সোহরাব হাসান

বিএনপির উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক প্রার্থীর প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে আদালতে রিট হয়েছে। তার কোনো কোনোটিতে তারা জয়ী হলেও বেশ কিছু আসনে হেরে গেছে। আবার যেসব প্রার্থী জয়ী হয়েছেন, তাদের কারও আইনি লড়াই শেষ হয়নি।
যেমন চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে রায় দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। তবে সেটি নিঃশর্ত নয়। আদালত বলেছেন, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই আসনের নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ স্থগিত থাকবে।
একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আনোয়ার সিদ্দিককে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অনুমতি দিয়েছেন আপিল বিভাগ। তার আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু বলেন, ২৩ ব্যাংকে আসলাম চৌধুরীর ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা ঋণ ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তাকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অনুমতি দিয়েছে।
হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে আনোয়ার সিদ্দিকীর করা লিভ টু আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ যে রায় দিয়েছেন, তাতে বিএনপি প্রার্থীর ফাঁড়া কেটেছে এ কথা বলা যাবে না। আপিলের নিষ্পত্তি পর্যন্ত তাকে অপেক্ষা করতে হবে।
এদিকে, ঢাকা-১১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতার বিরুদ্ধে জাতীয় নাগিরক পার্টির প্রার্থী নাহিদ ইসলামের রিট যে খারিজ করে দিয়েছেন, তাতে সবকিছুর মীমাংসা হয়েছে বলা যাবে না। আদেশের পর কাইয়ুমের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম বলেন, ‘‘আগে থেকেই কাইয়ুম নির্বাচনে লড়ছেন। রিট খারিজ হওয়ায় তিনি যথারীতি নির্বাচন করতে পারবেন।’’ অন্যদিকে বাদীর আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন আপিল করার কথা বলেছেন। এখানেও বিএনপি প্রার্থীকে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি অন্য কোনো দেশের নাগরিক নন।
বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে গত ৩ জানুয়ারি কাইয়ুমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে তা গ্রহণ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা গত ২২ জানুয়ারি কাইয়ুমকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দ দেন।
তবে কাইয়ুম ভানুয়াতু নামের একটি দেশের নাগরিক, অর্থাৎ দ্বৈত নাগরিক– এমন অভিযোগ তুলে রিটার্নিং কর্মকর্তার ওই দুই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে সোমবার হাইকোর্টে রিট করেন এনসিপির প্রার্থী নাহিদ ইসলাম। রিট খারিজের বিষয়ে কাইয়ুমের আইনজীবী আহসানুল করিম বলেন, ‘রিট আবেদনের ভিত্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য, যা ঘটনাগত বিতর্কের বিষয়। এটা ঠিক, কি ঠিক না, তা আদালত নির্ণয় করতে পারেন না। আর নির্বাচনের শিডিউল থেকে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ পর্যন্ত পুরো সময়টা নির্বাচনী সময়। এই সময়ে উদ্ভব হওয়া বিরোধ নিয়ে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার সুযোগ আছে। যে কারণে রিট আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়।
তবে নির্বাচনের পর যদি দেখা যায়, কেউ তথ্য গোপন করেছেন, সংবিধান অনুযায়ী অযোগ্যতার মধ্যে পড়েন এবং সেই তথ্য যদি কমিশনারের কাছে দেওয়া হয়, তথ্য যাচাই সাপেক্ষে যদি দেখা যায় মিথ্যা বলেছেন, তাহলে কমিশনার ফলাফল বাতিল করতে পারবেন।
এদিকে কুমিল্লার দুটি আসনে বিএনপির প্রার্থিতা চূড়ান্তভাবে বাতিল হওয়ায় ওই আসনগুলোতে দলটির কোনো প্রার্থী আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছেন না।
কুমিল্লা-৪ আসনে এনসিপি নেতা ও প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহের করা ঋণখেলাপির অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৭ জানুয়ারি বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসানের মনোনয়ন বাতিল করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে রিট করলে ২১ জানুয়ারি তা সরাসরি খারিজ হয়ে যায়। পরে তিনি আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন।
দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুল গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করে ইসি। প্রার্থিতা ফিরে পেতে তিনি হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন, যা গত ২২ জানুয়ারি সরাসরি খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। এরপর তিনি হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন।
১ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ দুটি আবেদনই খারিজ করে দেন। ফলে আসন্ন নির্বাচনে ওই দুই প্রার্থীর অংশগ্রহণের আর কোনো সুযোগ থাকছে না।
এর অর্থ হলো বিএনপি নেতৃত্ব ঋণখেলাপি ও দ্বৈতনাগরিককে মনোনয়ন দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের জয় নিশ্চিত করে দিয়েছে। আরও কয়েকটি আসনে তাদের ভাগ্য পেন্ডুলামের মতো ঝুলছে।
এই যে বিএনপিকে এতগুলো আসনে আইনি লড়াই চালাতে হলো এর দায় কার? প্রথমত প্রার্থীর, দ্বিতীয়ত দলের নেতৃত্বের। বিএনপি একটি পুরোনো দল। খেলাপি ঋণ ও দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে তাদের যে প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যাবে, সেটা নিশ্চয়ই নেতৃত্বের অজানা নয়। তারপরও তারা এ ধরনের প্রার্থীকে মনোনয়ন দিলেন কেন?
