ads

কর্মজীবী নারীর সংখ্যা কমছে?

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
কর্মজীবী নারীর সংখ্যা কমছে?
কর্মজীবী নারী ও ট্র্যাডওয়াইফ। ছবি: এআই

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা নিয়মিত তারা হয়তো নারা স্মিথকে চিনতে পারেন। পেশায় তিনি একজন মডেল। তবে তিনি টিকটক ভিডিওর জন্য বেশি পরিচিত।

টিকটকে যেখানে তিনি দৈনন্দিন পছন্দের সব খাবার একেবারে শুরু থেকে তৈরি করে দেখান। পরিপাটি সাজগোজ আর জমকালো গাউন পরে নিখুঁত ও ঝকঝকে রান্নাঘরে বসে বাবল টি, আইসক্রিম কিংবা মার্শম্যালো বানানোর দৃশ্য তিনি ক্যামেরাবন্দি করেন।

Advertisement

আর এসব ভিডিওতে তার স্বামী ও চার সন্তানকে যাতায়াত করতে দেখা যায়। এখানে নারা স্মিথ সোশ্যাল মিডিয়া ট্রেন্ড ট্র্যাডওয়াইফের এক জনপ্রিয় মুখ।

এখন প্রশ্ন হলো- এই ট্র্যাডওয়াইফ বিষয়টা কী?

ট্র্যাডওয়াইফ শব্দটি মূলত ‘ট্র‌্যাডিশনাল ওয়াইফ’ বা গতানুগতিক গৃহবধূর সংক্ষিপ্ত রূপ।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই বিষয়টি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে; যেখানে নারীরা গৃহস্থালি ও মাতৃত্বের ভূমিকাকে সানন্দে গ্রহণ করছেন।

কেউ কেউ একে নারীবাদীদের মাতৃত্ব ও ঘরের কাজকে অবমূল্যায়ন করার প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্র্যাডওয়াইফরা সাধারণত নিজেদের এমন এক একজন গৃহিণী হিসেবে উপস্থাপন করেন, যাদের অনেক সন্তান রয়েছে।

আবার তারা ঘর-সংসার সামলে নিজেরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বীও।

তারা হাঁস-মুরগি পালন করেন, বাগান করেন, নিজেদের বাগানের ফল ও শাকসবজি, নিজেদের তৈরি সাওয়ারডো দিয়ে রুটি বানান; যেকোনো খাবার একদম শুরু থেকে তৈরি করেন, এমনকি ঘরের পরিচ্ছন্নতার সামগ্রীও নিজেরাই বানিয়ে নেন এবং ঘরবাড়ি সবসময় নিখুঁত ও পরিপাটি রাখেন।

গৃহস্থালি জীবন নিয়ে নারা স্মিথের এই পরিবেশনা এমন এক অদ্ভুত সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যখন গত এক প্রজন্মের মধ্যে প্রথমবারের মতো কর্মক্ষেত্রে নারীর অগ্রগতির বেশ কয়েকটি সূচক উল্টো দিকে ঘুরে গেছে।

গত কয়েক দশকে কর্মক্ষেত্রে নারীরা অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন।

বর্তমানে উন্নত বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে পুরুষদের তুলনায় নারী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেশি।

১৯৮০ সালের পর থেকে চিকিৎসা ও আইন পেশার মতো সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকের পেশাগুলোতে নারীদের প্রতিনিধিত্ব প্রায় তিনগুণ বেড়েছে।

চলতি শতাব্দীর শুরুতে যুক্তরাজ্যে কোনো রোগী ডাক্তারের পরামর্শ নিতে গেলে সেখানে পুরুষ ডাক্তার দেখার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত ছিল।

ছবি: উইকিমিডিয়া কমনস
ছবি: উইকিমিডিয়া কমনস

তবে দেশটির সরকারি সংস্থা জেনারেল মেডিকেল কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই পেশায় পুরুষদের তুলনায় নারী চিকিৎসকের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে।

ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে তবে বর্তমানে ইতিহাসে সবচেয়ে উচ্চশিক্ষিত ও যোগ্য নারীদের এই দলটিই পিছিয়ে পড়ছে।

মার্কিন শেয়ার বাজারের এক হিসাব অনুযায়ী, গত কয়েক দশকে নারীরা ধাপে ধাপে এগিয়ে বড় বড় কোম্পানির শীর্ষ পদে নিজেদের অবস্থান ১২.২ শতাংশে নিয়ে গিয়েছিলেন।

কিন্তু ২০২৩ সালে এসে, গত ২০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো এই শীর্ষ পদগুলোতে নারীদের সংখ্যা কমে গেছে। অথচ এর আগের বছরই এই পদগুলোতে নারীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বেড়েছিল।

এছাড়া অন্য বড় পদগুলোয় নারীদের যুক্ত হওয়ার গতি ধীর হয়ে গেছে।

শীর্ষ পর্যায়ে নারীদের এই কমে যাওয়া মূলত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অভিজ্ঞ নারীদের ধরে রাখার এবং নতুন করে বড় পদে আসার সংকটের কথা মনে করিয়ে দেয়।

যেমন, গোল্ডম্যান স্যাক্স নামের নামী প্রতিষ্ঠানে এক দশকেরও বেশি সময় পর ২০২৪ সালে নতুন নারী অংশীদারের সংখ্যা কমেছে। এর পরের বছর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদেও নারীদের সংখ্যা কমে যায়।

অন্যদিকে, জেপি মরগান চেজ ব্যাংকের প্রধান জেমি ডাইমনের অবসরের পর মারিয়ান লেক ও জেনিফার পিয়েপস্যাক নামের দুই নারীর প্রধান হওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু এখন তারা কেউই আর সেই দৌড়ে নেই। মিস লেক অবসরে যাচ্ছেন আর মিস পিয়েপস্যাক সরে দাঁড়িয়েছেন। ফলে শীর্ষ পদের তালিকায় এখন কেবল পুরুষরাই টিকে রইলেন।

কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদ বা বোর্ডেও নারীদের এগিয়ে যাওয়ার গতি থমকে গেছে। ২০২৫ সালে এসঅ্যান্ডপি ৫০০-ভুক্ত কোম্পানিগুলোর নতুন বোর্ড সদস্য পদের ৩৮ শতাংশ পেয়েছিলেন নারীরা, যা এর আগের বছরের ৪২ শতাংশের চেয়ে কম।

এর মাধ্যমে ২০২০ সালের শীর্ষ অবস্থান থেকে তাদের পিছিয়ে পড়ার ধারাটি আরও দীর্ঘ হলো।

২০২৫ সালে বোর্ডে নতুন সদস্য আসার গতি কমে যাওয়া এবং বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি নীতিগুলো থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সরে আসা এই পতনের অন্যতম কারণ।

শুধু শীর্ষপদের নারীরাই যে পিছিয়ে পড়ছেন তা নয়। কর্মজীবনের শুরুর বা মাঝের দিকের নারীদের অগ্রগতিও থমকে গেছে বা কমছে।

উন্নত দেশগুলোর জোট ওআইসিডি-ভুক্ত দেশগুলোতে পূর্ণকালীন কাজে নারীদের অংশগ্রহণ কমে গেছে।

পিডব্লিউসির একটি সূচকের ১৫ বছরের ইতিহাসে গত বছরই প্রথম এই হার ৭৮.১ শতাংশ থেকে কমে ৭৬.৮ শতাংশ হয়েছে।

পূর্ণকালীন কাজ থেকে নারীদের এই সরে আসার চিত্র সবচেয়ে স্পষ্ট ছিল যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে গত বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ৩৮ হাজার নারী কর্মক্ষেত্র ছেড়েছেন।

অথচ একই সময়ে পুরুষ কর্মীর সংখ্যা উল্টো ১ লাখ ৮৩ হাজার বেড়েছে।

উচ্চশিক্ষিত ও ছোট সন্তান থাকা মায়েরাই মূলত এই কর্মক্ষেত্র ছাড়ার মিছিলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কয়েক দশক ধরে উন্নতির পর ২০২৩ সালে এসে তাদের কর্মক্ষেত্রে যোগদানের হার কমতে শুরু করে এবং এরপর থেকে প্রতি বছরই তা কমছে।

বিশেষ করে, ২০২৫ সালে ছোট সন্তান রয়েছে এমন মায়েদের চাকরি ছাড়ার হার গত চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল।

