশায় কিশোররা বইটি লুফে নেয়। এটি দেখে ব্যাডেন-পাওয়েল সিদ্ধান্ত নেন যে, তিনি কিশোরদের জন্য একটি অসামরিক নির্দেশিকা তৈরি করবেন, যেখানে নৈতিকতা এবং পরোপকারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
পুরোদমে কাজ শুরুর আগে নিজের ভাবনাগুলোকে যাচাই করতে চেয়েছিলেন ব্যাডেন-পাওয়েল। ১৯০৭ সালের ২৫ জুলাই, ২১ জন কিশোরের একটি দলকে নিয়ে তিনি ডরসেটশায়ারের ব্রাউনসি দ্বীপে দুই সপ্তাহের জন্য ক্যাম্পিং করেন। সেখানে তিনি তাদের ক্যাম্পিং, পর্যবেক্ষণ, নৌচালনা, জীবনরক্ষা, দেশপ্রেম এবং শিষ্টাচারের শিক্ষা দেন। মজার সব খেলার মাধ্যমে শেখার এই কৌশলটি দারুণ সফল হয়।
'স্কাউটিং ফর বয়েজের সাফল্যের পর ব্যাডেন-পাওয়েল একটি কেন্দ্রীয় অফিস স্থাপন করেন এবং স্কাউটদের জন্য নির্দিষ্ট ইউনিফর্মের নকশা তৈরি করেন। ১৯০৮ সালের শেষ দিকে স্কাউট সদস্য সংখ্যা ৬০ হাজারে পৌঁছায় এবং ব্রিটিশ কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোতেও এর শাখা ছড়িয়ে পড়ে। ১৯০৯ সালে লন্ডনের ক্রিস্টাল প্যালেসে প্রথম জাতীয় স্কাউট সমাবেশে ১০ হাজার স্কাউটের সাথে একদল কিশোরীও ইউনিফর্ম পরে হাজির হয়, যারা নিজেদের গার্ল স্কাউট হিসেবে পরিচয় দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯১০ সালে ব্যাডেন-পাওয়েল মেয়েদের জন্য পৃথক সংস্থা হিসেবে 'গার্ল গাইডস' গঠন করেন।
যুক্তরাষ্ট্রে স্কাউটিং আন্দোলনের শুরুটা ছিল বেশ নাটকীয়। প্রচলিত আছে, ১৯০৯ সালে লন্ডনের কুয়াশায় পথ হারিয়ে ফেলেন শিকাগোর প্রকাশক উইলিয়াম বয়েস। সে সময় একজন বয় স্কাউট তাঁকে পথ দেখিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়। বয়েস তাকে বকশিশ দিতে চাইলে কিশোরটি তা প্রত্যাখ্যান করে জানায় যে, একজন স্কাউট হিসেবে পরোপকারের জন্য সে কোনো অর্থ গ্রহণ করতে পারে না। এই সাধারণ কিন্তু মহৎ আচরণ বয়েসকে এতটাই অনুপ্রাণিত করে যে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় স্কাউটিং সংস্থা গঠনের উদ্যোগ নেন। ১৯১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বয় স্কাউটস অফ আমেরিকা আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়। এর কিছুদিন পরেই ১৯১২ সালে জুলিয়েট গর্ডন লো জর্জিয়ায় 'গার্ল স্কাউটস অফ আমেরিকা' প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে শিক্ষা ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে স্কাউট আন্দোলন এক শক্তিশালী বৈশ্বিক সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে। এমনকি আমাদের দেশেও যে কোনো সামাজিক স্বেচ্ছাশ্রমে প্রথমেই স্কাউট সদস্যদের এগিয়ে আসতে দেখা যায়।