জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “নির্বাচনের সময় দেশবাসীর সামনে বলেছিলাম সরকারি সুযোগ সুবিধা যতটা না নিলে না হয় আমরা চেষ্টা করবো। কিন্তু কেউ যদি এটা নিতে চায় এখানে কোনো অপরাধ নাই। তা আমরা সেটা রক্ষা করে চলার চেষ্টা করছি।”
আজ বুধবার সংসদ ভবনের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে বাজেট পরবর্তী মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।
নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “আমরা নির্বাচনের সময় দেশবাসীর সামনে ওয়াদা করেছিলাম। আমাদের কেউ নির্বাচিত হলে এমপি হোক, মন্ত্রী হোক, যাই হোক আমরা বিনা ট্যাক্সের গাড়ি কিনব না। সরকারি কোনো প্লটের সুবিধা নেব না। কিছু বন্ধুর ‘কিছু গুড়ের সাথে কিছু লবণ’ না ছিটাইলে আরাম পান না। আমরা যা বলেছি স্পষ্ট বলেছি। অস্পষ্ট কোনও কথা বলিনি। এখানে লাগায়ে দিছে ফ্ল্যাট নেব না।”
শফিকুর রহমান বলেন, “এখন সরকারি ফ্ল্যাট এমপিদের জন্য ডেজিগনেটেড। এটা সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য। এটা সরকার আমাকে দিয়ে দিচ্ছে নাকি? ওটা যত সময় সংসদ কার্যকর থাকবে তত সময় উনি ব্যবহার করবেন। সরকারি দল, বিরোধী দল সবাই ব্যবহার করবে। যখন সংসদ বিলুপ্ত হয়ে যাবে তখন আর কেউ এক সেকেন্ড এখানে থাকার কোনো নৈতিক এবং বৈধ অধিকার নেই। ছেড়ে দিতে হবে। এটা নিয়ে আবার বিভিন্ন ধরনের জল ঘোলা করা হয়। আমরা আরও বলেছিলাম সরকারি সুযোগ-সুবিধা যতটা না নিলে না হয়-আমরা চেষ্টা করব। কিন্তু কেউ যদি এটা নিতে চায় এখানে কোনো অপরাধ নেই। আমরা সেটা রক্ষা করার চেষ্টা করছি।”
সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জনগণ সংবিধান সংশোধনের জন্য নয়, সংস্কারের জন্য রায় দিয়েছে। সংস্কার ও সংশোধনের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। সংবিধান সংশোধনের বিষয় আদালতের বিচারিক পর্যালোচনার আওতায় পড়ে, কিন্তু জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে হওয়া সংস্কারের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ নেই।
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, “বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করা হলেও কার্যকর আলোচনার সুযোগ দেওয়া হয়নি। পরে নোটিশের মাধ্যমে আলোচনা হলেও কোনো সিদ্ধান্ত বা রুলিং আসেনি। তাই সংসদে সুযোগ না পেলে জনগণের কাছেই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিরোধী দল। আমরা জনগণকে দেওয়া ওয়াদা থেকে সরে যাব না। সংসদে সুযোগ না পেলে জনগণের পার্লামেন্টে যাব। জনগণের দাবি নিয়েই আমাদের আন্দোলন চলবে।”