Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

ধর্মেন্দ্র যেভাবে বদলে দিয়েছিলেন বলিউড

১৯৬৬ সালে ‘ফুল অউর পাত্থর’ ছিল তার প্রথম বড় হিট, যেখানে তিনি একটি দৃশ্যে জামা ছাড়াই ক্যামেরার সামনে এসে দর্শকদের চমকে দিয়েছিলেন।

ফাহমিদা শিকদার

ফাহমিদা শিকদার

প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০২৫, ১৮: ৪৭
ধর্মেন্দ্র যেভাবে বদলে দিয়েছিলেন বলিউড

ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এমন কিছু অভিনেতা আছেন, যাদের উত্থান শুধু শিল্পকে সমৃদ্ধ করেনি বরং পুরো চলচ্চিত্র জগতের ভাষা, রীতি ও মানসিকতাকেই বদলে দিয়েছে। ধর্মেন্দ্র তাদের মধ্যে অন্যতম। সমালোচকদের কাছে তিনি ‘হি-ম্যান’ ‘হ্যান্ডসম হিরোর রাজা’। হৃত্বিক রোশনের আগে তাকে বলিউডের ‘গ্রিক গড’ বলা হতো। কিন্তু তার প্রভাব কেবল সৌন্দর্যে সীমাবদ্ধ নয়; তিনি ভারতীয় সিনেমাকে নতুন ধারার অভিনয়, নতুন পুরুষ-ইমেজ, নতুন বর্ণনাভঙ্গি ও নতুন দর্শক-সংস্কৃতি উপহার দিয়েছিলেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

ভারতের পাঞ্জাবের ছোট্ট একটি গ্রাম থেকে অভিনেতা হওয়ার স্বপ্নে মুম্বাই আসেন ধর্মেন্দ্র। চলচ্চিত্রে তার এই যাত্রা সহজ ছিল না। মাইলের পর মাইল হেঁটে যেতেন প্রযোজকদের অফিসে। দিনের পর দিন পেট ভরাতে কেবল ছোলা খেতেন। এই সময় তিনি গ্যারেজে থাকতেন, কারণ মুম্বাইতে তার থাকার কোন জায়গা ছিল না। বেঁচে থাকার জন্য ড্রিলিং ফার্মে কাজ করতেন যেখানে তাকে ২০০ টাকা বেতন দেওয়া হতো এবং অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের জন্য ওভারটাইম করতেন।

'মেলোড্রামাটিক' অভিনয়ের বিপরীতে ধর্মেন্দ্র ছিলেন 'মিনিমাল' অভিনয়ের পথিকৃৎ।
'মেলোড্রামাটিক' অভিনয়ের বিপরীতে ধর্মেন্দ্র ছিলেন 'মিনিমাল' অভিনয়ের পথিকৃৎ।

এটা বিশ্বাস করা কঠিন, ধর্মেন্দ্র ষাটের দশকে ‘আনপড়’, ‘বন্দিনী’, ‘অনুপমা’ এবং ‘আয়া সাওয়ান ঘুম কে’-এর মতো সিনেমায় সাধারণ মানুষের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। ১৯৬৬ সালে ‘ফুল অউর পাত্থর’ ছিল তার প্রথম বড় হিট, যেখানে তিনি একটি দৃশ্যে জামা ছাড়াই ক্যামেরার সামনে এসে দর্শকদের চমকে দিয়েছিলেন। এজন্য তিনি সমালোচনা এবং প্রশংসা উভয়ই অর্জন করেছিলেন।

