বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা ও ন্যাশনাল পিপলস অ্যাকশন (এনপিএ)-এর কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য মেঘমল্লার বসুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ৩০ মিনিটে তাকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত এবং হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মোঃ হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে এই ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বন্ধুদের সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতের দিকে মেঘমল্লার বসু তার ফেসবুক আইডিতে একটি সুইসাইড নোট পোস্ট করেন। সেখানে তিনি ব্যক্তিগত হতাশা, অপরাধবোধ, পারিবারিক বিষয় ও রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তার মৃত্যুর জন্য সাবেক প্রেমিকাকে দায়ী না করতে এবং মা ও পরিবারের খেয়াল রাখার জন্য বন্ধু ও সহযোদ্ধাদের অনুরোধ জানান।
ফেসবুকে পোস্টটি দেখতে পেয়েই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা মেঘমল্লারের খোঁজ করতে শুরু করেন। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেট এলাকা থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর রাত সাড়ে ১২টার দিকে মেঘমল্লারকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তার পাকস্থলী ওয়াশ করেন।
বর্তমানে মেঘমল্লার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনি এখন শঙ্কামুক্ত।
মেঘমল্লার বসুর এক বন্ধু তমা বলেন, “আমি তার ফেসবুক পোস্টটি দেখে খুবই চিন্তায় পড়ে যাই এবং সকল বন্ধু-বান্ধবদের কাছে ফোন দিয়ে তার খবর জানতে চাইলেও কেউ তার খবর দিতে পারছিল না। পরে আমাদের ক্যাম্পাসের এক বড় আপুর ফেসবুক পোস্ট থেকে জানতে পারি, মেঘমল্লার বসুকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বেশ কিছুদিন থেকেই বেশ হতাশাগ্রস্ত ছিলেন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে।”