ads

সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হলে কী হয়?

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হলে কী হয়?
ফাইল ছবি: চরচা

বাংলাদেশে আইন প্রণয়ন হয় জাতীয় সংসদে। সংসদ সদস্যরাই সেখানে আইনপ্রণেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। ফলে ক্ষমতার কেন্দ্রে এই সংসদ সদস্যদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর আমাদের দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিলে বলতেই হয় যে, এ দেশে সংসদ সদস্যদের প্রভাব অনেক বেশি। 

তবে সংবিধান এ দেশের সংসদ সদস্যদেরও আইনি প্রক্রিয়ায় জবাবদিহিতার মধ্যে রাখে। বাংলাদেশের সংসদ সদস্যরা আইন ও বিধি অনুযায়ী কিছু বিশেষ সুবিধা পান বটে। কিছু বিষয়ে তাদের দায়মুক্তিও দেওয়া আছে।

Advertisement

সংবিধানের ৭৮ অনুচ্ছেদে বলা আছে, সংসদের কার্যধারার বৈধতা সম্পর্কে কোন আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না।

সংসদের যে সদস্য বা কর্মচারীর ওপর সংসদের কার্যপ্রণালী নিয়ন্ত্রণ, কার্যপরিচালনা বা শৃঙ্খলারক্ষার ক্ষমতা ন্যস্ত থাকবে, তিনি এসব ক্ষমতাপ্রয়োগ সম্পর্কিত কোনো ব্যাপারে কোনো আদালতের এখতিয়ারের অধীন হবেন না।

সংবিধান অনুযায়ী, সংসদে বা সংসদের কোন কমিটিতে কিছু বলা বা ভোট দেওয়ার জন্য কোনো সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে কোনো আদালতে কার্যধারা গ্রহণ করা যাবে না। সংসদ বা সংসদের কর্তৃত্বে কোনো রিপোর্ট, কাগজপত্র, ভোট বা কার্যধারা প্রকাশের জন্য কারও বিরুদ্ধে কোনো আদালতে কার্যধারা গ্রহণ করা যাবে না।

আবার সংসদ সদস্যরা এসব দায়মুক্তি পেলেও কোনো অপরাধ করলে একজন সাধারণ মানুষের মতোই তার বিচার হয়। এক্ষেত্রে একজন সংসদ সদস্য বাড়তি কোনো সুবিধা পান না।

তবে কোনো সংসদ সদস্য দণ্ডিত হলে তার পদ নিয়ে সংবিধানে স্পষ্ট বিধান আছে। বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো আইনপ্রণেতা নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে সংসদ সদস্য থাকার যোগ্য হবেন না। এবং মুক্তি পাওয়ার পর পাঁচ বছর পর্যন্ত তিনি আর সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য বিবেচিত হন না।

ওই অনুচ্ছেদেই আরও বলা আছে, কোন বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব নিলে কিংবা কোন বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করলে কেউ আর এমপি হিসেবে থাকতে পারবে না।

হত্যা, দুর্নীতি, সহিংসতা বা কোনো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে সংসদের বাইরে থেকে কোনো সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে সাধারণ আইন অনুযায়ী পুলিশের কোনো আগাম বাধার সম্মুখীন হতে হয় না। সংসদ অধিবেশন না থাকলে এবং গ্রেপ্তারের স্থান যদি সংসদ ভবনের বাইরে হয়, তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা প্রচলিত ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করে একজন সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে পারে।

তবে একজন সংসদ সদস্য ফৌজদারি অভিযোগে বা অপরাধে গ্রেপ্তার হলে, কিংবা আদালত তাকে কারাদণ্ড দিলে বা কোনো নির্বাহী আদেশক্রমে আটক হলে, ক্ষেত্রমতো গ্রেপ্তারকারী বা দণ্ডদানকারী বা আটককারী কর্তৃপক্ষ বা জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট বা নির্বাহী কর্তৃপক্ষ দ্রুত স্পিকারকে তা জানাবেন।

অবশ্য জাতীয় সংসদের সীমানার মধ্যে স্পিকারের অনুমতি ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না বলেও আইনে আছে। সেক্ষেত্রে স্পিকারের অনুমতি পেলে গ্রেপ্তার করা যাবে বলে সংবিধানে উল্লেখ আছে।  

সম্পর্কিত