চরচা প্রতিবেদক

ফুটবলের দর্শক গ্যালারিতে হাজার হাজার মানুষের মধ্যে একজন ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছেন । তিনি নড়ছেন না, আনন্দ–উল্লাসও করছেন না। হাত উঁচু করে দাঁড়িয়ে তিনি, পায়ের তলায় বেদির মতো কিছু একটা। তিনি যেন এক জীবন্ত ভাষ্কর্য।
রাজনৈতিক নেতাদের জনগণকে ভরসা দেওয়ার ভঙ্গির মতোই তার অভিব্যক্তি। সামনে বাড়িয়ে দেওয়া হাতটা নিশ্চল। দাঁড়িয়ে একেবারে পাথরের মূর্তির মতো করে।
তিনি স্যুট পরে মাঠে আসেন। সেই স্যুটও রঙ–বেরঙের। বিচিত্র সব রঙ। দূর থেকে আলাদা করে চোখে পড়ে। চোখে পুরোনো যুগের একটা চশমা। বুক পকেটে স্যুটের রঙের একটা রুমাল। অদ্ভুত সেই দৃশ্যপট।
ফুটবল ম্যাচে স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে এই লোক কঙ্গো জাতীয় ফুটবল দলের ‘সুপারফ্যান’। তবে সুপারফ্যান তকমার সঙ্গে যা যা যায়, তার কিছুই করেন না তিনি। চিৎকার–চ্যাঁচামেচি করেন না। সমর্থক হয়েও দলের পক্ষে স্লোগান তোলেন না। ড্রাম বা ঢোলের আওয়াজও তোলেন না। গত আফ্রিকান কাপ অব নেশনসে সবার চোখে পড়েন এই সুপারফ্যান। নিমিষেই হয়ে যান ভাইরাল। এবারের বিশ্বকাপে কঙ্গো দল তাঁকে বানিয়েছে বিশ্বকাপ দলের অফিশিয়াল সদস্য। তিনি মেক্সিকোয় দলের সঙ্গে এসেছিলেনও। কিন্তু ইবোলার মহামারি ছড়িয়ে পড়া দেশ থেকে আসায় নিয়ম অনুযায়ী কোয়ারিন্টিন করতে হয়েছে তাকে। সে কারণে পর্তুগালের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তিনি গ্যালারিতে থাকতে পারেননি। কলম্বিয়ার বিপক্ষে কঙ্গোর পরের ম্যাচেই তিনি থাকবেন গ্যালারিতে।
এই সুপারফ্যানের নাম মিশেল কুকা এমবোলাডিঙ্গা। কঙ্গোবাসী তাকে ডিাকে ‘লুমুম্বা ভিয়া’ বা লুমুম্বার নাতি হিসেবে। কঙ্গোর স্বাধীনতার নায়ক ও প্রথম প্রধানমন্ত্রী প্যাট্রিস লুমুম্বার ভক্ত তিনি। যদিও লুমুম্বার সঙ্গে তার কোনো দূরতম সম্পর্কই নেই। এমবোলাডিঙ্গা নিতান্তই দেশনায়ক প্যাট্রিস লুমুম্বার কড়া ভক্ত।
এমবোলাডিঙ্গা লুমুম্বার সেই মূর্তির অবিকল প্রতিরূপ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন ফুটবল ম্যাচে দর্শক গ্যালারিতে। নীরব অভিব্যক্তিতে তিনি স্মরণ করেন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া কঙ্গোর এই দেশনেতা। কঙ্গোর ইতিহাসের এক মর্মন্তুদ অধ্যায়কে।
কঙ্গো এক সময় বেলজিয়ামের ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে ছিল। লুমুম্বা সেই ঔপনিবেশিকতার বিরোধিতা করেছিলেন। খনিজে সমৃদ্ধ কঙ্গো সব সময়ই ছিল সাম্রাজ্যবাদী শাসকদের চোখে লোভনীয় লক্ষ্যবস্তু। বেলজিয়ান শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে কঙ্গোর স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন লুমুম্বা। দেশ স্বাধীন হলে তিনি হয়েছিলেন কঙ্গোর প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু ১৯৬০ সালের সেপ্টেম্বরে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে লুমুম্বাকে পদচ্যুত করার পরের বছর ১৭ জানুয়ারি তাঁকে বন্দী অবস্থায় হত্যা করা হয়। তাঁর নিজের দেশেরই মানুষ তাঁকে মেরে ফেলেছিল। আবার সেই একই দেশের আরেকজন মানুষ ফুটবলের গ্যালারিতে ওভাবে পাথরমুখে দাঁড়িয়ে বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন, স্বাধীনতার নায়কের নেই করুণ পরিণতিকে।

