নারী ও সংখ্যালঘুর নিরাপত্তায় সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির ১০ দফা সুপারিশ

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
নারী ও সংখ্যালঘুর নিরাপত্তায় সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির ১০ দফা সুপারিশ
সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির সদস্যবৃন্দ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে ১০ দফা সুপারিশ পেশ করেছে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই সুপারিশগুলো তুলে ধরা হয়।

৭১টি নারী, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত এই প্ল্যাটফর্মটি নির্বাচন কমিশনের কাছে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে তাদের উদ্বেগ ও দাবিগুলো তুলে ধরে।

সংবাদ সম্মেলনে অ্যাকশন এইডের উইমেন রাইটস অ্যান্ড জেন্ডার ইক্যুইটির লিড মরিয়ম নেছা ১০ দফা সুপারিশ জানান। সুপারিশগুলো হল-

  • দেশের সকল প্রান্তের সকল নাগরিক যাতে নির্বিঘ্নে, স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচন পূর্ববর্তী, নির্বাচনকালীন এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়ে নারীসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং সুবিধাবঞ্চিত প্রান্তিক নারী-পুরুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
  • সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব ধরনের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নারীদের প্রতি হয়রানি, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও সহিংস আচরণ প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রয়োগ ও মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
  • নির্বাচনী ব্যায় সংকোচ করে ন্যুনতম নির্বাচনী ব্যয় নির্ধারণ করতে হবে এবং এ বিষয়ে কঠোরভাবে মনিটরিং করতে হবে।
  • স্বতন্ত্র নারী প্রর্থীসহ নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
  • নারী, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী, আদিবাসী জনগোষ্ঠী যাতে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সে দিকে দৃষ্টি রেখে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুবিধা জনক স্থানে ভোট কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে।
  • জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার জন্য নিরপেক্ষভাবে সকল ধরনের সহায়তা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জবাবদিহীতা নিশ্চিত করতে হবে।
  • নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মের ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে।
  • সকল জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
  • যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
  • নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মীয় সখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষদের হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনের মডারেটর এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের কম সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ফওজিয়া মোসলেম বলেন, “গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টার মধ্যেও দেখা যাচ্ছে এই নির্বাচনে মাত্র ৪ দশমিক ৮ শতাংশ নারীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। রাজনৈতিক দলগুলো ৫ শতাংশ মনোনয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তা রক্ষা করেনি।”

ফওজিয়া মোসলেম আরও বলেন, “নির্বাচন ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পেশি শক্তি ও অর্থের প্রভাবের কারণেই নারীরা পিছিয়ে পড়ছে “ তবে প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাবটি নির্বাচন কমিশন আমলে নেওয়ায় তিনি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ব্র্যাকের প্রতিনিধি শাশ্বতী বিপ্লব বলেন, “ধর্ম মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাসের জায়গা। ধর্মের সাথে রাজনীতি মিশিয়ে ফেললে ধর্ম কলুষিত হয় এবং রাজনীতিতে বিভাজন তৈরি হয়। কোনো নির্দিষ্ট দলের স্বার্থে নয়, বরং সামগ্রিক নারী আন্দোলনের কল্যাণে এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।”

সম্পর্কিত