যশোরের ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রণজিৎ বাওয়ালীর স্মরণানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রোববার বিকেলে অভয়নগর উপজেলার জলাবদ্ধ মশিয়াহাটী বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়-সংলগ্ন মন্দির প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
গত ৫ আগস্ট অভয়নগর উপজেলার ডুমুরতলা গ্রামের জলাবদ্ধ বাড়িতে রণজিৎ বাওয়ালী শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভবদহের জলাবদ্ধতা, পানি নিষ্কাশন এবং দীর্ঘদিনের আন্দোলনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বক্তারা।
‘কৃষকের দুঃখ গেল না, শ্রমিকের দুঃখ গেল না...’—রণজিৎ বাওয়ালীর লেখা গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে বিকেল তিনটায় বৃষ্টির মধ্যে স্মরণানুষ্ঠান শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ, উপদেষ্টা তসলিম-উর-রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী আবদুল হামিদ, সদস্যসচিব চৈতন্য কুমার পাল, সদস্য শিবপদ বিশ্বাস, অনিল বিশ্বাস, রাজু আহমেদ, শেখর বিশ্বাস, বিকাশ মল্লিক, সাধন বিশ্বাস, সুকৃতি মণ্ডল, সুকৃতি বিশ্বাস, মহির উদ্দিন বিশ্বাস, বাবর আলী গোলদার, মাসুদ শেখ, বাসন্তী মণ্ডল, কনৌজ বিশ্বাস ও আদিত্য সরকারসহ কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
স্মরণানুষ্ঠানে বক্তারা ভবদহ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার কারণ, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার নানা সমস্যা এবং এ সংকট নিরসনে রণজিৎ বাওয়ালীর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। তার নেতৃত্বে জলাবদ্ধ এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পানি নিষ্কাশনের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। তাঁর মৃত্যুর পরও সেই আন্দোলন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
বক্তারা জানান, ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট বা জোয়ারাধার) বাস্তবায়নের দাবি দীর্ঘদিনের। একই সঙ্গে আমডাঙ্গা খালের সংস্কারকাজ দ্রুত শুরু করার দাবিও জানানো হয়।
ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে টিআরএম বাস্তবায়নের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং আমডাঙ্গা খালের সংস্কারকাজ শুরুর দাবি জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে সমবেত হয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
এ ছাড়া আগামী ১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় পানি বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি গোলটেবিল বৈঠক আয়োজনের কথা জানানো হয়।