আল হেলাল শুভ

সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে জোরেশোরে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে।
কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর বলেছেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একটি ‘পরীক্ষিত বন্ধু রাষ্ট্র’। ঠিক ওই সময়েই জামায়াতের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতার শেষ বিদায়ে দেশটিতে সফররত ছিল।
সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ ও অভিন্ন লক্ষ্যকে ভিত্তি করে দুই দেশের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে। এই বক্তব্য নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা। মার্কিনিদের ‘বন্ধু’ বলাই এই সমালোচনার একমাত্র কারণ না।
এ থেকেই প্রশ্ন উঠছে, জামায়াত কি আসলে একই সঙ্গে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু? বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একত্রে সখ্য রাখা কীভাবে সম্ভব?
গত শুক্রবার ইরান সরকারের আমন্ত্রণে দেশটির সর্বোচ্চ নেতার জানাজায় অংশ নিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের নেতারা। জামায়াতের নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে রয়েছেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য কেরামত আলী, সংসদ সদস্য নুরুল আমীন ও ডা. এস এম খালিদুজ্জামান। আরও অংশ নিয়েছেন ১১ দলের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা। ওই প্রতিনিধি দলটি গত ২ জুলাই তেহরানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। বুধবার পর্যন্ত দেশটিতে অবস্থান করে আলি খামেনির শেষ বিদায় ও রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠানে অংশ নেন জামায়াত ও তার মিত্ররা।
একই সময়ে বর্তমানে ‘যুদ্ধরত’ দুটি দেশের সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক রাখার ‘চেষ্টা’ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বেশ সমালোচনা চলছে। কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে হাস্যরসও করছেন। কেউ বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের কার্টুনও তৈরি করছেন। অনেকে বলছেন, ঘটনাটি জামায়াতের ‘দ্বৈত’ নীতির একটি প্রমাণ। কারণ, সম্পূর্ণ বিপরীত দুটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বিরোধী দল সমানভাবে সম্পর্ক রাখতে চাইছে।
২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে মার্কিন প্রভাব যেভাবে বেড়েছে, তা বিগত মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলেই স্পষ্ট হয়। ওই সময় থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জামায়াতের সখ্য নিয়ে সরব আলোচনা চলছে। এ জন্য বাংলাদেশে মার্কিন প্রভাব নিয়ে বিরোধী দলে থাকলেও টু শব্দটিও করে না জামায়াত ও তার মিত্ররা।
তাহলে ইরানের সঙ্গে জামায়াতের সখ্য কোথায়? আদর্শগতভাবে জামায়াত ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল। তাদের অবস্থান মূলত ইসলামভিত্তিক রাজনীতি ও দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, যা তারা অক্ষুণ্ন রাখতে চায়। ইরান শিয়াপন্থী রাষ্ট্র হলেও মুসলিম আবেগ নিয়ে রাজনীতি করা জামায়াত বিষয়টিকে নজরে রেখেছে।
গত ১৭ জুন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রহিমি জাহানাবাদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জামায়াত আমির। সে সময় দুই দেশের মধ্যে ‘পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ’ গঠন নিয়েও আলোচনা করেন শফিকুর রহমান। এর এক সপ্তাহ আগে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে।
রাজনৈতিক মহলে আলোচনা আছে, গত নির্বাচনে মার্কিন সমর্থন পাওয়ার জন্যই জামায়াত ‘শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা চায় না’ বলে বক্তব্য আসে দলটির ভেতর থেকে। তখন বাংলাদেশে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। নির্বাচনের আগে গত ২২ জানুয়ারি দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তাদের হাতে আসা অডিও রেকর্ডিং অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বাংলাদেশের বৃহত্তম ইসলামপন্থী দলটি তাদের সর্বকালের সেরা ফল করতে চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন কূটনীতিকরা দলটির সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে চাইছেন। সেই প্রতিবেদনে এক মার্কিন কূটনীতিক জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন বলে জানানো হয়। ওই কূটনীতিক বলেছিলেন, তিনি বিশ্বাস করেন না জামায়াত শরিয়াহ আইন চাপিয়ে দিতে পারবে।