আর যদি প্রার্থী তথ্য লুকিয়ে মনোনয়ন বাগিয়ে থাকেন, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। যেখানে আইনে স্পষ্ট করে লেখা আছে, দ্বৈত নাগরিকেরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না, সেখানে তারা প্রার্থী হলেন কী করে?
খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। নির্বাচন বিষয়ক সংস্কার কমিশন প্রস্তাব করেছিল, তফসিলের অন্তত ছয় মাস আগে ঋণ হালনাগাদ করতে হবে। নির্বাচন কমিশন সেটি রাখেনি। তারা আগের মতো খেলাপি ঋণ একদিন আগে হালনাগাদকারীদেরও নির্বাচনের সুযোগ দিয়েছেন।
এবারে নির্বাচন কমিশন বিপুল সংখ্যক প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করলেও পরে আপিল করে অনেকে সেটি ফিরে পেয়েছেন। এরপরও যাদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ গুরুতর বলে ধারণা করি।
নির্বাচনের প্রচারের আর সাত দিন বাকি। এখন প্রার্থীদের ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘোরার কথা। কিন্তু কঠিন বাস্তবতার কারণেই বিএনপির কোনো কোনো প্রার্থীকে আদালতের বারান্দায় ঘুরতে হচ্ছে। প্রার্থিতা বাতিল হওয়া কোনো কোনো আসনে ধানের শীষ থাকলেই বিএনপি জিতে যেত। এই ক্ষতি তারা কীভাবে পুষিয়ে নেবে সেটাই দেখার বিষয়।
লেখক: সম্পাদক, চরচা।

বিএনপির উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক প্রার্থীর প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে আদালতে রিট হয়েছে। তার কোনো কোনোটিতে তারা জয়ী হলেও বেশ কিছু আসনে হেরে গেছে। আবার যেসব প্রার্থী জয়ী হয়েছেন, তাদের কারও আইনি লড়াই শেষ হয়নি।
যেমন চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে রায় দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। তবে সেটি নিঃশর্ত নয়। আদালত বলেছেন, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই আসনের নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ স্থগিত থাকবে।
একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আনোয়ার সিদ্দিককে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অনুমতি দিয়েছেন আপিল বিভাগ। তার আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু বলেন, ২৩ ব্যাংকে আসলাম চৌধুরীর ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা ঋণ ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তাকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অনুমতি দিয়েছে।
হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে আনোয়ার সিদ্দিকীর করা লিভ টু আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ যে রায় দিয়েছেন, তাতে বিএনপি প্রার্থীর ফাঁড়া কেটেছে এ কথা বলা যাবে না। আপিলের নিষ্পত্তি পর্যন্ত তাকে অপেক্ষা করতে হবে।
এদিকে, ঢাকা-১১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতার বিরুদ্ধে জাতীয় নাগিরক পার্টির প্রার্থী নাহিদ ইসলামের রিট যে খারিজ করে দিয়েছেন, তাতে সবকিছুর মীমাংসা হয়েছে বলা যাবে না। আদেশের পর কাইয়ুমের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম বলেন, ‘‘আগে থেকেই কাইয়ুম নির্বাচনে লড়ছেন। রিট খারিজ হওয়ায় তিনি যথারীতি নির্বাচন করতে পারবেন।’’ অন্যদিকে বাদীর আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন আপিল করার কথা বলেছেন। এখানেও বিএনপি প্রার্থীকে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি অন্য কোনো দেশের নাগরিক নন।
বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে গত ৩ জানুয়ারি কাইয়ুমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে তা গ্রহণ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা গত ২২ জানুয়ারি কাইয়ুমকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দ দেন।