ক্রিকেট বা ফুটবল—সব খেলাতেই বৈচিত্র্যময় সমর্থকদের পাগলামি নতুন কিছু নয়। তবে মিশেল এমবোলাডিঙ্গা সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন। সেনেগালের বিরুদ্ধে ম্যাচে যখন তিনি প্রথম এভাবে দাঁড়িয়েছিলেন, শুরুতে অনেকে বুঝতে না পেরে হাসাহাসি করেছিলেন। কিন্তু যখনই তাঁর এই অদ্ভুত আচরণের পেছনের গভীর ইতিহাস ও শ্রদ্ধাবোধের কথা ছড়িয়ে পড়ে, রাতারাতি পরিস্থিতি বদলে যায়। এখন প্রত্যেকে তাঁর সঙ্গে সেলফি তুলতে চান। ম্যাচ শেষে সমর্থকরা তাঁকে বিশেষ নিরাপত্তা দিয়ে, ভালোবেসে আগলে রেখে স্টেডিয়াম থেকে বের করে নিয়ে যান।
কঙ্গোর ফুটবলীয় লড়াইয়ের সমান্তরালে গ্যালারিতে মিশেল এমবোলাডিঙ্গার এই জীবন্ত ভাস্কর্য হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কেবলই ফুটবলপ্রেম নয়; এটি ফুটবল, শিল্প আর ইতিহাসের এক অনন্য কোলাজ—কলম্বিয়ার বিপক্ষে কঙ্গোর ম্যাচে বিশ্বকাপেও নতুন এক দৃশ্যপট তৈরি করবেন এমবোলাডিঙ্গা।

ফুটবলের দর্শক গ্যালারিতে হাজার হাজার মানুষের মধ্যে একজন ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছেন । তিনি নড়ছেন না, আনন্দ–উল্লাসও করছেন না। হাত উঁচু করে দাঁড়িয়ে তিনি, পায়ের তলায় বেদির মতো কিছু একটা। তিনি যেন এক জীবন্ত ভাষ্কর্য।
রাজনৈতিক নেতাদের জনগণকে ভরসা দেওয়ার ভঙ্গির মতোই তার অভিব্যক্তি। সামনে বাড়িয়ে দেওয়া হাতটা নিশ্চল। দাঁড়িয়ে একেবারে পাথরের মূর্তির মতো করে।
তিনি স্যুট পরে মাঠে আসেন। সেই স্যুটও রঙ–বেরঙের। বিচিত্র সব রঙ। দূর থেকে আলাদা করে চোখে পড়ে। চোখে পুরোনো যুগের একটা চশমা। বুক পকেটে স্যুটের রঙের একটা রুমাল। অদ্ভুত সেই দৃশ্যপট।
ফুটবল ম্যাচে স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে এই লোক কঙ্গো জাতীয় ফুটবল দলের ‘সুপারফ্যান’। তবে সুপারফ্যান তকমার সঙ্গে যা যা যায়, তার কিছুই করেন না তিনি। চিৎকার–চ্যাঁচামেচি করেন না। সমর্থক হয়েও দলের পক্ষে স্লোগান তোলেন না। ড্রাম বা ঢোলের আওয়াজও তোলেন না। গত আফ্রিকান কাপ অব নেশনসে সবার চোখে পড়েন এই সুপারফ্যান। নিমিষেই হয়ে যান ভাইরাল। এবারের বিশ্বকাপে কঙ্গো দল তাঁকে বানিয়েছে বিশ্বকাপ দলের অফিশিয়াল সদস্য। তিনি মেক্সিকোয় দলের সঙ্গে এসেছিলেনও। কিন্তু ইবোলার মহামারি ছড়িয়ে পড়া দেশ থেকে আসায় নিয়ম অনুযায়ী কোয়ারিন্টিন করতে হয়েছে তাকে। সে কারণে পর্তুগালের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তিনি গ্যালারিতে থাকতে পারেননি। কলম্বিয়ার বিপক্ষে কঙ্গোর পরের ম্যাচেই তিনি থাকবেন গ্যালারিতে।