জামায়াতে ইসলামী ওই সময় বলে, তারা ক্ষমতায় গেলে সরাসরি শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার কর্মসূচি নিয়ে এগোবে না; বরং দেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যেই রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। এই বক্তব্য সামনে এলে অনেকেই বলেন, এটি আসলে আদর্শগত পরিবর্তন নয়, বরং নির্বাচনী কৌশল ছিল। তবে গত নির্বাচনে প্রবল চেষ্টার পরও শেষ মুহূর্তে জামায়াত পশ্চিমা শক্তির সমর্থন পায়নি বলে গুঞ্জন আছে। তবে আগামীতে ‘ক্ষমতায় যেতে’ দলটি মার্কিন সমর্থন ধরে রাখতে চায়।
ইরান সরকারের সঙ্গেও জামায়াতের কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক সখ্য নেই। তবে সুন্নি ইসলামপন্থী ধারার দল জাময়াত বাংলাদেশে সব ধারার মুসলমানদের নেতৃত্ব দিতে চায়। সেজন্য শিয়াপন্থী হলেও ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চায় দলটি।
এ জন্য হেফাজতে ইসলামের আমির মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী জামায়াতের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দিলেও সংসদের বিরোধী দলটি রাজনীতির মাঠে কোনো মন্তব্যই করেনি। তবে অনেকে মনে করেন, ইসলামীপন্থী দল হলেও জামায়াত ইরান যুদ্ধ নিয়ে ইসরায়েলের নীতির সমালোচনা প্রকাশ্যে করেছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছে ‘রয়েসয়ে’। এক্ষেত্রে জামায়াত তার মিত্রদের সামনে এগিয়ে দেয়। আর নিজে কর্মসূচি দেয় ‘সময়-সুযোগ’ বুঝে।
জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা রয়েছে। অনেকে মনে করেন, তুরস্কের ক্ষমতাসীন দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একে পার্টি) এবং জামায়াত একই মতাদর্শে বিশ্বাসী। এ জন্য বিভিন্ন সময়ে জামায়াত নিয়ে তুরস্কের ক্ষমতাসীনরা প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন। যুদ্ধাপরাধের বিচার ইস্যুতেও জামায়াতের প্রধান সমর্থক ছিল তুরস্ক। সে সময় তুরস্ক সরকার এই ইস্যুতে একরকম প্রকাশ্যে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারকে ‘চাপ’ দিয়েছিল।
যুদ্ধাপরাধের বিচার পর্যবেক্ষণে দুই দফায় প্রতিনিধি দল পাঠায় দেশটি। জামায়াতের সুরে তুরস্ক একাধিকবার বলেছে–ওই বিচার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হয়নি।
জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের অনেক নেতা তুরস্কের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষার জন্য যান। তাদের বৃত্তি দেওয়া হয়। তুরস্কে জামায়াতের কর্মীদের নিয়মিত রাজনৈতিক প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া তুরস্কের ক্ষমতাসীনরা ক্ষমতায় যেতে জামায়াতকে ‘ইসলামীকরণ’ ও ‘আধুনিকীকরণ’-এর সমন্বয় শেখাচ্ছে। পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক রেখে কীভাবে ‘ইসলামীকরণের’ মধ্য দিয়ে ‘জনভিত্তি’ তৈরি এবং এ ক্ষেত্রে উন্নতি করতে হবে, সে বিষয়ে জামায়াতের জন্য তুরস্ক ‘বিশ্বস্ত পথপ্রদর্শক’।
তবে জামায়াতের সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তুরস্কের একে পার্টির সঙ্গে দলটির কোনো গোপন সম্পর্ক নেই। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে ‘জামায়াতের তুরস্ক কানেকশন এবং একাত্তরের পাপ’ শীর্ষক প্রতিবেদনের পর ওই বিবৃতি দেয় জামায়াত। বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীলরা তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনটিকে, ‘সম্পূর্ণ অসত্য’, ‘ভিত্তিহীন’, ‘বানোয়াট’ এবং ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উল্লেখ করেন।
ওই বিবৃতিতে দাবি করা হয়, “তুরস্কের সঙ্গে ব্যবসা করা বাংলাদেশিদের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী পরিচালিত মাদ্রাসা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অর্থায়নের যে দাবি করা হয়েছে, সেটিও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”
