Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

মেড ইন চায়না: সুযোগ নাকি হুমকি?

ইয়াসিন আরাফাত

ইয়াসিন আরাফাত

প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৩: ০৮
মেড ইন চায়না: সুযোগ নাকি হুমকি?

চীনের অর্থনীতি ও উৎপাদন ক্ষমতা বর্তমানে এমন এক স্তরে পৌঁছেছে, যা সংখ্যায় প্রকাশ করা কঠিন। বৈশ্বিক উৎপাদনের ৩০ শতাংশের বেশি এখন চীন একাই করছে, যা আমেরিকা, জার্মানি, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্মিলিত উৎপাদনের চেয়েও বেশি। এই দাপট শুধু বৈশ্বিক বাণিজ্যের ভারসাম্যই বদলাচ্ছে না, বরং বিদেশি প্রতিদ্বন্দ্বী ও সরকারগুলোকে আতঙ্কে ফেলছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্টের এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, চীনা পণ্য ক্রমশ আরও সস্তা হয়ে উঠছে। কারণ, চীনের প্রতিষ্ঠানগুলো একদিকে দক্ষ, অন্যদিকে দাম নিয়ে প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে আছে। টানা প্রায় তিন বছর ধরে চীনা পণ্যের দাম পড়তে থাকায় বহু কোম্পানি লোকসানে পড়েছে এবং বিদেশি বাজারে ঝুঁকছে, যেখানে মুনাফা তুলনামূলক ভালো।

করোনাভাইরাস মহামারির আগে বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ রপ্তানি কনটেইনারে ছিল চীনের পণ্য; এখন তা বেড়ে ৩৬ শতাংশ ছাড়িয়েছে। অথচ বিশ্ব জিডিপির মাত্র এক-পঞ্চমাংশই চীনের দখলে। চীন নিজ বাজারে বিদেশি কোম্পানিগুলোর জন্য কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছে- বিশেষ করে চিপ, চিকিৎসা সরঞ্জাম থেকে শুরু করে নানা কৌশলগত খাতে। কমিউনিস্ট পার্টি স্বল্পমেয়াদি প্রবৃদ্ধির চেয়ে অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির কারণে আমেরিকায় রপ্তানি কমলেও, চীনের সামগ্রিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত এই বছরে এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে। আফ্রিকা, এশিয়া, ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকায় রপ্তানি রেকর্ড গড়ছে। ব্রাজিলিয়া থেকে বার্লিন ও ব্যাংকক পর্যন্ত রাজনীতিবিদরা চীনা প্রতিযোগিতা থেকে নিজেদের শিল্পকে রক্ষার দাবির মুখে আছেন। কিন্তু একই সময়ে ভবিষ্যৎ শিল্প-যেমন ব্যাটারি উৎপাদন গড়ে তুলতে চীনা বিনিয়োগও চাইছেন। ফলে চীনকে প্রতিরোধ করায় তাদের আগ্রহ সীমিত।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
trump

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের শুল্ক বৃদ্ধির চাপে আমেরিকা অভিমুখে রপ্তানি কমে গেলেও আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নতুন রেকর্ড গড়ছে।

বার্তা সংস্থার এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের বাণিজ্যিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে শুধু ব্যালান্স অব ট্রেড দিয়ে বোঝা যাবে না। একদিকে, অভ্যন্তরীণ বাজারে বিদেশি পণ্যের প্রবেশ কঠোর নিয়ন্ত্রিত। অন্যদিকে, তারা রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য নতুন নীতিমালা নিচ্ছে-যেমন ২০২৬ সাল থেকে বৈদ্যুতিক যানবাহন রপ্তানিতে লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দিয়েছে।

xi jinping

শি জিনপিং প্রকাশ্যে স্বীকার করছেন, চীনে লোকসানে থাকা কারখানা অনেক। কিন্তু তিনি এখনও শিল্পকে অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক শক্তির কেন্দ্রবিন্দু মনে করছেন। ২০২৬–২০৩০ সালের নতুন পাঁচ বছর মেয়াদী পরিকল্পনায় চীন বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে অগ্রাধিকার এবং পশ্চিমা নিয়ন্ত্রণ মোকাবিলায় ‘মনোযোগ-সন্ধানী’ উদ্ভাবনে জোর দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

