ads

ফ্রান্সে দাবানলে প্রায় ২ লাখ মানুষ ঘরছাড়া

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
ফ্রান্সে দাবানলে প্রায় ২ লাখ মানুষ ঘরছাড়া
ফ্রান্সে দাবানলের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত একটি প্রদর্শনী কেন্দ্র। ২৫ জুলাই ২০২৬। ছবি: রয়টার্স

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিরন্দ ও লঁদ অঞ্চলে দাবানলের কারণে ঘরছাড়া মানুষের সংখ্যা ২ লাখ দাঁড়িয়েছে। এসব মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ উদ্ধার ও পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়তার জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

Advertisement

স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে বোর্দোর কাছে চারটি শহর সতর্কতামূলকভাবে খালি করা হয়। এসব এলাকায় মোট ৫৮ হাজার ৪০০ মানুষ বসবাস করে।

স্থানীয় প্রশাসনের প্রধান সোফি ব্রোকাস জিরন্দের দাবানলকে “এক্সএক্সএল আগুন” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এতে ১৯ হাজার হেক্টরের বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে এবং প্রায় ৮০টি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে।

দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা ক্যাপ ফেরে উপদ্বীপের সব মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর শত শত মানুষ নৌকায় করে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

এলাকাটিতে সারা বছর প্রায় ৮ হাজার মানুষ বসবাস করে, তবে গ্রীষ্মকালীন ছুটির মৌসুমে এই সংখ্যা ১০ গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়।

অগ্নিনির্বাপণ বিভাগের প্রধান মার্ক ভারমুলেন বলেন, ২০২২ সালের ভয়াবহ দাবানলের চেয়েও এবার পরিস্থিতি বেশি গুরুতর। খরার কারণে আগুন রাতভর ছড়িয়ে পড়েছে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বলেন, “এত বড় আকারের আগুন আমরা আগে কখনো দেখিনি।” তিনি জানান, প্রায় ৫০ জন অগ্নিনির্বাপক আহত হয়েছে।

তিনি বলেন, আগুন “নিজে থেকেই টিকে থাকছে” এবং দিক পরিবর্তন করছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় এটি বোর্দোর দিকে এগোচ্ছিল।

লঁদ অঞ্চলের বিসকারোসের কাছে আরেকটি দাবানলের কারণে ২৩ হাজারের বেশি মানুষকে বাড়ি, ক্যাম্পসাইট, বৃদ্ধাশ্রম ও গ্রীষ্মকালীন শিবির থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

লঁদ অঞ্চলের প্রশাসক জিল ক্লেভরুল বলেন, ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার বেগে বাতাস এবং ৩৬-৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার কারণে দ্রুত আগুন নেভানো সম্ভব হবে না।

ক্ষতিগ্রস্ত লেজ-ক্যাপ-ফেরে এলাকার মেয়র ফিলিপ দ্য গনভিল বলেন, গত দেড় মাস ধরে ওই অঞ্চল বৃষ্টিহীন ও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রার “চরম আবহাওয়ার” মুখোমুখি।

তিনি বলেন, “এটি অবিশ্বাস্য। আমরা বা দমকলকর্মীরা কেউই এমন কিছু দেখিনি।”

প্রেসিডেন্ট মাখোঁ বলেন, ফ্রান্সে দাবানলের পরিস্থিতি “অত্যন্ত উদ্বেগজনক”, বিশেষ করে জিরন্দ অঞ্চলে।

তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেসামরিক সুরক্ষা ব্যবস্থার সহায়তা সক্রিয় করেছে ফ্রান্স এবং চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়া থেকে দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারসহ অতিরিক্ত সহায়তা আসবে।

সম্পর্কিত