আল হেলাল শুভ

রাজধানীর ফুলবাড়িয়ায় বিআরটিসি কাউন্টারের সামনে গত শনিবার বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘাতের নেপথ্যে দুই দলের ব্যবসায়ীদের মধ্যে মার্কেট নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্ব রয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে জামায়াতের দাবি, ফুলবাড়িয়া এলাকায় বিএনপির সমর্থকদের চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ মিছিল করতে গেলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এদিকে, বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের প্রতিহত করতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা যখন একত্রিত হচ্ছিল তখন জামায়াতের নেতা-কর্মীরা হামলা চালায়।
জামায়াতের এক দায়িত্বশীল নেতা অভিযোগ করেন, হামলার সময় বিএনপির নেতা-কর্মীরা জামায়াতের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। এ ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে।
এই ঘটনায় দুপক্ষই একে-অপরের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেছিল। এ ছাড়া এ সময় দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহারও করা হয়। এই ঘটনায় গুরুতর আহত একজন ব্যবসায়ী কবির আহমেদ। প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে আহত কবির ফুলবাড়িয়া এলাকার একজন মোবাইল সরঞ্জাম ব্যবসায়ী। তিনি জামায়াতে ইসলামীর গুলিস্তান শপিং মার্কেট ইউনিটের সভাপতি বলে জানা গেছে।
নেপথ্যে নগর প্লাজার নিয়ন্ত্রণ
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গুলিস্তানের ‘নগর প্লাজা’ মার্কেটের আধিপত্য নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী ব্যবসায়ীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাশের মার্কেটের এক ব্যবসায়ী চরচাকে বলেন, ‘‘নগর প্লাজা দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতপন্থী ব্যবসায়ীদের দখলে ছিল। শনিবার বিএনপির ব্যবসায়ীরা সেখানে মিছিল করায় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।’’
বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মাহফুজুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চরচাকে বলেন, ‘‘মূলত মার্কেটের কমিটি নিয়েই এই গণ্ডগোল।’’ তিনি জানান, মার্কেটে জামায়াত সমর্থিত লোকজন আগে ছিল, তাদের বাদ দিয়ে সমবায় সমিতি ফের নির্বাচনের ঘোষণা দেয়। এ জন্য এই ঘটনা ঘটেছে।
যা বলছেন বিএনপি নেতারা
বিএনপি নেতাদের দাবি, সংঘাতের পেছনে তাদের কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল না। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ফুলবাড়িয়া এলাকায় মিছিল করতে পারে—এমন খবরে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কর্মীরা সেখানে অবস্থান নিয়েছিলেন। এসময় জামায়াতের নেতা-কর্মীরা ট্রেড সেন্টারের ভেতর থেকে লাঠিসোঁটা নিয়ে এসে হামলা চালায়। এরপর সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
বংশাল থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার মোহাম্মদ মামুন বলেন, “বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা ফুলবাড়িয়া ক্লাবে বসে ছিলেন। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল ঠেকাতে প্রায় প্রতিদিনই তারা সেখানে অবস্থান নেন। আজ হঠাৎ জামায়াতের নেতা-কর্মীরা ট্রেড সেন্টারের ভেতর থেকে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা করেছে বলে শুনেছি। পরে দুই পক্ষ মুখোমুখি হয়ে যায়। তাদের সঙ্গে তো আমাদের কোনো দ্বন্দ্ব নেই। গায়ে পড়ে এসে তো তারা ঝামেলা করতে পারে না। তবে আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির এক নেতা দাবি করেন, “এটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা ছিল। আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আমাদের নেতা-কর্মীরা সেখানে অবস্থান নিয়েছিলেন। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে জামায়াতের একটি অংশ হামলা চালায়। বিষয়টি দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে।”
তবে সংঘর্ষের পেছনে নগর প্লাজা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে দক্ষিণের যুবদলের একাধিক নেতা স্বীকার করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন, “মার্কেট কমিটি নিয়ে কিছুদিন ধরে উত্তেজনা ছিল। তবে আমাদের দৃষ্টিতে শনিবারের সংঘর্ষের তাৎক্ষণিক কারণ ছিল আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য মিছিলকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি।”
ফুলবাড়িয়া মার্কেটের কয়েক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নগর প্লাজা মার্কেট সমিতির কমিটি সম্প্রতি সমবায় অধিদপ্তর ভেঙে দিয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করে। আগের কমিটিতে জামায়াত-সমর্থিত ব্যক্তিদের প্রভাব ছিল, মানে তারা জামায়াতপন্থী লোক। এখন নতুন কমিটির লোক সবাই বিএনপিপন্থী হয়ে যাবে, এটা জামায়াত নেতারা ভাবছিলেন। এসব বিষয় নিয়েই শনিবার ফুলবাড়িয়ায় দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরা জড়ো হলে একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দীন মামুন যুবদলের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘‘এটি যুবদলের বিরুদ্ধে একধরনের ষড়যন্ত্র, এসব অভিযোগ মিথ্যা এবং বানোয়াট। জামায়াতের বট বাহিনী যেমন অনলাইনে মানুষকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে, এখানেও তাই করা হচ্ছে।’’
