অনলাইন জুয়া, প্রতারণা ও সাইবার অপরাধে শিশু-কিশোরদের জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন সিনিয়র সহকারী জজ ও ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মো. সায়েম খান। তিনি বলেছেন, “এসব ক্ষেত্রে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই বেশি জরুরি।”
বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর কোর্ট ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘স্পিক আপ! এম্পাওয়ারিং সিএসওস টু প্রোটেক্ট চিলড্রেন এন্ড ইয়ুথ ফ্রিডম অফ এক্সপ্রেশন বাই কেপিটালাইজিং অন অপারচুনেটিস এন্ড এড্রেসিং দ্যা চ্যালেঞ্জ অফ দ্যা ডিজিটাল স্পেস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থ সহায়তা এবং টেরে ডেস হোমসের কারিগরি সহায়তায় প্রজেক্টটি কৌশলগত বাস্তবায়ন করছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
সায়েম খান জানান, বর্তমানে অনলাইনে প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল ও সাইবার হয়রানির শিকার হয়ে অনেক মানুষ লিগ্যাল এইড অফিসে আসছেন। তবে এসব অপরাধের ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও সাইবার তদন্তের প্রয়োজন হয়, যা সরাসরি লিগ্যাল এইড অফিসের আওতায় পড়ে না। এ কারণে ভুক্তভোগীদের সংশ্লিষ্ট পুলিশ ইউনিট বা সাইবার ক্রাইম বিভাগে পাঠাতে হয়।
তিনি বলেন, তদন্ত প্রক্রিয়া অনেক সময় জটিল ও সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়ে। ফলে দ্রুত ফল না পেয়ে অনেক ভুক্তভোগী হতাশ হয়ে পড়েন। এই কারণেই আগেভাগে সচেতনতা তৈরি করাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
সভায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন অফিসার এস এম মাসুদ রানা বলেন, পারিবারিক অবহেলা, নেশা, সামাজিক অবক্ষয় ও কৌতূহলবশত অনেক শিশু ভুল পথে জড়িয়ে পড়ছে। তিনি আরও জানান, ইউটিউব দেখে হ্যাকিং শিখে ব্ল্যাকমেইলসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে কিছু শিশু-কিশোর।
তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সঠিক দিকনির্দেশনা, পুনর্বাসন ও সচেতনতা থাকলে তারা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে।
লিগ্যাল এইডের প্যানেল আইনজীবী মো. ফিরোজ উদ্দিন বলেন, বস্তি ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার অনেক মানুষ জানেন না কোথায় আইনি সহায়তা পাওয়া যায়। তাই স্কুল-কলেজ, মহল্লা ও জোনভিত্তিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাড়ানো জরুরি।
বিচারক সায়েম খান জানান, যে কেউ টোল-ফ্রি হটলাইন ১৬৪৩০-এ ফোন করে বা সরাসরি লিগ্যাল এইড অফিসে এসে বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ নিতে পারবেন।