Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ
পর্ব: ২

নেপালে আকাশচুম্বী প্রত্যাশা পূরণে কতটা প্রস্তুত বালেন-লামিচানেরা?

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯: ০০
নেপালে আকাশচুম্বী প্রত্যাশা পূরণে কতটা প্রস্তুত বালেন-লামিচানেরা?

নেপালের রাজনীতিতে গত কয়েক বছরে যে নাটকীয় পট পরিবর্তন হয়েছে, তার মূলে রয়েছে প্রথাগত দলগুলোর বাইরে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি এবং পুরনো দলগুলোর প্রতি জনগণের অনীহার সুযোগ নিয়ে নতুন ধারার দলগুলো যখন ক্ষমতায় বা মূলধারার রাজনীতিতে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে, তখন থেকেই নেপালের অভ্যন্তরীণ ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

আরএসপির উত্থান

২০২২ সালের সাধারণ নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে গঠিত হয়েছিল আরএসপি। যার নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক টিভি উপস্থাপক রবি লামিচানে। দুর্নীতিবিরোধী প্ল্যাটফর্ম নিয়ে লড়ে প্রথম নির্বাচনী যাত্রাতেই ২১টি আসন জিতে চতুর্থ বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয় দলটি। পরবর্তীতে এটি মাওবাদী ও ইউএমএল এর নেতৃত্বাধীন জোট সরকারে যোগ দেয় এবং লামিচানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিযুক্ত হন। তবে তার মেয়াদ ছিল নানা বিতর্কে ঘেরা। সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে, আমেরিকান নাগরিকত্ব ত্যাগ করার পর তিনি পুনরায় নেপালি নাগরিকত্ব গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছেন। এছাড়া বেশ কিছু সমবায় সমিতির অর্থ আত্মসাতের কেলেঙ্কারিতেও তার নাম জড়ায়।

লামিচানে একটি সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে ‘উইচ হান্ট’ বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানির অভিযোগ তোলেন এবং একাধিক নাগরিকত্ব রাখার অভিযোগে নেপালের বৃহত্তম মিডিয়া হাউসের প্রকাশককে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। ২০২৪ সালের অক্টোবরে আত্মসাৎ মামলায় কথিত ভূমিকার জন্য লামিচানেকে জেল খাটতে হয়। ‘জেন জি’ আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে বিক্ষোভকারীরা যাদের মধ্যে একজন তাদের দলের সদস্য ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছিল তাকেও জেল থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আত্মসমর্পণ এবং জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর লামিচানে আবারও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। জানুয়ারি মাসে অ্যাটর্নি জেনারেল তার বিরুদ্ধে অর্থপাচার এবং সংগঠিত অপরাধের অভিযোগ তুলে নেন। এসব বিতর্ক সত্ত্বেও আরএসপির রাজনৈতিক আবেদন অক্ষুণ্ণ ছিল।

নেপালি রাজনীতির প্রথাগত দলগুলোর মতো আরএসপির কোনো সুনির্দিষ্ট আদর্শিক পরিচয় নেই। বামপন্থী দলগুলোর বাইরে নেপালি কংগ্রেস গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের প্রতিনিধিত্ব করে। আর বেশ কিছু আঞ্চলিক দল, বিশেষ করে মাধেশ অঞ্চলে পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতি বা আইডেন্টিটি পলিটিক্স নিয়ে কাজ করে। এর বিপরীতে আরএসপির প্রধান আকর্ষণ হলো একটি বিকল্প রাজনীতির প্রস্তাব দেওয়া, যা নীতি নির্ধারণ ও শাসনে পুরনো দলগুলোর একাধিপত্য ভাঙতে চায় এবং দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেয়।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

১৯৯০ সালে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পর থেকে নেপালিদের মূলত তিনটি ধারার মধ্যে বেছে নিতে হতো, যার মধ্যে ছিল বামপন্থী, নেপালি কংগ্রেস এবং আঞ্চলিক দল। সাম্প্রতিক নির্বাচনে আরএসপি একটি সুসংগত বিকল্প উপস্থাপন করেছে। তাদের প্রার্থীরা ছিলেন আদর্শিক বাছ-বিচারের ঊর্ধ্বে, নীতি-নির্ধারণী দক্ষতাসম্পন্ন টেকনোক্র্যাট, আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণ নেতা, পুরনো দলে জায়গা না পাওয়া রাজনৈতিক ব্যক্তি, সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী এলিট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। কার্যকরভাবে বলতে গেলে, এই দলটি একটি ‘ছাতা সংগঠন’, যা টেকনোক্র্যাটিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সুশাসনের সংস্কারের আওতায় পুরনো দলগুলোর প্রতি অসন্তুষ্ট মানুষদের একত্রিত করেছে।

