আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
আজ বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “সার্বিক বিবেচনায় এটা তো ঐতিহাসিক তো বটেই। বিশ্ববাসী তাকিয়ে আছে, বড়ই বটে।”
এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, “আমরা কনফিডেন্ট যে, ইনশাআল্লাহ আমরা একটা সুন্দর নির্বাচন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন—এটা বিশ্ববাসী তাকিয়ে আছে। আমি বললাম, বিশ্ববাসী তাকিয়ে আছে। বললাম কেন? আমাদের একটা অভ্যুত্থান হয়ে গেল, এবং একজন রাষ্ট্রপতি মেয়াদ শেষের আগে পদত্যাগ করলেন।”
সিইসি বলেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের কারণে নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ইতিহাস তুলে ধরে সিইসি বলেন, ১৯৯১ সালে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে আর এমন নির্বাচন হয়নি।
দীর্ঘদিন পর এমন নির্বাচন হওয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতার কিছুটা ঘাটতি রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “একটু ইনস্টিটিউশনাল মেমোরি, একটু এখানে একটু শর্ট আছে। কারণ আমাদের লোকজনও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে অভ্যস্ত না। সংসদ সচিবালয় যেখানে ডিপলি ইনভলভ থাকেন, উনারাও এই ধরনের কার্যক্রম করে অভ্যস্ত না। কিছুটা ইনস্টিটিউশনাল মেমোরি, কিছুটা শর্টেজ আছে।”
তবে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান সিইসি। তিনি বলেন, “তারপরও আমরা একদম যত রকমের সম্ভব এক্সারসাইজ সম্ভব এবং দরকার, সেটা আমরা করেছি। আমাদের সিনিয়র সেক্রেটারি সাহেবের নেতৃত্বে আমাদের এনারা করেছেন এবং তাতে করে যাতে করে আমাদের পুরা প্রক্রিয়াটার মধ্যে কোনো গ্যাপ না হয়, সেই ব্যবস্থাটা আমরা করেছি।”
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনায় ১৯৯১ সালের আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে জানিয়ে সিইসি বলেন, সংসদ অধিবেশনে থাকলে এবং অধিবেশনে না থাকলে নির্বাচন পরিচালনার ব্যবস্থায় ভিন্নতা রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা সংসদের ‘বিভক্তি নম্বর’ অনুযায়ী করা হয়েছে বলে জানান সিইসি। একটি সংসদীয় আসন শূন্য থাকায় বিভক্তি নম্বরের ধারাবাহিকতায় পরিবর্তনের কথাও তিনি তুলে ধরেন।
সিইসি বলেন, “এখন আমি কন্ডাক্ট করব, পরিচালনা করব। এখানে আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতি একজন ভোটার, বর্তমান আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভোটার, তারপরে আমাদের মাননীয় স্পিকার ভোটার, তারপরে আমাদের মাননীয় দলের নেতাও ভোটার আর সব এমপি ভোটার। ভেরি হাই প্রোফাইল একটা ইলেকশন।”
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের ব্যয় নিয়ে প্রশ্নে সিইসি বলেন, এ নির্বাচনে বড় ধরনের অতিরিক্ত খরচ দেখছেন না তিনি।
ব্যালট ছাপানো ও কাগজপত্র-স্টেশনারির মতো কিছু খরচ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত ব্যয় তেমন নেই বলে জানান তিনি।