গ্রিনল্যান্ডের দাম ১০০ কোটি মার্কিন ডলার হতে পারে: পুতিন

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
গ্রিনল্যান্ডের দাম ১০০ কোটি মার্কিন ডলার হতে পারে: পুতিন
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: রয়টার্স

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা নিয়ে রাশিয়ার কোনো মাথাব্যথা নেই। আমেরিকা ও ডেনমার্কের মধ্যে বিদ্যমান এই বিষয়টি তাদের নিজেদেরই সমাধান করা উচিত। তবে এ সময় দ্বীপটিকে নিয়ে দেশ দুটির ঐতিহাসিক আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

এ বিষয়ে প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে কথা বলতে গিয়ে পুতিন ইঙ্গিত দিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ডের ওপর ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় রাশিয়ার কোনো আপত্তি নেই। তার ধারণা, এই দ্বীপটির দাম ১০০ কোটি মার্কিন ডলার হতে পারে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়ে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রহকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইউরোপের দেশগুলোর যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা বেশ উপভোগ করছে মস্কো। যদিও এই পরিস্থিতির প্রভাব রাশিয়ার ওপর পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ আর্কটিক বা উত্তর মেরু অঞ্চলে রাশিয়ার আগে থেকেই শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে।

রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, “গ্রিনল্যান্ডে যা কিছু ঘটছে, তা নিয়ে আমাদের বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই।”

পুতিন আরও বলেন, ডেনমার্ক সব সময় গ্রিনল্যান্ডকে একটি কলোনি বা উপনিবেশ হিসেবে দেখেছে এবং তাদের প্রতি বেশ কঠোর, এমনকি নিষ্ঠুর আচরণ করেছে। তবে সেটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয় এবং এখনকার দিনে এটি নিয়ে কারও তেমন আগ্রহ নেই।

এদিকে, ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের বিরোধিতাকারী ইউরোপের কয়েকটি দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিলেও গতকাল সুইজারল্যান্ডের দাভোসে দেওয়া বক্তব্যে সেই অবস্থান থেকে সরে আসার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়ে দেন, গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহার করা হবে না। ট্রাম্প ডেনমার্কের এই আধা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল নিয়ে চলা বিরোধ মেটাতে চুক্তি হচ্ছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন।

মস্কোরও গ্রিনল্যান্ড নিয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে, ট্রাম্পের এমন মন্তব্যে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিরক্ত হলেও তারা ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সমালোচনা করা থেকে বিরত থেকেছে। কারণ, ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতার চেষ্টা করছেন। এমনকি ট্রাম্পের দাবির প্রতি রাশিয়া কিছুটা সহমর্মিতাও দেখিয়েছে।

মঙ্গলবার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ মন্তব্য করেছেন যে, সম্পদে ভরপুর বিশাল এই দ্বীপটি ডেনমার্কের কোনো ‘স্বাভাবিক অংশ’ নয়। উল্লেখ্য, গ্রিনল্যান্ডে আগে থেকেই মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রয়েছে।

এদিকে এ ধরনের ভূখণ্ড কেনাবেচার নজির টেনে ভ্লাদিমির পুতিন মনে করিয়ে দেন যে, ১৮৬৭ সালে রাশিয়া মাত্র ৭২ লাখ ডলারে আলাস্কাকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রি করেছিল। এ ছাড়া ১৯১৭ সালে ডেনমার্কও তাদের ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ ওয়াশিংটনের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিল।

আলাস্কার সেই দামকে বর্তমান মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে ও গ্রিনল্যান্ডের বিশাল আয়তন ও সোনার দামের পরিবর্তন হিসাব করে পুতিন বলেন, ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড কিনতে প্রায় ১০০ কোটি ডলার খরচ হতে পারে। পুতিনের মতে, ওয়াশিংটন এই টাকা খরচ করার সামর্থ্য রাখে।

পুতিন বলেন, “আমার মনে হয়, তারা নিজেদের মধ্যেই বিষয়টি সমাধান করে ফেলবে।”

সম্পর্কিত