এই সুপারফ্যানের নাম মিশেল কুকা এমবোলাডিঙ্গা। কঙ্গোবাসী তাকে ডিাকে ‘লুমুম্বা ভিয়া’ বা লুমুম্বার নাতি হিসেবে। কঙ্গোর স্বাধীনতার নায়ক ও প্রথম প্রধানমন্ত্রী প্যাট্রিস লুমুম্বার ভক্ত তিনি। যদিও লুমুম্বার সঙ্গে তার কোনো দূরতম সম্পর্কই নেই। এমবোলাডিঙ্গা নিতান্তই দেশনায়ক প্যাট্রিস লুমুম্বার কড়া ভক্ত।
এমবোলাডিঙ্গা লুমুম্বার সেই মূর্তির অবিকল প্রতিরূপ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন ফুটবল ম্যাচে দর্শক গ্যালারিতে। নীরব অভিব্যক্তিতে তিনি স্মরণ করেন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া কঙ্গোর এই দেশনেতা। কঙ্গোর ইতিহাসের এক মর্মন্তুদ অধ্যায়কে।
কঙ্গো এক সময় বেলজিয়ামের ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে ছিল। লুমুম্বা সেই ঔপনিবেশিকতার বিরোধিতা করেছিলেন। খনিজে সমৃদ্ধ কঙ্গো সব সময়ই ছিল সাম্রাজ্যবাদী শাসকদের চোখে লোভনীয় লক্ষ্যবস্তু। বেলজিয়ান শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে কঙ্গোর স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন লুমুম্বা। দেশ স্বাধীন হলে তিনি হয়েছিলেন কঙ্গোর প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু ১৯৬০ সালের সেপ্টেম্বরে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে লুমুম্বাকে পদচ্যুত করার পরের বছর ১৭ জানুয়ারি তাঁকে বন্দী অবস্থায় হত্যা করা হয়। তাঁর নিজের দেশেরই মানুষ তাঁকে মেরে ফেলেছিল। আবার সেই একই দেশের আরেকজন মানুষ ফুটবলের গ্যালারিতে ওভাবে পাথরমুখে দাঁড়িয়ে বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন, স্বাধীনতার নায়কের নেই করুণ পরিণতিকে।

ক্রিকেট বা ফুটবল—সব খেলাতেই বৈচিত্র্যময় সমর্থকদের পাগলামি নতুন কিছু নয়। তবে মিশেল এমবোলাডিঙ্গা সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন। সেনেগালের বিরুদ্ধে ম্যাচে যখন তিনি প্রথম এভাবে দাঁড়িয়েছিলেন, শুরুতে অনেকে বুঝতে না পেরে হাসাহাসি করেছিলেন। কিন্তু যখনই তাঁর এই অদ্ভুত আচরণের পেছনের গভীর ইতিহাস ও শ্রদ্ধাবোধের কথা ছড়িয়ে পড়ে, রাতারাতি পরিস্থিতি বদলে যায়। এখন প্রত্যেকে তাঁর সঙ্গে সেলফি তুলতে চান। ম্যাচ শেষে সমর্থকরা তাঁকে বিশেষ নিরাপত্তা দিয়ে, ভালোবেসে আগলে রেখে স্টেডিয়াম থেকে বের করে নিয়ে যান।
কঙ্গোর ফুটবলীয় লড়াইয়ের সমান্তরালে গ্যালারিতে মিশেল এমবোলাডিঙ্গার এই জীবন্ত ভাস্কর্য হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কেবলই ফুটবলপ্রেম নয়; এটি ফুটবল, শিল্প আর ইতিহাসের এক অনন্য কোলাজ—কলম্বিয়ার বিপক্ষে কঙ্গোর ম্যাচে বিশ্বকাপেও নতুন এক দৃশ্যপট তৈরি করবেন এমবোলাডিঙ্গা।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতাদের অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, “যেহেতু আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো সম্পূর্ণ নির্দলীয় বা দলীয় প্রতীক ছাড়া হবে, তাই সেখানে আইনি কোনো বাধা নেই।