রাজনৈতিক অঙ্গনের অনেকেই মনে করেন তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর ‘এই রাখঢাকের’ কারণ যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হতে পারে–এ জন্যই জামায়াত এই মুহূর্তে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তুরস্ক নিয়ে এমন বিবৃতি দিয়েছে, যাতে আগামীতে জামায়াতের ক্ষমতায় যাওয়ার ক্ষেত্র সৃষ্টি হলে যুক্তরাষ্ট্র কোনো বাধা হয়ে না দাঁড়িয়ে উল্টো আগ্রহ প্রকাশ করে। মূল কথা–এই মুহূর্তে জামায়াত এমন কিছু করতে চায় না, যাতে যুক্তরাষ্ট্র ক্ষুদ্ধ হয়।
জামায়াত বাংলাদেশের নিজস্ব রাজনৈতিক বলয় তৈরিতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান দলটিকে সেই সুযোগ করে দিয়েছে। এ জন্য দলটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে তাদের অবস্থানে ‘স্বাতন্ত্র্য’ রাখতে চায় বলেই মনে হয়।
এ জন্য তারা পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্ক তৈরি করতে চায়। যুক্তরাষ্ট্রও জামায়াতকে ‘মডারেট মুসলিম’ দল বলেই মনে করে। জামায়াত অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নীতির সমালোচনা করলেও এখন এ বিষয়ে ‘অতি সাবধানতা’ অবলম্বন করছে বলে রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে নিজেদের একটি ‘ইসলামী আন্দোলন’ বলে মনে করে। একই সঙ্গে তারা সকল ইসলামী দলের নেতার আসনে বসতে চায়। এই চেষ্টা গত সংসদ নির্বাচনের আগে দেখা গেছে। যদিও শেষ মুহূর্তে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাদের জোট থেকে বেরিয়ে যায়। ফলে ‘বাংলাদেশের একমাত্র ইসলামের নেতৃত্ব’ হওয়ার পথে বাধা পড়ে। এ জন্য ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায়ও মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক রাখা দলটির জন্য জরুরি বিষয়। এ কারণেই অন্য মুসলিম দেশগুলোর মতো ইরানও জামায়াতের কাছে গুরুত্ব পায়।
জামায়াত নেতারা বিভিন্ন বক্তব্যে বলেন, ইসলামের দাওয়াত, ইসলামী মূল্যবোধের প্রসার এবং সমাজে ইসলামী নীতির প্রতিষ্ঠার জন্য তারা কাজ করছেন। সে ক্ষেত্রে জামায়াত ইরানের মডেলে যাবে, নাকি তুরস্কের পথে চলবে–সেটা পরিষ্কার নয়। বিষয়টি নিয়ে কখনো প্রকাশ্যে কিছু বলেনি দলটি।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা রাষ্ট্রের নির্বাচিত সরকারের ওপর গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা রাখেন। রাষ্ট্রব্যবস্থা একটি শিয়া ইসলামি প্রজাতন্ত্রের কাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত। আর তুরস্কের বর্তমান মডেলে বহুদলীয় নির্বাচন, সংসদ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান। যদিও ধর্মীয় ও রক্ষণশীল মূল্যবোধের প্রভাব বেড়েছে। আর দেশটি ইরানের মতো ধর্মীয় নেতৃত্বনির্ভর নয়। সে ক্ষেত্রে অনেকের ধারণা তুরস্ক মডেলেই জামায়াত যেতে পারে। সেটাই তাদের জন্য বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
জামায়াতের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলোয় দেখা যাচ্ছে, তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে চায়; সংবিধান ও নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার কথা বলছে। ইরানের মতো একজন ধর্মীয় নেতার অধীনে রাষ্ট্র পরিচালনার কোনো পরিকল্পনা তারা এখন পর্যন্ত প্রকাশ করেনি।
তবে শেষ পর্যন্ত জামায়াত কী করবে তা হয়তো এখনই বোঝা যাবে না। কারণ, দলটি পরিস্থিতি বুঝে নিজেদের কৌশল বদলায়। সুতরাং সামনের দিনে দলটি কী করবে, তা সময়ই বলে দেবে।

সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে জোরেশোরে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে।
কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর বলেছেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একটি ‘পরীক্ষিত বন্ধু রাষ্ট্র’। ঠিক ওই সময়েই জামায়াতের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতার শেষ বিদায়ে দেশটিতে সফররত ছিল।
সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ ও অভিন্ন লক্ষ্যকে ভিত্তি করে দুই দেশের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে। এই বক্তব্য নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা। মার্কিনিদের ‘বন্ধু’ বলাই এই সমালোচনার একমাত্র কারণ না।
এ থেকেই প্রশ্ন উঠছে, জামায়াত কি আসলে একই সঙ্গে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু? বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একত্রে সখ্য রাখা কীভাবে সম্ভব?