গিয়াস উদ্দীন মামুন বলেন, ‘‘বিএনপি এখন সরকারে আছে। বিএনপির তো দখলের প্রয়োজন নাই। দখল করতে হচ্ছে জামায়াতের সেই নেতাদের।’’
চাঁদাবাজির অভিযোগ জামায়াতের
অন্যদিকে, শাহবাগ পূর্ব থানা জামায়াতের আমির আহসান হাবিব আধিপত্য বিস্তারের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘‘এখানে কোনো রাজনৈতিক আধিপত্যের বিষয় নেই। গত ১২ তারিখের নির্বাচনের পর এলাকায় দখলবাজি ও চাঁদাবাজি চরম আকার ধারণ করেছে। অতিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের নিয়ে আমরা নির্দিষ্ট কোনো দলের নাম না উল্লেখ করে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছিলাম। গণমাধ্যমকেও আগে জানানো হয়েছিল।’’
হামলার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘‘কারা হামলা করেছে তার ভিডিও ফুটেজ আছে। আমাদের বহু নেতা-কর্মী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’’
চাঁদাবাজির বিষয়টি জানানো হয়েছিল ডিএসসিসি প্রশাসককে
আমির আহসান হাবিব চরচাকে বলেন, ‘‘আগেই অভিযোগ করা হয়েছে। আমরা প্রশাসকের (ডিএসসিসি প্রশাসক) কাছে এ জন্য শরণাপন্ন হয়েছিলাম। আমাদের নেতৃবৃন্দ সালাম ভাইকে ফোনও করেছিলেন। আমরা বলেছিলাম, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে থাকতে চাই। সেটা তিনি সমাধান কবে দেবেন বলে জানিয়েছিলেন।”
মামলার প্রস্তুতি
জামায়াতের পক্ষ থেকে এই হামলার ঘটনায় বংশাল থানায় একটি মামলার এজাহার জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বংশাল থানার ওসি এ কে এম মাহফুজুল হক জানান, মামলার এজাহার তারা হাতে পেয়েছেন। এখনও মামলা হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের (কমিশনার) সাথে কথা বলে এই বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গুলিস্তানে ফের জামায়াতের বিক্ষোভ
শনিবার হামলার প্রতিবাদে গতকাল রোববার গুলিস্তান এলাকায় ফের জামায়াতের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। সেখানে গুলিস্তানের ১৯টি মার্কেটের ব্যবসায়ীরা অংশ নিয়েছেন বলে জামায়াতে ইসলামী থেকে দাবি করা হয়।

রাজধানীর ফুলবাড়িয়ায় বিআরটিসি কাউন্টারের সামনে গত শনিবার বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘাতের নেপথ্যে দুই দলের ব্যবসায়ীদের মধ্যে মার্কেট নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্ব রয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে জামায়াতের দাবি, ফুলবাড়িয়া এলাকায় বিএনপির সমর্থকদের চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ মিছিল করতে গেলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এদিকে, বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের প্রতিহত করতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা যখন একত্রিত হচ্ছিল তখন জামায়াতের নেতা-কর্মীরা হামলা চালায়।
জামায়াতের এক দায়িত্বশীল নেতা অভিযোগ করেন, হামলার সময় বিএনপির নেতা-কর্মীরা জামায়াতের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। এ ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে।
এই ঘটনায় দুপক্ষই একে-অপরের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেছিল। এ ছাড়া এ সময় দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহারও করা হয়। এই ঘটনায় গুরুতর আহত একজন ব্যবসায়ী কবির আহমেদ। প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে আহত কবির ফুলবাড়িয়া এলাকার একজন মোবাইল সরঞ্জাম ব্যবসায়ী। তিনি জামায়াতে ইসলামীর গুলিস্তান শপিং মার্কেট ইউনিটের সভাপতি বলে জানা গেছে।
নেপথ্যে নগর প্লাজার নিয়ন্ত্রণ
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গুলিস্তানের ‘নগর প্লাজা’ মার্কেটের আধিপত্য নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী ব্যবসায়ীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাশের মার্কেটের এক ব্যবসায়ী চরচাকে বলেন, ‘‘নগর প্লাজা দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতপন্থী ব্যবসায়ীদের দখলে ছিল। শনিবার বিএনপির ব্যবসায়ীরা সেখানে মিছিল করায় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।’’
বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মাহফুজুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চরচাকে বলেন, ‘‘মূলত মার্কেটের কমিটি নিয়েই এই গণ্ডগোল।’’ তিনি জানান, মার্কেটে জামায়াত সমর্থিত লোকজন আগে ছিল, তাদের বাদ দিয়ে সমবায় সমিতি ফের নির্বাচনের ঘোষণা দেয়। এ জন্য এই ঘটনা ঘটেছে।
যা বলছেন বিএনপি নেতারা
