চলচ্চিত্র পরিচালক অনীক দত্তের রহস্যময় মৃত্যু নিয়ে চলছে গভীর জল্পনা। গতকাল বুধবার দুপুরে প্রাক্তন স্ত্রীর ফ্ল্যাটের ছাদ থেকে নিচে পড়ে মারাত্মকভাবে জখম হন তিনি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে পারেননি।
পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এরইমধ্যে গড়িয়াহাট থানা-পুলিশ একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছে।
বুধবার রাতেই পরিচালকের ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদন পুলিশের হাতে এসেছে। এসএসকেএম হাসপাতালে হওয়া ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে পরিচালকের শরীরে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। চিকিৎসকদের মতে, উপর থেকে নিচে আছড়ে পড়ায় তার মাথায় প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হয় এবং খুলির বাঁ-দিকের হাড় দুই টুকরো হয়ে যায়। একইসঙ্গে খুলির ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধার প্রমাণও মিলেছে। শুধু মাথায় নয়, তার বুকের বাঁ-দিকের পাঁজর ভেঙে গিয়েছিল এবং কোমর, ফিমার ও পেলভিক বোন বা শ্রোণিচক্রের হাড় চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। ফুসফুসেও গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছিল।
পুলিশ ঘটনাস্থল (ফ্ল্যাটের ছাদ) থেকে একটি নোট এবং একটি চিঠি উদ্ধার করেছে। নোটটিতে লেখা রয়েছে, তার এই মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নন, এবং চিঠিটি তিনি তার মেয়ের উদ্দেশ্যে লিখে গেছেন। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এই দুটি জিনিসই জব্দ করেছে এবং এগুলো পরিচালকের নিজের হাতের লেখা কিনা তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, আজ বৃহস্পতিবার তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। তবে পারিবারিক কারণে তা স্থগিত রাখা হয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, অনীক দত্তের মেয়ে ঐশী বিদেশে থাকেন। তিনি কলকাতায় ফিরে আসার পরেই শেষযাত্রার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
অনীক দত্তের মরদেহ সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের জন্য প্রথমে নন্দনে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবা হলেও, পরে সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্তে, প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের বাসভবনে প্রয়াত পরিচালকের মরদেহ রাখা হবে।