‘মাচো’ ইমেজের নতুন সংজ্ঞা

Advertisement
Advertisement
Advertisement

ষাটের দশকের আগের ভারতীয় নায়করা ছিলেন মূলত রোম্যান্টিক, নরম স্বভাবের এবং গানকেন্দ্রিক চরিত্রে বেশি দেখা যেত। ধর্মেন্দ্র এসে সেই ছবিটি পুরো বদলে দিলেন। তার শক্তিশালী শরীর, আত্মবিশ্বাসী দৃষ্টিভঙ্গি ও স্বতঃস্ফূর্ত অ্যাকশন তাকে ভারতের প্রথম পূর্ণাঙ্গ অ্যাকশন-হিরোদের একজন করে তোলে। ‘ফুল অউর পাত্থর’, ‘শোলে’, ‘ধরম-বীর’ কিংবা ‘ইয়াদোঁ কি বারাত’- সব জায়গাতেই তিনি দেখালেন, নায়ক শুধু নাচ-গান করবে না; সে লড়বে, রক্ষা করবে এবং অ্যাকশনের মধ্যেও আবেগের জায়গা ধরে রাখবে। তার পরেই বলিউডে অ্যাকশন নায়ক একটি আলাদা ট্রেন্ড হয়ে ওঠে, যা পরবর্তী প্রজন্মের সানি দেওল, অক্ষয় কুমার, হৃত্বিক রোশনদের পথ তৈরি করে দেয়।

মিনিমাল অভিনয়ের পথিকৃৎ

ধর্মেন্দ্র অভিনয়ে কখনো অতিরঞ্জন পছন্দ করতেন না। তার সংলাপ বলার ধরন ছিল নির্ভার, চোখের ভাষা ছিল পরিষ্কার এবং আবেগ প্রকাশ ছিল খুবই স্বাভাবিক। এই স্টাইলটি তখনকার মূলধারার ‘মেলোড্রামাটিক’ অভিনয়ের বিপরীত এক প্রবাহ তৈরি করে। তিনি দেখালেন, হিরো হওয়ার জন্য গলা চড়াতে হয় না; স্বাভাবিক অঙ্গভঙ্গির মিনিমাল অভিনয় এবং চোখের অভিব্যক্তি গল্পকে এগিয়ে নিতে পারে।

রোম্যান্সে সংযম ও মর্যাদাবোধ

‘সীতা অউর গীতা’, ‘চুপকে চুপকে’, ‘আনপড়’, ‘কাজল’- এই ছবিগুলোতে রোম্যান্টিক ধর্মেন্দ্র ছিলেন সমসাময়িক নায়কদের থেকে একদম আলাদা। তিনি কোমল, স্নিগ্ধ, সংযত। তার রোম্যান্স ছিল ‘গ্ল্যামার’- এর চেয়েও বেশি ‘জেন্টেলম্যান’-ধর্মী, যা নায়িকার প্রতি সম্মানকে গুরুত্ব দেয়। ভারতীয় দর্শক প্রথম দেখল, রোম্যান্স মানেই নয় অতিরিক্ত নাটক নয়। এটি হতে পারে শ্রদ্ধাশীল ও হাস্যরসপূর্ণ।

'সংবেদনশীল' চরিত্রে ধর্মেন্দ্র ছিলেন অনন্য।
'সংবেদনশীল' চরিত্রে ধর্মেন্দ্র ছিলেন অনন্য।

বহুমুখী চরিত্রের ‘ক্ল্যাসিক স্টার’

ধর্মেন্দ্র ছিলেন বৈচিত্র্যময়। মাচো ম্যান বা অ্যাকশন হিরোর বাইরে গিয়েও নিজের অভিনয় নিয়ে বেশ নিরীক্ষা করেছেন। অনেক পরিচালক মনে করতেন সংবেদনশীল চরিত্রের জন্য ধর্মেন্দ্র সেরা। ‘শোলে’র বীর, ‘চুপকে চুপকে’র অধ্যাপক, ‘আঁখে’র দেশপ্রেমী স্পাই, ‘সত্যকাম’র সত্যপ্রিয়া আচার্যর মতো আদর্শিক চরিত্রগুলোতে তিনি ছিলেন অনন্য। দর্শকের কাছে তিনি এক ঘরানার নায়ক নন বরং বহুরূপী অভিনেতা।

বলিউড ‘হি-ম্যান’ ধর্মেন্দ্রের চিরবিদায়Dharmendra (1)

ভরসা জাগানো 'মধ্যবিত্ত' নায়ক

ধর্মেন্দ্রকে দর্শক ভালোবাসত কারণ তিনি সেই যুগের ভারতীয় যুবকের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। সৎ, পরিশ্রমী, পরিবারের জন্য সর্বস্ব বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত, কিন্তু নিজের মর্যাদা নিয়ে আপসহীন। এই ইমেজ ভারতীয় সামাজিক-বাস্তবতার সঙ্গে গভীরভাবে মিলে যায়।

