জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের উপদেষ্টাকে ‘বিরোদীদলীয় নেতার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা’ হিসেবে নিয়োগ করার প্রস্তাব দিয়ে যে চিঠি পাঠানো হয়েছে সেটি প্রকাশ করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রস্তুত বলে জানিয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাঠানো ওই চিঠিতে জামায়াত আমিরের সই আছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আজ বুধবার মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জামায়াত আমিরের ওই চিঠির বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
জামায়াত আমিরের সম্মতি পেলে চিঠিটি প্রকাশ করতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
জামায়াত আমিরের ওই চিঠি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
গতকাল মঙ্গলবার এ নিয়ে ব্যাখ্যাও দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের পাঠানো এক সবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ওই চিঠি পাঠানোর ক্ষেত্রে দলের আমিরের নির্দেশনা না মেনে বাড়তি কিছু বিষয় যোগ করা হয়েছে।
এজন্য শফিকুর রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মাহমুদুল হাসানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, “২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে লেখা একটি চিঠি ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে তিনি একই চিঠি সরাসরি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছেও হস্তান্তর করেন।”
বিবৃতিতে বলা হয়, “চিঠিটি বিরোধীদলীয় নেতার জাতীয় সংসদের প্যাডে লেখা ছিল। চিঠির বিষয়বস্তু হচ্ছে- ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে ‘বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা’ হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা বা মন্ত্রী পদমর্যাদায় নিয়োগ ও সুপারিশ।”
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, “বিরোধীদলীয় নেতা তার স্বাক্ষরিত চিঠিতে ড. হাসানের দক্ষতা, পেশাদারত্ব ও বিচক্ষণতার প্রশংসা করেন এবং দেশের পররাষ্ট্রনীতিকে একত্রে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে তাকে উল্লিখিত পদে পদায়নের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকট সুপারিশ করেন। তিনি বিষয়টিকে বিশেষভাবে বিবেচনার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান। চিঠির নিচে শুধুমাত্র বিরোধীদলীয় নেতার স্বাক্ষর রয়েছে।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “এদিকে একটি পত্রিকার প্রতিবেদন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচর হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে, ‘জামায়াতের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি ফোনে যোগাযোগ করা হয়। সেখানে জানানো হয় যে উক্ত চিঠির বিষয়ে আমিরে জামায়াত অবগত ছিলেন না’। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে, এ ধরনের কোনো ফোনালাপ সংঘটিত হয়নি।”
বিবৃতিতে বলা হয়, “বিরোধীদলীয় নেতা লিখিতভাবে সম্মতি প্রদান করলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চিঠিটির পূর্ণ পাঠ জনসমক্ষে প্রকাশ করতে প্রস্তুত রয়েছে।”