গত শুক্রবার ইরান সরকারের আমন্ত্রণে দেশটির সর্বোচ্চ নেতার জানাজায় অংশ নিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের নেতারা। জামায়াতের নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে রয়েছেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য কেরামত আলী, সংসদ সদস্য নুরুল আমীন ও ডা. এস এম খালিদুজ্জামান। আরও অংশ নিয়েছেন ১১ দলের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা। ওই প্রতিনিধি দলটি গত ২ জুলাই তেহরানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। বুধবার পর্যন্ত দেশটিতে অবস্থান করে আলি খামেনির শেষ বিদায় ও রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠানে অংশ নেন জামায়াত ও তার মিত্ররা।
একই সময়ে বর্তমানে ‘যুদ্ধরত’ দুটি দেশের সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক রাখার ‘চেষ্টা’ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বেশ সমালোচনা চলছে। কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে হাস্যরসও করছেন। কেউ বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের কার্টুনও তৈরি করছেন। অনেকে বলছেন, ঘটনাটি জামায়াতের ‘দ্বৈত’ নীতির একটি প্রমাণ। কারণ, সম্পূর্ণ বিপরীত দুটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বিরোধী দল সমানভাবে সম্পর্ক রাখতে চাইছে।
২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে মার্কিন প্রভাব যেভাবে বেড়েছে, তা বিগত মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলেই স্পষ্ট হয়। ওই সময় থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জামায়াতের সখ্য নিয়ে সরব আলোচনা চলছে। এ জন্য বাংলাদেশে মার্কিন প্রভাব নিয়ে বিরোধী দলে থাকলেও টু শব্দটিও করে না জামায়াত ও তার মিত্ররা।
তাহলে ইরানের সঙ্গে জামায়াতের সখ্য কোথায়? আদর্শগতভাবে জামায়াত ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল। তাদের অবস্থান মূলত ইসলামভিত্তিক রাজনীতি ও দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, যা তারা অক্ষুণ্ন রাখতে চায়। ইরান শিয়াপন্থী রাষ্ট্র হলেও মুসলিম আবেগ নিয়ে রাজনীতি করা জামায়াত বিষয়টিকে নজরে রেখেছে।
গত ১৭ জুন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রহিমি জাহানাবাদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জামায়াত আমির। সে সময় দুই দেশের মধ্যে ‘পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ’ গঠন নিয়েও আলোচনা করেন শফিকুর রহমান। এর এক সপ্তাহ আগে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে।
রাজনৈতিক মহলে আলোচনা আছে, গত নির্বাচনে মার্কিন সমর্থন পাওয়ার জন্যই জামায়াত ‘শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা চায় না’ বলে বক্তব্য আসে দলটির ভেতর থেকে। তখন বাংলাদেশে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। নির্বাচনের আগে গত ২২ জানুয়ারি দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তাদের হাতে আসা অডিও রেকর্ডিং অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বাংলাদেশের বৃহত্তম ইসলামপন্থী দলটি তাদের সর্বকালের সেরা ফল করতে চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন কূটনীতিকরা দলটির সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে চাইছেন। সেই প্রতিবেদনে এক মার্কিন কূটনীতিক জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন বলে জানানো হয়। ওই কূটনীতিক বলেছিলেন, তিনি বিশ্বাস করেন না জামায়াত শরিয়াহ আইন চাপিয়ে দিতে পারবে।
