চরচা প্রতিবেদক

স্রেফ লিওনেল মেসির বিপক্ষে খেলতে পারাটাকেই বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছিল কেপ ভার্দে। কে ভেবেছিল, তার হাতে হারিকেন ধরিয়ে দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টাটা চালাবে আফ্রিকার ছোট্ট দেশটি! অসম এক লড়ায়ে মেসিদের বিপক্ষে সমানে সমান লড়ে গেল কেপ ভার্দে। আত্মঘাতী গোলে শেষ সময়ে কপাল না পুড়লে চলে গিয়েছিল ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে। ঘাম ঝরানো এক জয়ে বিশ্বকাপে টিকে রইলেন মেসি, বেঁচে রইলো শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন।
বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক ম্যাচ শনিবার ভোরে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরেছে কেপ ভার্দে। ৯০ মিনিটে সমতা থাকার পর ম্যাচের ফয়সালা হয়েছে অতিরিক্ত সময়ে গিয়ে।
হেরে গেলেও আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলের ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দের বিশ্বকাপ অভিযান যেন রূপকথা মত, যা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপে স্পেন, উরুগুয়েকে রুখে দেওতার পর দলটি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে যে লড়াই করেছে, সেটা অনেকদিন দর্শকদের মনে থাকবে।
গোটা ম্যাচে আর্জেন্টিনা গোলের জন্য শট নিয়েছে ১০টি। তাদের চূড়ান্ত অগ্নিপরীক্ষা নিয়ে বিশ্বকাপ দিয়ে তারকা বনে যাওয়া গোলকিপার ভোজিনিয়া খেললেন সেরা ম্যাচই। ১০টি সেভ করেন তিনি, এর মধ্যে ৫টিই ছিল আবার মেসির বিপক্ষে।
আসরের অন্যতম সেরা রক্ষণভাগ উপহার দেওয়া কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোল পেতে অবশ্য খুব একটা অপেক্ষা করতে হয়নি আর্জেন্টিনাকে। যথারীতি নামটা আবারও মেসি। ম্যাচের ২৯তম মিনিটে লাউতারো মার্তিনেজের নিখুঁত লব পাস থেকে প্রথম স্পর্শেই বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জায়গা বানিয়ে জোরালো শটে বল পাঠান জালে।
এবারের বিশ্বকাপে এটি মেসির সপ্তম গোল। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তিনি পেছনে ফেলে দিয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পেকে (৬ গোল)। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার নিজের রেকর্ডও আরও সুসংহতও করেছেন কিংবদন্তি এই ফরোয়ার্ড। তার গোল এখন ২০টি।
বিরতির ঠিক আগে এনজো মার্তিনেসের শট দারুণ দক্ষতায় আটকে দেন ভোজিনিয়াই। এই অর্ধে আক্রমণে গতি ছিল না কেপ ভার্দের। ৫৪ মিনিটে আর্জেন্টিনাকে বিপদ থেকে বাঁচান এমিলিয়ানো মার্তিনেজ!
ডান প্রান্ত থেকে মোরেইরার ক্রসটি ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে পারেননি লিসান্দ্রো ফার্নান্দেজ। বল চলে যায় ডেরয় দুয়ার্তের পায়ে। কেপ ভার্দের মিডফিল্ডার জটলার মধ্যে জোরালো শটে পেয়ে যান গোলের দেখা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ভালো খেলা কেপ ভার্দে আক্রমণে চাপে রাখে আর্জেন্টিনাকে। তার সুফলও মেলে। ৫৯তম মিনিটে আর্জেন্টিনাকে হতবাক করে দিয়ে গোলও করে ফেলে তারা।
ডান দিক দিয়ে উঠে গিয়ে মেন্দেসকে বল দেন মোরেইরা। কাটব্যাক করে তিনি পাস দেন ডেরয় দুয়ার্তেকে। দুরূহ এঙ্গেল থেকে দুর্দান্ত শটে লিসান্দ্রো ও এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে পরাস্ত করে দুরের পোস্টে বল পাঠিয়ে টানেন সমতা।
এর মিনিট তিনেক বাদে মেসিকে বিস্ময়ের উপহার দেন ভোজিনিয়া। ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর বাড়ানো থ্রু বল লাউতারো মার্তিনেজ হালকা টাচে বল পান ফাঁকায় থাকা আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। একেবারে গোলকিপারের সামনে থেকে ডান পায়ের শট নেন মেসি। তবে অবিশ্বাস্য ভোজিনিয়া অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় নিশ্চিত গোলও ঠেকিয়ে দেন।
৭২তম মিনিটে ফের মেসিকে হতাশ করেন কেপ ভার্দের গোলকিপার। এবার বক্সের বাইরে থেকে নেওয়ার তার বাঁকানো শট কোনোমতে আটকে দেন ভোজিনিয়া।
যোগ করা সময়ে প্রাণপণ গোলের চেষ্টা চালায় আর্জেন্টিনা। মেসির শট একবার প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে পোস্টে লেগেও ফিরে আসে। তাতে ৯০ মিনিট শেষ হয় ১-১ গোলেই।
তবে অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির নেওয়া কর্নার কিক কাছের পোস্টে হেড নেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। সেটা চলে যায় লিসান্দ্রো কাছে, প্রথম চেষ্টায় তিনি হেড না করতে না পারলেও দ্রুতই বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ-পায়ের বুলেট শটে জালে পাঠান বল।
তবে আর্জেন্টিনা হাঁফ ছেড়ে নিঃশ্বাস নেওয়ার আগেই ফের গোল করে বসে কেপ ভার্দে। বাম দিক দিয়ে কাট ব্যাক করে বক্সে ঢুকে সিডনি কাবরাল বাঁকানো শট নেন, যা সোজা গিয়ে জড়ায় জালের একদম কোণায়। এমিলিয়ানো চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না।
টাইব্রেকারের দিকেই ক্রমশ এগিয়ে যাওয়া ম্যাচে এরপর ফের নাটক। মেসির নেওয়া কর্নারে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো দারুণ হেড করেন। তবে এরপর সেটা বোর্হেসের হাতে লেগে দিক পরিবর্তন করে ফেলে। আর তাতে বিভ্রান্ত হন ভোজিনিয়া।
তবে তাতেও দমে না গিয়ে মরণ কামড় বসানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখে পুঁচকে কেপ ভার্দে। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে গোল প্রায় পেয়েই যাচ্ছিল তারা। তবে ফের ত্রাতা হন এমিলিয়ানো। নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে জেতান দলকে আর নিয়ে যান শেষ ১৬-তে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ মিশর।

স্রেফ লিওনেল মেসির বিপক্ষে খেলতে পারাটাকেই বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছিল কেপ ভার্দে। কে ভেবেছিল, তার হাতে হারিকেন ধরিয়ে দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টাটা চালাবে আফ্রিকার ছোট্ট দেশটি! অসম এক লড়ায়ে মেসিদের বিপক্ষে সমানে সমান লড়ে গেল কেপ ভার্দে। আত্মঘাতী গোলে শেষ সময়ে কপাল না পুড়লে চলে গিয়েছিল ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে। ঘাম ঝরানো এক জয়ে বিশ্বকাপে টিকে রইলেন মেসি, বেঁচে রইলো শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন।
বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক ম্যাচ শনিবার ভোরে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরেছে কেপ ভার্দে। ৯০ মিনিটে সমতা থাকার পর ম্যাচের ফয়সালা হয়েছে অতিরিক্ত সময়ে গিয়ে।
হেরে গেলেও আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলের ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দের বিশ্বকাপ অভিযান যেন রূপকথা মত, যা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপে স্পেন, উরুগুয়েকে রুখে দেওতার পর দলটি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে যে লড়াই করেছে, সেটা অনেকদিন দর্শকদের মনে থাকবে।
গোটা ম্যাচে আর্জেন্টিনা গোলের জন্য শট নিয়েছে ১০টি। তাদের চূড়ান্ত অগ্নিপরীক্ষা নিয়ে বিশ্বকাপ দিয়ে তারকা বনে যাওয়া গোলকিপার ভোজিনিয়া খেললেন সেরা ম্যাচই। ১০টি সেভ করেন তিনি, এর মধ্যে ৫টিই ছিল আবার মেসির বিপক্ষে।
আসরের অন্যতম সেরা রক্ষণভাগ উপহার দেওয়া কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোল পেতে অবশ্য খুব একটা অপেক্ষা করতে হয়নি আর্জেন্টিনাকে। যথারীতি নামটা আবারও মেসি। ম্যাচের ২৯তম মিনিটে লাউতারো মার্তিনেজের নিখুঁত লব পাস থেকে প্রথম স্পর্শেই বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জায়গা বানিয়ে জোরালো শটে বল পাঠান জালে।
এবারের বিশ্বকাপে এটি মেসির সপ্তম গোল। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তিনি পেছনে ফেলে দিয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পেকে (৬ গোল)। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার নিজের রেকর্ডও আরও সুসংহতও করেছেন কিংবদন্তি এই ফরোয়ার্ড। তার গোল এখন ২০টি।
বিরতির ঠিক আগে এনজো মার্তিনেসের শট দারুণ দক্ষতায় আটকে দেন ভোজিনিয়াই। এই অর্ধে আক্রমণে গতি ছিল না কেপ ভার্দের। ৫৪ মিনিটে আর্জেন্টিনাকে বিপদ থেকে বাঁচান এমিলিয়ানো মার্তিনেজ!
