কেউ কেউ বসন্তের কোকিল, বসন্তকাল এলে এসে বলে কুহু কুহু: জামায়াত আমির

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
কেউ কেউ বসন্তের কোকিল, বসন্তকাল এলে এসে বলে কুহু কুহু: জামায়াত আমির
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘‘ওরা জনগণের প্রতি পাঁচ বছরে একবার দরদের হান্ডিতে জ্বাল দেয়, আর এটা উতলায়া উঠে। বাকি সাড়ে ৪ বছর হারিকেন জ্বালিয়েও খুঁজে পাওয়া যায় না। কেউ কেউ আবার বসন্তের কোকিল, বসন্তকাল আসলে আইসা বলে কুহু কুহু। মানুষের সঙ্গে, তৃণমূলের সঙ্গে এদের কোনো সম্পর্ক নাই। আমরা এই রাজনীতিকে ঘৃণা করি।”

পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে দশ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনী প্রচারণা জনসভায় আজ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন তিনি। বার্তা সংস্থা বাসসের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।

জামায়াত আমির বলেন, “উত্তরবঙ্গ গরিব নয়, গরিব করে রাখা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের মানুষদের স্বাস্থ্য সেবার জন্য হন্যে হয়ে দৌঁড়াতে হয় রাজধানীর দিকে। এ সামর্থ্য সকলের নেই, যাওয়ার পথে রাস্তায় অনেকের মৃত্যু হয়। এ অবস্থা আমরা দেখতে চাই না। আল্লাহ আমাদেরকে দায়িত্ব দিলে ৬৪ জেলার কোথাও মেডিকেল কলেজ বিহীন থাকবে না। বলবেন- এত টাকা কোথায় পাবেন? ওই যে চুরি করে আমাদের ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশ নিয়ে গেছেন, ওগুলো ওদের পেটের ভেতর হাত ঢুকিয়ে বের করে আনব।”

তিনি বলেন, “উত্তরবঙ্গকে গরিব করে রাখা হয়েছে। সৎ মায়ের সন্তানের মত উত্তরবঙ্গের সঙ্গে আচরণ করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গ আমাদের কলিজার অংশ, উত্তরবঙ্গ আমাদের খাদ্য এবং পুষ্টি সরবরাহ করে। সেই উত্তরবঙ্গকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে ইচ্ছা করে। উত্তরবঙ্গ থেকে আমরা আগামীতে আর কোনো বেকারের মুখ দেখতে চাই না। গোটা উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক শিল্পের রাজধানী বানাতে চাই। বন্ধ চিনিকল খুলে দিয়ে শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে ফিরিয়ে আনতে চাই।”

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমাদের কাছে কোনো কার্ড নেই। আপনারাই আমাদের কার্ড। আপনাদের বুকে একটা ভালোবাসার কার্ড চাই। আপনাদের সমর্থন, দোয়া ও ভালবাসা দিয়ে আগামীতে একটি বেকার মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। কারো দয়ায় বাংলাদেশের কোনো এলাকায় মানুষ বসবাস করবে তা আমরা দেখতে চাই না। মানুষ আওয়াজ দেয় টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া। কিন্তু টেকনাফের উন্নয়নের জোয়ার আর আসতে পারে না তেঁতুলিয়া পর্যন্ত। আমরা এটা উল্টিয়ে দিব, বলব–তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ।”

তিনি বলেন, ‘‘আল্লাহর নেয়ামত ৪টি নদী আল্লাহ এই উত্তরবঙ্গকে দান করেছেন- তিস্তা, ধরলা ব্রহ্মপুত্র এবং করতোয়া। আজকে আসার সময় দেখলাম-নদী নয়, মরুভূমি। মরে কঙ্কাল হয়ে আছে নদীগুলো। আল্লাহর দান নদীগুলোকে খুন করা হয়েছে। এই দেশের কি কোনো মা-বাবা ছিল না? তাহলে আমার নদী মরে গেল কেন?”

জামায়াত আমির বলেন, ‘‘আমরা ছিলাম, আমরা আছি, আমরা থাকব। দেশবাসীকে ফেলে চরম বিপদের সময়ও কোথাও আমরা যাইনি, আগামীতেও প্রিয় দেশবাসীকে ফেলে আমরা যাব না। জীবনে মরনে একসঙ্গে লড়াই করব। বাংলাদেশকে গর্বের বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলব।’’

জামায়াত আমির বলেন, ‘‘আপনারা যদি মূল্যবান ভোট, ভালোবাসা, সমর্থনে ১০ দলের সমন্বয়কে যদি সংসদে পাঠান; আমরা যদি সরকার গঠন করতে পারি, কথা দিচ্ছি- শুধু নদীর জীবন ফিরবেনা, মানুষের জীবনেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে। এই উত্তরবঙ্গের চেহারা বদলে দেয়ার জন্য ৫ বছরই যথেষ্ট হবে। একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমরা যদি কাজ করি, উত্তরবঙ্গের চেহারা বদলে যাবে। এখানকার মানুষ পরিশ্রমী। এই এলাকা পিছিয়ে থাকার প্রশ্নই উঠে না। ষড়যন্ত্র করে, বঞ্চিত করে পিছনে রাখা হয়েছে।’’

সম্পর্কিত