পুরনো রাজনীতির পতন, নতুনের উত্থান, কোন পথে নেপাল?Balen shah $$

আরএসপি নিজেকে জেন জি আন্দোলনের দাবিগুলোর রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে উপস্থাপন করেছে এবং বালেন শাহের জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে নির্বাচনকে একটি প্রেসিডেনসিয়াল ধাঁচের প্রচারণায় রূপান্তর করেছে। যেখানে শাহকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তুলে ধরা হয়। দলটির প্রচারণা ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত।

শাহ প্রতি আট দিনে একটি করে সমাবেশে ভাষণ দিতেন এবং প্রতিদিন একাধিক রোড শো চলত। এসব যাত্রাবিরতির সময় শাহ সরাসরি মানুষের সাথে দেখা করতেন, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দেয়। তার বার্তা দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিতে ৬৬০ সদস্যের একটি সোশ্যাল মিডিয়া টিম কাজ করেছে। আরএসপি এমন অনেক প্রার্থীকেও মনোনয়ন দিয়েছিল যাদের বয়স ৪০ এর কম।

আরএসপির এই ভূমিধস বিজয়ের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। একটি ক্রমবর্ধমান দলীয় সংগঠন যা পুরনো দলগুলোর বিকল্প হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যাপক ব্যবহার, প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর প্রতি চরম বিতৃষ্ণা, জেন জি আন্দোলনের অব্যবস্থাপনায় গণ-ক্ষোভ, পরিবর্তনের গভীর আকাঙ্ক্ষা, নেপালের জনমিতিক পরিবর্তন, এবং শাহের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা।

পুরনো দলগুলো, যারা এখনো তৃণমূল নেটওয়ার্ক ও ভাষণের ওপর নির্ভরশীল। তাদের কাছে এর কোনো উত্তর ছিল না। দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দলও তাদের পরাজয়কে ত্বরান্বিত করেছে। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার আগেই ফলাফল স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল।

বিক্ষোভ থেকে ক্ষমতায়

শপথ গ্রহণের প্রাক্কালে শাহ তার র‍্যাপার সত্তায় ফিরে গিয়ে ইউটিউবে ‘জয় মহাকালী’ গানের একটি ভিডিও আপলোড করেন। তার সফল নির্বাচনী প্রচারণার দৃশ্য দিয়ে সম্পাদিত এই গানটি নেপালের বর্তমান জাতীয় আবেগকে ফুটিয়ে তোলে। যেসকল গানের মধ্যে ছিল ‘জয় মা মহাকালী,এলো এবার গোর্খালী,জয় করব এবার বিশ্বকে,ভয়হীন এই নেপালি।’

তবে নেপাল শাসন করা এত সহজ হবে না। বারবার সরকার পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতায় জর্জরিত এই দেশে আরএসপিকে দেওয়া বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা যেমন পুরনো দলগুলোর ব্যর্থতাকে ফুটিয়ে তোলে, তেমনি নতুন সরকারের প্রতি জনগণের আকাশচুম্বী প্রত্যাশাও প্রকাশ করে। সরকারের ১০০ দফার সংস্কার কর্মসূচি নেপালের বিদ্যমান ব্যবস্থার অদক্ষতাগুলোকেই চিহ্নিত করে।

আরএসপি একটি ‘ডেলিভারি-ভিত্তিক শাসন ব্যবস্থা’র কথা বলেছে, যার লক্ষ্য হলো আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে সময়মতো সেবা নিশ্চিত করা। সংস্কার নথিতে সেবার ডিজিটালাইজেশন এবং সরকারি কেনাকাটা ও বিনিয়োগের নিয়ম সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনীতিমুক্ত করার অঙ্গীকার করেছে।

নেপালে বালেন শাহ সফল হলেও বাংলাদেশে ছাত্ররা নয় কেন?July Uprising

জেন জি আন্দোলন থেকে উঠে আসা এই সরকার শুরুতেই কারকি কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়। এই কমিশন আন্দোলনের প্রথম দিনে হত্যাকাণ্ডের জন্য ওলি এবং লেখক সহ অন্যান্য নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছিল। সরকার আদালত থেকে পরোয়ানা নেওয়ার বদলে জরুরি গ্রেপ্তারের পরোয়ানা জারি করে। যা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কি না তা নিয়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