ডান প্রান্ত থেকে মোরেইরার ক্রসটি ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে পারেননি লিসান্দ্রো ফার্নান্দেজ। বল চলে যায় ডেরয় দুয়ার্তের পায়ে। কেপ ভার্দের মিডফিল্ডার জটলার মধ্যে জোরালো শটে পেয়ে যান গোলের দেখা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ভালো খেলা কেপ ভার্দে আক্রমণে চাপে রাখে আর্জেন্টিনাকে। তার সুফলও মেলে। ৫৯তম মিনিটে আর্জেন্টিনাকে হতবাক করে দিয়ে গোলও করে ফেলে তারা।
ডান দিক দিয়ে উঠে গিয়ে মেন্দেসকে বল দেন মোরেইরা। কাটব্যাক করে তিনি পাস দেন ডেরয় দুয়ার্তেকে। দুরূহ এঙ্গেল থেকে দুর্দান্ত শটে লিসান্দ্রো ও এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে পরাস্ত করে দুরের পোস্টে বল পাঠিয়ে টানেন সমতা।
এর মিনিট তিনেক বাদে মেসিকে বিস্ময়ের উপহার দেন ভোজিনিয়া। ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর বাড়ানো থ্রু বল লাউতারো মার্তিনেজ হালকা টাচে বল পান ফাঁকায় থাকা আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। একেবারে গোলকিপারের সামনে থেকে ডান পায়ের শট নেন মেসি। তবে অবিশ্বাস্য ভোজিনিয়া অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় নিশ্চিত গোলও ঠেকিয়ে দেন।
৭২তম মিনিটে ফের মেসিকে হতাশ করেন কেপ ভার্দের গোলকিপার। এবার বক্সের বাইরে থেকে নেওয়ার তার বাঁকানো শট কোনোমতে আটকে দেন ভোজিনিয়া।
যোগ করা সময়ে প্রাণপণ গোলের চেষ্টা চালায় আর্জেন্টিনা। মেসির শট একবার প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে পোস্টে লেগেও ফিরে আসে। তাতে ৯০ মিনিট শেষ হয় ১-১ গোলেই।
তবে অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির নেওয়া কর্নার কিক কাছের পোস্টে হেড নেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। সেটা চলে যায় লিসান্দ্রো কাছে, প্রথম চেষ্টায় তিনি হেড না করতে না পারলেও দ্রুতই বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ-পায়ের বুলেট শটে জালে পাঠান বল।
তবে আর্জেন্টিনা হাঁফ ছেড়ে নিঃশ্বাস নেওয়ার আগেই ফের গোল করে বসে কেপ ভার্দে। বাম দিক দিয়ে কাট ব্যাক করে বক্সে ঢুকে সিডনি কাবরাল বাঁকানো শট নেন, যা সোজা গিয়ে জড়ায় জালের একদম কোণায়। এমিলিয়ানো চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না।
টাইব্রেকারের দিকেই ক্রমশ এগিয়ে যাওয়া ম্যাচে এরপর ফের নাটক। মেসির নেওয়া কর্নারে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো দারুণ হেড করেন। তবে এরপর সেটা বোর্হেসের হাতে লেগে দিক পরিবর্তন করে ফেলে। আর তাতে বিভ্রান্ত হন ভোজিনিয়া।
তবে তাতেও দমে না গিয়ে মরণ কামড় বসানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখে পুঁচকে কেপ ভার্দে। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে গোল প্রায় পেয়েই যাচ্ছিল তারা। তবে ফের ত্রাতা হন এমিলিয়ানো। নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে জেতান দলকে আর নিয়ে যান শেষ ১৬-তে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ মিশর।