Advertisement Banner

বিমানবন্দরে হাজিদের লাগেজ থেকে মালামাল চুরির অভিযোগ সত্য নয়: বিমান প্রতিমন্ত্রী

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
বিমানবন্দরে হাজিদের লাগেজ থেকে মালামাল চুরির অভিযোগ সত্য নয়: বিমান প্রতিমন্ত্রী
ছবি: চরচা

দেশে ফেরা হাজিদের বিমানবন্দরের ১৫০টি লাগেজ থেকে মালামাল চুরির অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত পরশু দিন যেসব হাজি হজ থেকে ফিরেছেন, তাদের লাগেজ সংক্রান্ত বিষয়ে একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটা পোস্ট দিয়েছেন। পোস্টে তিনি বলেছেন, বিমানবন্দরে হাজিদের ১৫০টি লাগেজ কাটা হয়েছে এবং লাগেজগুলি থেকে মালামাল চুরি হয়েছে। পোস্টটিতে প্রধানমন্ত্রীকে ট্যাগ করা হয়। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে আমাদের সঙ্গে সঙ্গে নির্দেশনা প্রদান করেন এবং আমরা আমাদের তরফ থেকে সঙ্গে সঙ্গে এটা তদন্ত করার জন্য নির্দেশ প্রদান করি।”

রশিদুজ্জামান আরও বলেন, “আজকে আমরা আপনাদের সামনে হাজির করেছি, যাতে করে বস্তুনিষ্ঠ বিষয়টাই আপনাদের জানাতে পারি। আপনারা জানেন যে, প্রায়ই এ রকম সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের বিভিন্নভাবে বিভ্রান্ত করা হয়, যেটা আপনাদের সহযোগিতায় আমরা সত্যতা যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদটি পরিবেশন আপনাদের মাধ্যমেই করতে পারি। তাতে করে বিভ্রান্তিটা আপনাদের নিরসন হয়। সেই প্রেক্ষিতে আমরা একটা বিবৃতি আপনাদের দিতে চাই।”

তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল জানিয়ে বিমান প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দরের সিসিটিভি ও বডি ওর্ন ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে তদন্ত প্রতিবেদন কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আমার কাছে পাঠায় কর্তৃপক্ষ। সেই ফ্লাইটে আসা ৮৩৬ পিস লাগেজের মধ্যে ২১টি ব্যাগ ছেঁড়া এবং কাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে কর্তব্যরত গ্রাউন্ড স্টাফদের কাছ থেকে মৌখিকভাবে জানা যায়।

নিয়মের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী কোনো হাজি বা যাত্রী মূল চেকিং লাগেজের ভেতরে কোনো অবস্থাতেই জমজমের পানি বা যথাযথ সিলগালা না করে লিকুইড প্রসাধন সামগ্রী বহন করতে পারবেন না। এটা একটা নিয়ম। লাগেজ স্ক্যানিংয়ের সময় ধরা পড়লে নিয়ম অনুযায়ী বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ লাগেজ কেটে বা খুলে তা বাজেয়াপ্ত করে থাকে। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী ডিক্লারেশন ব্যতীত নগদ টাকা বা মানিব্যাগ বুকিং লাগেজে দেওয়া নিষিদ্ধ।”

ঢাকা বিমানবন্দরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে কোনো ধরনের মিসহ্যান্ডলিংয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়নি জানিয়ে রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, “আপনারা যাচাই করলেই জানবেন যে গতকালকের ঘটনাটি অসত্য।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এ অভিযোগটি অসত্য প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিমান কর্তৃপক্ষ এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন এবং ভিডিও ফুটেজ জমা দিয়েছে। তিনি বলেন, “লাগেজ বিমান থেকে নামানো থেকে শুরু করে বেল্ট পর্যন্ত আসার পুরো ভিডিও চিত্রটি সংরক্ষিত আছে। সেটি দেখলেই বোঝা যাবে যে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। লাগেজ নামানোর মাত্র ১৩ মিনিটের মধ্যেই প্রথম লাগেজ বেল্টে এসেছে এবং এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে সব লাগেজ বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে।”

সংবাদ সম্মেলনে বিমান ও পর্যটন সচিব ফাহমিদা আখতার, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাইজার সোহেল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত