রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, “দেশের দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে বিএনপি সরকারের ট্র্যাক রেকর্ড রয়েছে। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়ে ২০০১ সালের জুন মাসে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিয়েছিল। ২০০১ সালের অক্টোবর মাসে পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের দায়িত্ব নিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার দুর্নীতি দমনে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।”
বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী কোনো সংসদের প্রথম এবং বছরের প্রথম অধিবেশনে বক্তব্য দেন রাষ্ট্রপতি। তার ওই বক্তব্যের ওপর সংসদ সদস্যরা আলোচনা করেন।
আওয়ামী লীগের সময়ে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ বলে তার বক্তব্যের সময় হট্টগোল করেন জামায়াত জোটের সংসদ সদস্যরা। তারা প্রতিবাদ দেখিয়ে সংসদ থেকে ওয়াকআউটও করে।
ভাষণের শুরুতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করতে গিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ বলেন মো. সাহাবুদ্দিন।
বক্তব্যে তিনি একাধিকবার বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ছিল ‘ফ্যাসিস্ট’।
বিএনপি সরকার তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণে দেশের জন্য কী কী করবেন, তার বিস্তারিত ফিরিস্তি দেন রাষ্ট্রপতি। ভাষণ শেষ করলেন ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ বলে।
মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, “খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার...দুর্নীতি প্রতিরোধের লক্ষ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ প্রণয়ন করা হয়। এর ফলে বিশ্বে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কলঙ্ক থেকে বাংলাদেশ মুক্তি পায়। ২০০৬ সালের অক্টোবর মাসে বিএনপি যখন রাষ্ট্র ক্ষমতা থেকে বিদায় নেয় তার অনেক আগেই বিশ্বে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়নের কলঙ্ক থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ এশিয়ার ইমার্জিং টাইগার হিসেবে স্বীকৃতি পায়।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, “অবাধ সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন, মাঠ প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের নিরলস পরিশ্রম এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তির আন্তরিক উদ্যোগ এবং সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”
রাষ্ট্রপতি বলেন, “এই উদ্বোধনী অধিবেশন বাংলাদেশের ইতিহাসের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। হাজারো শহীদের সিরিবেয়ে দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর একটি শান্তিপূর্ণ, অবাদ, সুষ্ঠ নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়েই মহান জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে।”