Advertisement Banner

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশিদের আত্মত্যাগ উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে: প্রধানমন্ত্রী

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশিদের আত্মত্যাগ উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের আত্মদান কেবল বাংলাদেশের জন্যই নয়, বরং সারা বিশ্বের যুদ্ধবিরোধী শান্তিকামী মানুষের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, এই আত্মত্যাগ প্রমাণ করে যে, কেবল মাতৃভূমির স্বাধীনতাই নয়, জাতিসংঘের পতাকাতলে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে যেকোনো মূল্যে শান্তি রক্ষায় আমাদের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ বদ্ধপরিকর।

আজ বুধবার ঢাকা সেনানিবাসে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীসহ বিদেশি কূটনীতিক এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে ১৯৮৮ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বশান্তি রক্ষায় জীবন উৎসর্গকারী বাংলাদেশের ১৭৫ জন বীর শান্তিরক্ষীর অবদানকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, “পরিবার-পরিজন থেকে দূরে, শত প্রতিকূলতা ও কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে আপনারা নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্বমঞ্চে আপনাদের এই গৌরবের ইতিহাস একদিনে রচিত হয়নি।”

প্রধানমন্ত্রী জানান, এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের ২ লাখেরও বেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের ৪৩টি দেশের প্রায় ৬৩টি মিশনে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানেও প্রায় ৫ হাজার ৮৬০ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী ১০টি মিশনে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন এবং হাইতিতে নতুন একটি মিশনে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। মিশনে নারী সদস্যদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, “শান্তিরক্ষা বাহিনীতে প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্য সাহসের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন, যা বৈশ্বিক শান্তি রক্ষায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।”

সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। সেনাবাহিনীর একজন মেজরই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, যা সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অনন্ত প্রেরণার উৎস। এই গৌরব যেন কোনোভাবেই ম্লান না হয়, তা রক্ষা করা সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান কর্তব্য।”

বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ে অপতৎপরতা এবং ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে (বিডিআর বিদ্রোহ) বাহিনীর ওপর আসা সর্বগ্রাসী আঘাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি ইউনিফর্মধারী বাহিনীর উদ্দেশে বলেন, ‘‘প্রফেশনালিজম, ইউনিটি, ডিসিপ্লিন এবং চেইন অফ কমান্ড ছাড়া সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে টিকে থাকা কঠিন।’’ তিনি অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ফ্যাসিবাদের কবল থেকে মুক্ত বাংলাদেশে প্রতিটি রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত করার আহ্বান জানান।

পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং প্রযুক্তির দ্রুত বিবর্তনের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “বর্তমান বিশ্ব এক জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রথাগত যুদ্ধের পাশাপাশি এখন সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) অপব্যবহার, মিডিয়া অপপ্রচার এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নিরাপত্তা সংকট বিশ্বশান্তির নতুন অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।” এই বহুমুখী ঝুঁকি মোকাবেলায় ভবিষ্যৎ মিশনগুলোকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে সরকার সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে (মডার্নাইজেশন) পর্যায়ক্রমিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে তিনি জানান।

সম্পর্কিত