জামায়াতে ইসলামী ওই সময় বলে, তারা ক্ষমতায় গেলে সরাসরি শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার কর্মসূচি নিয়ে এগোবে না; বরং দেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যেই রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। এই বক্তব্য সামনে এলে অনেকেই বলেন, এটি আসলে আদর্শগত পরিবর্তন নয়, বরং নির্বাচনী কৌশল ছিল। তবে গত নির্বাচনে প্রবল চেষ্টার পরও শেষ মুহূর্তে জামায়াত পশ্চিমা শক্তির সমর্থন পায়নি বলে গুঞ্জন আছে। তবে আগামীতে ‘ক্ষমতায় যেতে’ দলটি মার্কিন সমর্থন ধরে রাখতে চায়।
ইরান সরকারের সঙ্গেও জামায়াতের কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক সখ্য নেই। তবে সুন্নি ইসলামপন্থী ধারার দল জাময়াত বাংলাদেশে সব ধারার মুসলমানদের নেতৃত্ব দিতে চায়। সেজন্য শিয়াপন্থী হলেও ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চায় দলটি।
এ জন্য হেফাজতে ইসলামের আমির মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী জামায়াতের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দিলেও সংসদের বিরোধী দলটি রাজনীতির মাঠে কোনো মন্তব্যই করেনি। তবে অনেকে মনে করেন, ইসলামীপন্থী দল হলেও জামায়াত ইরান যুদ্ধ নিয়ে ইসরায়েলের নীতির সমালোচনা প্রকাশ্যে করেছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছে ‘রয়েসয়ে’। এক্ষেত্রে জামায়াত তার মিত্রদের সামনে এগিয়ে দেয়। আর নিজে কর্মসূচি দেয় ‘সময়-সুযোগ’ বুঝে।
জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা রয়েছে। অনেকে মনে করেন, তুরস্কের ক্ষমতাসীন দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একে পার্টি) এবং জামায়াত একই মতাদর্শে বিশ্বাসী। এ জন্য বিভিন্ন সময়ে জামায়াত নিয়ে তুরস্কের ক্ষমতাসীনরা প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন। যুদ্ধাপরাধের বিচার ইস্যুতেও জামায়াতের প্রধান সমর্থক ছিল তুরস্ক। সে সময় তুরস্ক সরকার এই ইস্যুতে একরকম প্রকাশ্যে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারকে ‘চাপ’ দিয়েছিল।
যুদ্ধাপরাধের বিচার পর্যবেক্ষণে দুই দফায় প্রতিনিধি দল পাঠায় দেশটি। জামায়াতের সুরে তুরস্ক একাধিকবার বলেছে–ওই বিচার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হয়নি।
জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের অনেক নেতা তুরস্কের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষার জন্য যান। তাদের বৃত্তি দেওয়া হয়। তুরস্কে জামায়াতের কর্মীদের নিয়মিত রাজনৈতিক প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া তুরস্কের ক্ষমতাসীনরা ক্ষমতায় যেতে জামায়াতকে ‘ইসলামীকরণ’ ও ‘আধুনিকীকরণ’-এর সমন্বয় শেখাচ্ছে। পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক রেখে কীভাবে ‘ইসলামীকরণের’ মধ্য দিয়ে ‘জনভিত্তি’ তৈরি এবং এ ক্ষেত্রে উন্নতি করতে হবে, সে বিষয়ে জামায়াতের জন্য তুরস্ক ‘বিশ্বস্ত পথপ্রদর্শক’।
তবে জামায়াতের সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তুরস্কের একে পার্টির সঙ্গে দলটির কোনো গোপন সম্পর্ক নেই। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে ‘জামায়াতের তুরস্ক কানেকশন এবং একাত্তরের পাপ’ শীর্ষক প্রতিবেদনের পর ওই বিবৃতি দেয় জামায়াত। বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীলরা তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনটিকে, ‘সম্পূর্ণ অসত্য’, ‘ভিত্তিহীন’, ‘বানোয়াট’ এবং ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উল্লেখ করেন।