তবে কাইয়ুম ভানুয়াতু নামের একটি দেশের নাগরিক, অর্থাৎ দ্বৈত নাগরিক– এমন অভিযোগ তুলে রিটার্নিং কর্মকর্তার ওই দুই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে সোমবার হাইকোর্টে রিট করেন এনসিপির প্রার্থী নাহিদ ইসলাম। রিট খারিজের বিষয়ে কাইয়ুমের আইনজীবী আহসানুল করিম বলেন, ‘রিট আবেদনের ভিত্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য, যা ঘটনাগত বিতর্কের বিষয়। এটা ঠিক, কি ঠিক না, তা আদালত নির্ণয় করতে পারেন না। আর নির্বাচনের শিডিউল থেকে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ পর্যন্ত পুরো সময়টা নির্বাচনী সময়। এই সময়ে উদ্ভব হওয়া বিরোধ নিয়ে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার সুযোগ আছে। যে কারণে রিট আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়।
তবে নির্বাচনের পর যদি দেখা যায়, কেউ তথ্য গোপন করেছেন, সংবিধান অনুযায়ী অযোগ্যতার মধ্যে পড়েন এবং সেই তথ্য যদি কমিশনারের কাছে দেওয়া হয়, তথ্য যাচাই সাপেক্ষে যদি দেখা যায় মিথ্যা বলেছেন, তাহলে কমিশনার ফলাফল বাতিল করতে পারবেন।
এদিকে কুমিল্লার দুটি আসনে বিএনপির প্রার্থিতা চূড়ান্তভাবে বাতিল হওয়ায় ওই আসনগুলোতে দলটির কোনো প্রার্থী আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছেন না।
কুমিল্লা-৪ আসনে এনসিপি নেতা ও প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহের করা ঋণখেলাপির অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৭ জানুয়ারি বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসানের মনোনয়ন বাতিল করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে রিট করলে ২১ জানুয়ারি তা সরাসরি খারিজ হয়ে যায়। পরে তিনি আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন।
দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুল গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করে ইসি। প্রার্থিতা ফিরে পেতে তিনি হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন, যা গত ২২ জানুয়ারি সরাসরি খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। এরপর তিনি হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন।
১ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ দুটি আবেদনই খারিজ করে দেন। ফলে আসন্ন নির্বাচনে ওই দুই প্রার্থীর অংশগ্রহণের আর কোনো সুযোগ থাকছে না।
এর অর্থ হলো বিএনপি নেতৃত্ব ঋণখেলাপি ও দ্বৈতনাগরিককে মনোনয়ন দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের জয় নিশ্চিত করে দিয়েছে। আরও কয়েকটি আসনে তাদের ভাগ্য পেন্ডুলামের মতো ঝুলছে।
এই যে বিএনপিকে এতগুলো আসনে আইনি লড়াই চালাতে হলো এর দায় কার? প্রথমত প্রার্থীর, দ্বিতীয়ত দলের নেতৃত্বের। বিএনপি একটি পুরোনো দল। খেলাপি ঋণ ও দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে তাদের যে প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যাবে, সেটা নিশ্চয়ই নেতৃত্বের অজানা নয়। তারপরও তারা এ ধরনের প্রার্থীকে মনোনয়ন দিলেন কেন?
আর যদি প্রার্থী তথ্য লুকিয়ে মনোনয়ন বাগিয়ে থাকেন, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। যেখানে আইনে স্পষ্ট করে লেখা আছে, দ্বৈত নাগরিকেরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না, সেখানে তারা প্রার্থী হলেন কী করে?
খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। নির্বাচন বিষয়ক সংস্কার কমিশন প্রস্তাব করেছিল, তফসিলের অন্তত ছয় মাস আগে ঋণ হালনাগাদ করতে হবে। নির্বাচন কমিশন সেটি রাখেনি। তারা আগের মতো খেলাপি ঋণ একদিন আগে হালনাগাদকারীদেরও নির্বাচনের সুযোগ দিয়েছেন।
এবারে নির্বাচন কমিশন বিপুল সংখ্যক প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করলেও পরে আপিল করে অনেকে সেটি ফিরে পেয়েছেন। এরপরও যাদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ গুরুতর বলে ধারণা করি।
নির্বাচনের প্রচারের আর সাত দিন বাকি। এখন প্রার্থীদের ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘোরার কথা। কিন্তু কঠিন বাস্তবতার কারণেই বিএনপির কোনো কোনো প্রার্থীকে আদালতের বারান্দায় ঘুরতে হচ্ছে। প্রার্থিতা বাতিল হওয়া কোনো কোনো আসনে ধানের শীষ থাকলেই বিএনপি জিতে যেত। এই ক্ষতি তারা কীভাবে পুষিয়ে নেবে সেটাই দেখার বিষয়।
লেখক: সম্পাদক, চরচা।