বিদেশি নেতারা বেইজিং সফরে গিয়ে তাদের কোম্পানিগুলোর জন্য ন্যায্য আচরণ বা চীনের অর্থনীতি পুনর্গঠনের দাবি তুললেও, চীনা কর্মকর্তারা তা অস্বীকার করছেন। বরং ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক আচরণের সমালোচনা করে হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, বিদেশি সরকারগুলো যদি চীনা পণ্যের প্রবাহ ঠেকায়, তাহলে তারা প্রতিশোধ নেবে। চীনকে যখন রাশিয়ার হাতে ইউক্রেনে ব্যবহৃত ড্রোন যন্ত্রাংশ না দেওয়ার অনুরোধ করা হয়, তখন বেইজিং তা প্রত্যাখান করে। এক পশ্চিমা কূটনীতিক বলেছেন, চীনের নেতৃত্ব এখন অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী; তারা মনে করছে বাণিজ্যযুদ্ধে তারা ট্রাম্পকে হারাচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এই শিল্পকেন্দ্রিক দৌড় টেকসই নাও হতে পারে। মার্কিন কূটনীতিক সারা বেরানের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন এবার কাঠামোগত সংস্কারের বদলে রাজনৈতিকভাবে লাভজনক খাতে মনোযোগ দিচ্ছে, যা চীনের জন্য সুযোগ তৈরি করছে। একইসঙ্গে বিরল খনিজ রপ্তানির নিয়ন্ত্রণ চীনকে স্বল্পমেয়াদে শক্তিশালী করলেও, দীর্ঘমেয়াদে দেশগুলো বিকল্প উৎস খুঁজে নিতে পারে।

ট্রাম্প ক্ষমতায় এসেছিলেন এক ‘ঐতিহাসিক শিল্পবিপ্লব’ আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে। হাস্যকর বিষয় হলো, সেই বিপ্লব যদি সত্যিই সফল হয়, তবে তা ঘটতে পারে চীনেই।

আমেরিকার প্রতি চীনের অবিশ্বাস এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে। কারণ ট্রাম্প একদিকে চীনের প্রযুক্তি প্রবেশাধিকার বন্ধ করতে চেয়েছেন, অন্যদিকে আবার তা বিক্রির প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।

এক চীনা অর্থনীতিবিদ বলেছেন, আমেরিকা বড় ভুল করেছে কারণে তারা চীনকে জাগিয়ে তুলেছে। কিন্তু দেশটিকে বিশ্বমানের শিল্প গড়তে ঠেকাতে পারেনি।

সবশেষে, চীন এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত রোবট কারখানা নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এতে স্পষ্ট যে দেশটি বিশ্ব শিল্পে প্রভাব বিস্তারের পরিকল্পনা বদলাতে চায় না। প্রশ্ন হলো-এই শক্তি কি বৈশ্বিক অর্থনীতিকে এগিয়ে নেবে, নাকি এক অস্থিতিশীল প্রতিযোগিতার দিকে ঠেলে দেবে?

বিষয়: আমেরিকারপ্তানিআমদানিপ্রযুক্তিপণ্যবাণিজ্যচীন
সর্বশেষ
  • ১

    উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে সিকৃবিতে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত

  • ২

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ৩

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

  • ৪

    মনপুরায় মেঘনার পাড়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

  • ৫

    মহাখালীতে এসকেএস টাওয়ারের পেছনের ভবনে আগুন

সম্পর্কিত
  • লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    চলতি মাসে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যে লং মার্চ করেছে তাকে সরকারের জন্য ‘ওয়েক আপ কল’ বলে উল্লেখ করছেন জোটটির নেতারা। প্রায় ১ হাজার গাড়ি নিয়ে এই লং মার্চ করে জোটের পক্ষ থেকে সরকারকে ৬ দফা দাবি দেওয়া হয়েছে। জোট নেতারা ওই ৬ দফায় বিদ্যুৎ, গ্যাস সংকট

  • বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    ১৭ বছরের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-গ্রেপ্তার আর রাজনৈতিক চাপ সামলে এখন সরকারে বিএনপি। গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর দলের শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ এখন সরকারের দায়িত্বে ব্যস্ত। মন্ত্রিসভা, সংসদ, প্রশাসন, অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্

  • কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    চীনের সরকার আসলে কী কী বন্ধ করে দেয় – শুধুই কি বিদেশি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়, নাকি দেশের ভেতরে থাকা সমালোচকদের ওপরও এই নিষেধাজ্ঞা আছে, এমন চিন্তাটা আসা খুবই স্বাভাবিক। তবে এখানে সরকারের লক্ষ্য এর চেয়েও বড়।

  • ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পেরিয়েছে। এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে তেলের বাজার তীব্রভাবে প্রভাবিত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে আমেরিকানদের ওপর। গ্যাসের দাম কয়েক সপ্তাহ ধরে ৪ ডলারের বেশি। বন্ধকী ঋণের সুদের হারও বেড়ে প্রায় ৭ শতাংশের দিকে যাচ্ছে। আবার ডিজেলের রেকর্ড