ওই বিবৃতিতে দাবি করা হয়, “তুরস্কের সঙ্গে ব্যবসা করা বাংলাদেশিদের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী পরিচালিত মাদ্রাসা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অর্থায়নের যে দাবি করা হয়েছে, সেটিও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”
রাজনৈতিক অঙ্গনের অনেকেই মনে করেন তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর ‘এই রাখঢাকের’ কারণ যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হতে পারে–এ জন্যই জামায়াত এই মুহূর্তে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তুরস্ক নিয়ে এমন বিবৃতি দিয়েছে, যাতে আগামীতে জামায়াতের ক্ষমতায় যাওয়ার ক্ষেত্র সৃষ্টি হলে যুক্তরাষ্ট্র কোনো বাধা হয়ে না দাঁড়িয়ে উল্টো আগ্রহ প্রকাশ করে। মূল কথা–এই মুহূর্তে জামায়াত এমন কিছু করতে চায় না, যাতে যুক্তরাষ্ট্র ক্ষুদ্ধ হয়।
জামায়াত বাংলাদেশের নিজস্ব রাজনৈতিক বলয় তৈরিতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান দলটিকে সেই সুযোগ করে দিয়েছে। এ জন্য দলটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে তাদের অবস্থানে ‘স্বাতন্ত্র্য’ রাখতে চায় বলেই মনে হয়।
এ জন্য তারা পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্ক তৈরি করতে চায়। যুক্তরাষ্ট্রও জামায়াতকে ‘মডারেট মুসলিম’ দল বলেই মনে করে। জামায়াত অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নীতির সমালোচনা করলেও এখন এ বিষয়ে ‘অতি সাবধানতা’ অবলম্বন করছে বলে রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে নিজেদের একটি ‘ইসলামী আন্দোলন’ বলে মনে করে। একই সঙ্গে তারা সকল ইসলামী দলের নেতার আসনে বসতে চায়। এই চেষ্টা গত সংসদ নির্বাচনের আগে দেখা গেছে। যদিও শেষ মুহূর্তে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাদের জোট থেকে বেরিয়ে যায়। ফলে ‘বাংলাদেশের একমাত্র ইসলামের নেতৃত্ব’ হওয়ার পথে বাধা পড়ে। এ জন্য ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায়ও মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক রাখা দলটির জন্য জরুরি বিষয়। এ কারণেই অন্য মুসলিম দেশগুলোর মতো ইরানও জামায়াতের কাছে গুরুত্ব পায়।
জামায়াত নেতারা বিভিন্ন বক্তব্যে বলেন, ইসলামের দাওয়াত, ইসলামী মূল্যবোধের প্রসার এবং সমাজে ইসলামী নীতির প্রতিষ্ঠার জন্য তারা কাজ করছেন। সে ক্ষেত্রে জামায়াত ইরানের মডেলে যাবে, নাকি তুরস্কের পথে চলবে–সেটা পরিষ্কার নয়। বিষয়টি নিয়ে কখনো প্রকাশ্যে কিছু বলেনি দলটি।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা রাষ্ট্রের নির্বাচিত সরকারের ওপর গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা রাখেন। রাষ্ট্রব্যবস্থা একটি শিয়া ইসলামি প্রজাতন্ত্রের কাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত। আর তুরস্কের বর্তমান মডেলে বহুদলীয় নির্বাচন, সংসদ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান। যদিও ধর্মীয় ও রক্ষণশীল মূল্যবোধের প্রভাব বেড়েছে। আর দেশটি ইরানের মতো ধর্মীয় নেতৃত্বনির্ভর নয়। সে ক্ষেত্রে অনেকের ধারণা তুরস্ক মডেলেই জামায়াত যেতে পারে। সেটাই তাদের জন্য বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
জামায়াতের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলোয় দেখা যাচ্ছে, তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে চায়; সংবিধান ও নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার কথা বলছে। ইরানের মতো একজন ধর্মীয় নেতার অধীনে রাষ্ট্র পরিচালনার কোনো পরিকল্পনা তারা এখন পর্যন্ত প্রকাশ করেনি।
তবে শেষ পর্যন্ত জামায়াত কী করবে তা হয়তো এখনই বোঝা যাবে না। কারণ, দলটি পরিস্থিতি বুঝে নিজেদের কৌশল বদলায়। সুতরাং সামনের দিনে দলটি কী করবে, তা সময়ই বলে দেবে।