বিএনপি নেতাদের দাবি, সংঘাতের পেছনে তাদের কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল না। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ফুলবাড়িয়া এলাকায় মিছিল করতে পারে—এমন খবরে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কর্মীরা সেখানে অবস্থান নিয়েছিলেন। এসময় জামায়াতের নেতা-কর্মীরা ট্রেড সেন্টারের ভেতর থেকে লাঠিসোঁটা নিয়ে এসে হামলা চালায়। এরপর সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
বংশাল থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার মোহাম্মদ মামুন বলেন, “বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা ফুলবাড়িয়া ক্লাবে বসে ছিলেন। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল ঠেকাতে প্রায় প্রতিদিনই তারা সেখানে অবস্থান নেন। আজ হঠাৎ জামায়াতের নেতা-কর্মীরা ট্রেড সেন্টারের ভেতর থেকে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা করেছে বলে শুনেছি। পরে দুই পক্ষ মুখোমুখি হয়ে যায়। তাদের সঙ্গে তো আমাদের কোনো দ্বন্দ্ব নেই। গায়ে পড়ে এসে তো তারা ঝামেলা করতে পারে না। তবে আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির এক নেতা দাবি করেন, “এটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা ছিল। আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আমাদের নেতা-কর্মীরা সেখানে অবস্থান নিয়েছিলেন। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে জামায়াতের একটি অংশ হামলা চালায়। বিষয়টি দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে।”
তবে সংঘর্ষের পেছনে নগর প্লাজা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে দক্ষিণের যুবদলের একাধিক নেতা স্বীকার করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন, “মার্কেট কমিটি নিয়ে কিছুদিন ধরে উত্তেজনা ছিল। তবে আমাদের দৃষ্টিতে শনিবারের সংঘর্ষের তাৎক্ষণিক কারণ ছিল আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য মিছিলকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি।”
ফুলবাড়িয়া মার্কেটের কয়েক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নগর প্লাজা মার্কেট সমিতির কমিটি সম্প্রতি সমবায় অধিদপ্তর ভেঙে দিয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করে। আগের কমিটিতে জামায়াত-সমর্থিত ব্যক্তিদের প্রভাব ছিল, মানে তারা জামায়াতপন্থী লোক। এখন নতুন কমিটির লোক সবাই বিএনপিপন্থী হয়ে যাবে, এটা জামায়াত নেতারা ভাবছিলেন। এসব বিষয় নিয়েই শনিবার ফুলবাড়িয়ায় দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরা জড়ো হলে একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দীন মামুন যুবদলের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘‘এটি যুবদলের বিরুদ্ধে একধরনের ষড়যন্ত্র, এসব অভিযোগ মিথ্যা এবং বানোয়াট। জামায়াতের বট বাহিনী যেমন অনলাইনে মানুষকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে, এখানেও তাই করা হচ্ছে।’’
গিয়াস উদ্দীন মামুন বলেন, ‘‘বিএনপি এখন সরকারে আছে। বিএনপির তো দখলের প্রয়োজন নাই। দখল করতে হচ্ছে জামায়াতের সেই নেতাদের।’’
চাঁদাবাজির অভিযোগ জামায়াতের
অন্যদিকে, শাহবাগ পূর্ব থানা জামায়াতের আমির আহসান হাবিব আধিপত্য বিস্তারের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘‘এখানে কোনো রাজনৈতিক আধিপত্যের বিষয় নেই। গত ১২ তারিখের নির্বাচনের পর এলাকায় দখলবাজি ও চাঁদাবাজি চরম আকার ধারণ করেছে। অতিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের নিয়ে আমরা নির্দিষ্ট কোনো দলের নাম না উল্লেখ করে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছিলাম। গণমাধ্যমকেও আগে জানানো হয়েছিল।’’
হামলার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘‘কারা হামলা করেছে তার ভিডিও ফুটেজ আছে। আমাদের বহু নেতা-কর্মী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’’
চাঁদাবাজির বিষয়টি জানানো হয়েছিল ডিএসসিসি প্রশাসককে
আমির আহসান হাবিব চরচাকে বলেন, ‘‘আগেই অভিযোগ করা হয়েছে। আমরা প্রশাসকের (ডিএসসিসি প্রশাসক) কাছে এ জন্য শরণাপন্ন হয়েছিলাম। আমাদের নেতৃবৃন্দ সালাম ভাইকে ফোনও করেছিলেন। আমরা বলেছিলাম, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে থাকতে চাই। সেটা তিনি সমাধান কবে দেবেন বলে জানিয়েছিলেন।”
মামলার প্রস্তুতি
জামায়াতের পক্ষ থেকে এই হামলার ঘটনায় বংশাল থানায় একটি মামলার এজাহার জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বংশাল থানার ওসি এ কে এম মাহফুজুল হক জানান, মামলার এজাহার তারা হাতে পেয়েছেন। এখনও মামলা হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের (কমিশনার) সাথে কথা বলে এই বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গুলিস্তানে ফের জামায়াতের বিক্ষোভ
শনিবার হামলার প্রতিবাদে গতকাল রোববার গুলিস্তান এলাকায় ফের জামায়াতের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। সেখানে গুলিস্তানের ১৯টি মার্কেটের ব্যবসায়ীরা অংশ নিয়েছেন বলে জামায়াতে ইসলামী থেকে দাবি করা হয়।