দর্শক এমন নায়কের মাঝে নিজের জীবনের প্রতিফলন খুঁজে পায়। এজন্য ধর্মেন্দ্র ‘সবার’ হয়ে ওঠেন।

ব্যবসায়ী ও শিল্পী- দুই দিকেই সমান সফল

ধর্মেন্দ্র শুধু সফল অভিনেতাই নন; তিনি ‘বর্মা প্রোডাকশনস’ (পরে ভিজিআই) প্রতিষ্ঠা করে নতুন প্রতিভা, নতুন পরিচালক এবং নতুন ধারার ছবি প্রযোজনা করেন। তার প্রযোজনায় তৈরি ‘বেতাব’, ‘ঘায়াল’, ‘দিল্লেগি’, ‘আপনে’- সবই ভারতীয় বাণিজ্যিক ছবিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

পরবর্তী প্রজন্মের অনুপ্রেরণা

অমিতাভ বচ্চন বহুবার বলেছেন, ধর্মেন্দ্র তার সবচেয়ে প্রিয় সহ-অভিনেতা। নারী সহকর্মীদের কাছেও তিনি ছিলেন সমানভাবে জনপ্রিয়। আজকের বেশিরভাগ অ্যাকশন-হিরোও তাকে রোল মডেল মনে করেন। পরবর্তী ৪-৫ প্রজন্মের অভিনেতাদের কাছে ধর্মেন্দ্র ‘ভারতীয় পুরুষত্ব, শ্রদ্ধাশীল রোম্যান্স ও ন্যাচারাল অভিনয়ের মিলিত প্রতীক।’

ধর্মেন্দ্র শুধু বলিউডকে বদলাননি; তিনি দর্শকের নায়ক চিন্তাকে বদলে দিয়েছিলেন। তার মধ্যে ছিল শক্তি, সৌন্দর্য, কোমলতা, রসিকতা এবং মানবিকতা- যা একসঙ্গে ভারতীয় সিনেমাকে নিয়ে গেছে এক নতুন যুগে।

বিষয়: সিনেমাপাঞ্জাববলিউডঅভিনেতাইতিহাসভারতচলচ্চিত্র
সর্বশেষ
  • ১

    উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে সিকৃবিতে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত

  • ২

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ৩

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

  • ৪

    মনপুরায় মেঘনার পাড়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

  • ৫

    মহাখালীতে এসকেএস টাওয়ারের পেছনের ভবনে আগুন

সম্পর্কিত
  • লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    চলতি মাসে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যে লং মার্চ করেছে তাকে সরকারের জন্য ‘ওয়েক আপ কল’ বলে উল্লেখ করছেন জোটটির নেতারা। প্রায় ১ হাজার গাড়ি নিয়ে এই লং মার্চ করে জোটের পক্ষ থেকে সরকারকে ৬ দফা দাবি দেওয়া হয়েছে। জোট নেতারা ওই ৬ দফায় বিদ্যুৎ, গ্যাস সংকট

  • বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    ১৭ বছরের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-গ্রেপ্তার আর রাজনৈতিক চাপ সামলে এখন সরকারে বিএনপি। গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর দলের শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ এখন সরকারের দায়িত্বে ব্যস্ত। মন্ত্রিসভা, সংসদ, প্রশাসন, অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্

  • কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    চীনের সরকার আসলে কী কী বন্ধ করে দেয় – শুধুই কি বিদেশি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়, নাকি দেশের ভেতরে থাকা সমালোচকদের ওপরও এই নিষেধাজ্ঞা আছে, এমন চিন্তাটা আসা খুবই স্বাভাবিক। তবে এখানে সরকারের লক্ষ্য এর চেয়েও বড়।

  • ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পেরিয়েছে। এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে তেলের বাজার তীব্রভাবে প্রভাবিত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে আমেরিকানদের ওপর। গ্যাসের দাম কয়েক সপ্তাহ ধরে ৪ ডলারের বেশি। বন্ধকী ঋণের সুদের হারও বেড়ে প্রায় ৭ শতাংশের দিকে যাচ্ছে। আবার ডিজেলের রেকর্ড