কমিশনের যে রিপোর্টটি ফাঁস হয়েছে, তাতে আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনের সহিংসতা এবং লামিচানের জেল ভাঙার ঘটনা নিয়ে রহস্যজনক নীরবতা পালন করা হয়েছে। শাহকেও মেয়র থাকাকালীন তার উসকানিমূলক পোস্ট এবং সরকারি ভবনে আগুন লাগার সময় ফায়ার সার্ভিস টিমকে পাঠাতে দেরি করার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।

আরএসপি সরকার দ্বিতীয় দিনের সহিংসতার তদন্তে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া ১৯৯১ সাল থেকে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের সম্পদের তদন্ত করারও পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

সংস্কারের পথে বাধা

বিশ্লেষকদের মতে, এই উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারকে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব সামলানোর পাশাপাশি কিছু মন্ত্রীর ‘পপুলিস্ট’ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ওলি এবং লেখকের গ্রেপ্তারের পর নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গুরুং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, “তোমরা ভুল প্রজন্মের সাথে পাঙ্গা নিয়েছো।” ইউএমএল ইতোমধ্যেই ওলির গ্রেপ্তারকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠন নিষিদ্ধ করা এবং শিক্ষক ও আমলাদের রাজনীতি থেকে দূরে রাখার আরএসপির সিদ্ধান্তও ঘর্ষণের সৃষ্টি করেছে। এসব গোষ্ঠী নেপালের প্রতিষ্ঠানগুলোর গভীরে রয়েছে। তাই শুধু একটি ডিক্রি দিয়ে তাদের সরানো সম্ভব নাও হতে পারে।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান এবং মন্ত্রীদের অভিজ্ঞতার অভাব নিয়েও সমালোচনা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গুরুং একজন আন্দোলনকর্মী হলেও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয়ে তার আগের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। এছাড়া সরকারের ৫ বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা এবং ৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন করা বেশ কঠিন হবে। ১২ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নেপালকে আইটি হাবে পরিণত করার প্রতিশ্রুতিও বড় চ্যালেঞ্জ।

অর্থনীতির পাশাপাশি আমলাতন্ত্রের জড়তা কাটাতে হবে। পশ্চিম এশিয়ায় কর্মরত প্রায় ১৯ লাখ নেপালি শ্রমিকের রেমিট্যান্স নেপালের অর্থনীতির বড় অংশ যা ৪০ শতাংশের বেশি। যুদ্ধ বা বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে রেমিট্যান্স ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরকারকে বিপাকে পড়তে হবে। এছাড়া নেপালের ৪০ শতাংশ মানুষ এখনো ইন্টারনেট ব্যবহার করেন না, যা ডিজিটালাইজেশনের পথে বড় বাধা।

সংবিধান পর্যালোচনার প্রস্তাব দিলেও উচ্চকক্ষ এবং প্রাদেশিক সভায় সমর্থন ছাড়া আরএসপির পক্ষে সংবিধান সংশোধন করা সম্ভব হবে না। সংবিধানের ভিত্তি পরিবর্তন করা হিতে বিপরীত হতে পারে। আরএসপি এখন আর কেবল পরিবর্তনের প্রতিনিধি নয়, তারা এখন নিজেই ‘এস্টাবলিশমেন্ট’ বা শাসনব্যবস্থা। জনগণের প্রত্যাশার ভার এখন তাদের কাঁধেই।

নেপালে নির্বাচন: পুরনো রাজনীতিকে ছুড়ে ফেলে এগিয়ে ‘জেন জি’nepal

একটি নতুন রাজনৈতিক যুগ

যাই হোক না কেন, এই মুহূর্তটি নেপালি রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। ঐতিহ্যবাহী কংগ্রেস ও বামপন্থীদের পতনের পাশাপাশি জাতিগত এবং বর্ণভিত্তিক দলগুলোও প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। শাহ তার মাধেসি পরিচয়কে একটি বৃহত্তর নেপালি পরিচয়ের মধ্যে সংহত করেছেন। যা ইঙ্গিত দেয় যে পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতির বদলে এখন জাতি গঠন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নই রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি।

একটি ‘পোস্ট রিপাবলিক’ দল হিসেবে আরএসপি আগের দলগুলোর মতো রাজনৈতিক অধিকার বা সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে দীর্ঘ সংগ্রামের সাথে জড়িত নয়। তারা ১৫ দিনের মধ্যে দলিত ও বঞ্চিত গোষ্ঠীর প্রতি চলে আসা বৈষম্যের জন্য ক্ষমা চাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রশ্ন হলো, একটি প্রযুক্তিগত বা টেকনোক্র্যাটিক দৃষ্টিভঙ্গি কি সমাজের এই গভীর সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারবে?

