চরচা ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। দীর্ঘ তিন দশক ধরে ইরান ইসরায়েলের প্রধান শত্রু বা ‘আর্চ এনিমি’ হিসেবে পরিচিত থাকলেও, সেই জায়গা নিতে পারে তুরস্ক অথবা পাকিস্তান।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘মাআরিভ’-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে এমন চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বোয়াজ গোলানি। সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
গোলানির মতে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধের আলোচনার প্রেক্ষাপটে তেহরানকে তার ‘প্রধান শত্রু’র তকমাটি ত্যাগ করতে হতে পারে।
তিনি উল্লেখ করেন, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নেতৃত্বে ইরান গত ৩০ বছর ধরে ইসরায়েল বিরোধী ভূমিকা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছে। তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধ এবং ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কারণে দেশটির সামরিক সক্ষমতা প্রায় ‘নিশ্চিহ্ন’ হয়ে গেছে। ফলে ইসরায়েলের জন্য নতুন এক প্রতিপক্ষের উদয় হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
নিবন্ধে বলা হয়েছে, ইরান-পরবর্তী সময়ে ইসরায়েলের প্রধান শত্রু হওয়ার দৌড়ে তুরস্ক এবং পাকিস্তান সবচেয়ে এগিয়ে আছে। গোলানি এই দুটি দেশকে বেছে নেওয়ার পেছনে কিছু অভিন্ন কারণ তুলে ধরেছেন। তুরস্কের জনসংখ্যা প্রায় ৮.৫ কোটি এবং পাকিস্তানের ২৪ কোটি। উভয় দেশই সুন্নি প্রধান এবং সামরিক শক্তির ওপর নির্ভরশীল কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা বিদ্যমান।
অদ্ভুত বিষয় হলো, উভয় দেশের সঙ্গেই ইসরায়েলের প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সুসম্পর্ক রয়েছে।
সম্প্রতি গাজা ইস্যু এবং সিরিয়ায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে ইসরায়েল ও তুরস্কের মধ্যে কূটনৈতিক লড়াই তুঙ্গে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একে অপরের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করছেন। নেতানিয়াহু এরদোয়ানের বিরুদ্ধে কুর্দিদের ওপর গণহত্যা এবং ইরান সমর্থিত প্রক্সিদের মদদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।
তবে ভূ-রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে এখনো তুরস্কের বন্দর হয়ে ইসরায়েলে তেল ও সামরিক সরঞ্জাম পৌঁছানোর খবরও পাওয়া যাচ্ছে, যা পরিস্থিতির জটিলতাকেই নির্দেশ করে।
অন্যদিকে, পাকিস্তান সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করলেও দেশটির কর্মকর্তাদের কণ্ঠে ইসরায়েল বিরোধী সুর বেশ কড়া। সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ইসরায়েলকে ‘মানবতার জন্য অভিশাপ’ এবং ‘শয়তান’ বলে আখ্যায়িত করেন। যদিও পরে সেই পোস্টটি মুছে ফেলা হয়। তবে এটি ইসরায়েলের প্রতি পাকিস্তানের মনোভাব স্পষ্ট করে দেয়।
বিশ্লেষক বোয়াজ গোলানি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে লড়াই শেষ হওয়ার পরপরই এই দুই দেশের যেকোনো একটির মুখোমুখি হওয়ার জন্য ইসরায়েলকে প্রস্তুত থাকতে হবে। তার ভাষায়, “এই দুই দেশের মধ্যে বেছে নেওয়ার সুযোগ আমাদের হাতে নেই এবং উভয় বিকল্পই আমাদের জন্য সমান খারাপ। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের প্রধান হাতিয়ার হলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক, যা আমাদের জানপ্রাণ দিয়ে রক্ষা করতে হবে।”

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। দীর্ঘ তিন দশক ধরে ইরান ইসরায়েলের প্রধান শত্রু বা ‘আর্চ এনিমি’ হিসেবে পরিচিত থাকলেও, সেই জায়গা নিতে পারে তুরস্ক অথবা পাকিস্তান।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘মাআরিভ’-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে এমন চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বোয়াজ গোলানি। সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
গোলানির মতে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধের আলোচনার প্রেক্ষাপটে তেহরানকে তার ‘প্রধান শত্রু’র তকমাটি ত্যাগ করতে হতে পারে।
তিনি উল্লেখ করেন, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নেতৃত্বে ইরান গত ৩০ বছর ধরে ইসরায়েল বিরোধী ভূমিকা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছে। তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধ এবং ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কারণে দেশটির সামরিক সক্ষমতা প্রায় ‘নিশ্চিহ্ন’ হয়ে গেছে। ফলে ইসরায়েলের জন্য নতুন এক প্রতিপক্ষের উদয় হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
নিবন্ধে বলা হয়েছে, ইরান-পরবর্তী সময়ে ইসরায়েলের প্রধান শত্রু হওয়ার দৌড়ে তুরস্ক এবং পাকিস্তান সবচেয়ে এগিয়ে আছে। গোলানি এই দুটি দেশকে বেছে নেওয়ার পেছনে কিছু অভিন্ন কারণ তুলে ধরেছেন। তুরস্কের জনসংখ্যা প্রায় ৮.৫ কোটি এবং পাকিস্তানের ২৪ কোটি। উভয় দেশই সুন্নি প্রধান এবং সামরিক শক্তির ওপর নির্ভরশীল কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা বিদ্যমান।
অদ্ভুত বিষয় হলো, উভয় দেশের সঙ্গেই ইসরায়েলের প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সুসম্পর্ক রয়েছে।
সম্প্রতি গাজা ইস্যু এবং সিরিয়ায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে ইসরায়েল ও তুরস্কের মধ্যে কূটনৈতিক লড়াই তুঙ্গে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একে অপরের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করছেন। নেতানিয়াহু এরদোয়ানের বিরুদ্ধে কুর্দিদের ওপর গণহত্যা এবং ইরান সমর্থিত প্রক্সিদের মদদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।
তবে ভূ-রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে এখনো তুরস্কের বন্দর হয়ে ইসরায়েলে তেল ও সামরিক সরঞ্জাম পৌঁছানোর খবরও পাওয়া যাচ্ছে, যা পরিস্থিতির জটিলতাকেই নির্দেশ করে।
অন্যদিকে, পাকিস্তান সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করলেও দেশটির কর্মকর্তাদের কণ্ঠে ইসরায়েল বিরোধী সুর বেশ কড়া। সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ইসরায়েলকে ‘মানবতার জন্য অভিশাপ’ এবং ‘শয়তান’ বলে আখ্যায়িত করেন। যদিও পরে সেই পোস্টটি মুছে ফেলা হয়। তবে এটি ইসরায়েলের প্রতি পাকিস্তানের মনোভাব স্পষ্ট করে দেয়।
বিশ্লেষক বোয়াজ গোলানি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে লড়াই শেষ হওয়ার পরপরই এই দুই দেশের যেকোনো একটির মুখোমুখি হওয়ার জন্য ইসরায়েলকে প্রস্তুত থাকতে হবে। তার ভাষায়, “এই দুই দেশের মধ্যে বেছে নেওয়ার সুযোগ আমাদের হাতে নেই এবং উভয় বিকল্পই আমাদের জন্য সমান খারাপ। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের প্রধান হাতিয়ার হলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক, যা আমাদের জানপ্রাণ দিয়ে রক্ষা করতে হবে।”