সরকার পাঁচজন নারী মন্ত্রী নিয়োগ দিয়ে অন্তর্ভুক্তির প্রাথমিক পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে সংসদে এখনও খাস-আর্য জনগোষ্ঠীর আধিপত্য রয়ে গেছে। যা অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যকে বাধাগ্রস্ত করে। আরএসপি তাদের সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব আসনের জন্য সামাজিক এলিটদের বেছে নিয়েছে। যা এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্যকে কিছুটা হালকা করে দেয়।

ওলির গ্রেপ্তারের পর ইউএমএলের বিক্ষোভে জনগণের সাধারণ সাড়া না পাওয়া নির্দেশ করে যে পুরনো দলগুলো এখনও তাদের অবস্থান ফিরে পেতে হিমশিম খাচ্ছে। তবে তাদের একেবারে উড়িয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। তারা নেপালের দ্রুত পরিবর্তনশীল সমাজ এবং তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছিল। তরুণরা রাষ্ট্রকে কেবল সেবা প্রদানের মাধ্যম হিসেবে দেখে, যা আরএসপি সফলভাবে ব্যবহার করেছে।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহের নির্বাচনী পোস্টার। ছবি: রয়টার্স
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহের নির্বাচনী পোস্টার। ছবি: রয়টার্স

বিশ্লেষকদের মতে, যদি পুরনো দলগুলোকে ফিরতে হয় তবে তাদের স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির চক্র ভেঙে সেবামূলক ও অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরির রাজনীতিতে মনোযোগ দিতে হবে। কেবল নেতৃত্বে পরিবর্তন যথেষ্ট হবে না।

এই বছরের নির্বাচনের রায় মানে হলো আরএসপি সরকার এখন জেন জি বিদ্রোহ-পরবর্তী নেপালের গতিপথ নির্ধারণ করবে। নেপালি জনগণের মধ্যে গত দুই দশকে দেখা যায়নি এমন এক অকৃত্রিম আশাবাদ কাজ করছে। যদি আরএসপি দুর্নীতির চক্র ভাঙতে পারে এবং প্রকৃত সংস্কারের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে আশা জাগিয়ে রাখতে পারে, তবে তারা সম্ভবত নেপালি রাজনীতির এক নতুন যুগের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।

তথ্যসূত্র: কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস

বিষয়: নেপালপ্রধানমন্ত্রীদুর্নীতিআন্দোলনঅর্থনীতিনির্বাচনরাজনীতিঅন্তর্বর্তীকালীন সরকারসংবিধান
সর্বশেষ
  • ১

    উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে সিকৃবিতে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত

  • ২

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ৩

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

  • ৪

    মনপুরায় মেঘনার পাড়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

  • ৫

    মহাখালীতে এসকেএস টাওয়ারের পেছনের ভবনে আগুন

সম্পর্কিত
  • লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    চলতি মাসে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যে লং মার্চ করেছে তাকে সরকারের জন্য ‘ওয়েক আপ কল’ বলে উল্লেখ করছেন জোটটির নেতারা। প্রায় ১ হাজার গাড়ি নিয়ে এই লং মার্চ করে জোটের পক্ষ থেকে সরকারকে ৬ দফা দাবি দেওয়া হয়েছে। জোট নেতারা ওই ৬ দফায় বিদ্যুৎ, গ্যাস সংকট

  • বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    ১৭ বছরের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-গ্রেপ্তার আর রাজনৈতিক চাপ সামলে এখন সরকারে বিএনপি। গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর দলের শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ এখন সরকারের দায়িত্বে ব্যস্ত। মন্ত্রিসভা, সংসদ, প্রশাসন, অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্

  • কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    চীনের সরকার আসলে কী কী বন্ধ করে দেয় – শুধুই কি বিদেশি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়, নাকি দেশের ভেতরে থাকা সমালোচকদের ওপরও এই নিষেধাজ্ঞা আছে, এমন চিন্তাটা আসা খুবই স্বাভাবিক। তবে এখানে সরকারের লক্ষ্য এর চেয়েও বড়।

  • ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পেরিয়েছে। এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে তেলের বাজার তীব্রভাবে প্রভাবিত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে আমেরিকানদের ওপর। গ্যাসের দাম কয়েক সপ্তাহ ধরে ৪ ডলারের বেশি। বন্ধকী ঋণের সুদের হারও বেড়ে প্রায় ৭ শতাংশের দিকে যাচ্ছে। আবার ডিজেলের রেকর্ড