যুক্তরাজ্যেও একই চিত্র দেখা গেছে, যেখানে ২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে মায়েদের কর্মক্ষেত্রে যোগদানের হার বাড়লেও এবং ২০২৩ সালে তা শীর্ষে পৌঁছালেও, এরপর থেকে তা দ্রুত কমছে।

অবশ্য ২০২৫ সালের শেষের দিকে এই ধারায় কিছুটা বদল আসে। জানুয়ারির তুলনায় বছর শেষে যুক্তরাষ্ট্রর কর্মক্ষেত্রে (যারা চাকরি করছেন বা খুঁজছেন) মোট ১ লাখ ৮৪ হাজার নারী বেশি যোগ দেন।

তবে বেকারত্ব বাড়ার কারণে এই লাভ কোনো কাজেই আসেনি।

২০২৫ সাল জুড়ে চাকরিহীন এবং কাজ খুঁজছেন এমন মার্কিন নারীর সংখ্যা বেড়ে ২ লাখ ছাড়িয়ে যায়, যার ফলে নারীদের বেকারত্বের হার ৩.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩.৯ শতাংশ হয়।

একটি গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এ পর্যন্ত আরও ৩ লাখ নারী কর্মক্ষেত্র থেকে বিদায় নিয়েছেন।

বর্তমানে নারীদের লক্ষ্যও বদলে যাচ্ছে। ২০১৩ সালে শেরিল স্যান্ডবার্গের লেখা ‘লিন ইন’ বইটি নারীদের কর্মক্ষেত্রে নিজেদের জায়গা করে নিতে উৎসাহিত করেছিল।

অথচ গত ১০ বছরের ধারা উল্টে দিয়ে নারীরা এখন পুরুষদের তুলনায় পদোন্নতি বা প্রমোশন পাওয়ার বিষয়ে কম আগ্রহী।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত এক জরিপ অনুযায়ী চাকরির শুরুতে থাকা মাত্র ৬৯ শতাংশ নারী, মধ্যসারির ৮২ শতাংশ নারী এবং শীর্ষ স্তরের ৮৪ শতাংশ নারী কর্মকর্তা পদোন্নতি পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

এর বিপরীতে একই পদের পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল যথাক্রমে ৮০, ৮৬ এবং ৯২ শতাংশ।

বেতন বৈষম্য

নারীদের বেতনের চিত্রটিও একইভাবে অবনতির দিকে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে টানা দুই বছর ধরে নারী ও পুরুষের বেতনের ব্যবধান বা বৈষম্য বেড়েছে।

মাঝে মাঝে কোনো কোনো বছর এই ব্যবধান একটু আধটু বাড়লেও, গত ৬০ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম টানা দুই বছর ধরে নারীদের বেতন পরিস্থিতির এমন অবনতি হলো।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে কানাডা, ফ্রান্স এবং সুইজারল্যান্ডের মতো উন্নত দেশগুলোতেও নারী-পুরুষের বেতনের এই ব্যবধান বেড়েছে।

যুক্তরাজ্যের বেতনের ব্যবধান এখনো কমছে ঠিকই, তবে ২০২২ সালের পর থেকে এর গতি অনেকটাই ধীর হয়ে গেছে।

এদিকে সন্তান হওয়ার কারণে ক্যারিয়ারে পিছিয়ে পড়ার খেসারত দিতে গিয়ে চল্লিশের কোঠায় থাকা নারীদের বেতনের ব্যবধান আরও বাড়ছে, যা আগের বছরের ৮.৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৯.১ শতাংশ হয়েছে।

এর জন্য আংশিকভাবে কোভিড মহামারীকে দায়ী করা হচ্ছে। শ্রম অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, মহামারীর সময়ে বিপুলসংখ্যক কম বেতনের নারী কর্মী চাকরি হারিয়েছিলেন, এতেই নারী-পুরুষের বেতনের গড় ব্যবধানকে কমিয়ে দেখিয়েছিল।

ফলে বর্তমানের এই বাড়তে থাকা ব্যবধানকে অগ্রগতির উল্টো রথ না বলে একটি সংশোধনী হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

কারণ সেই নারীরা এখন আবারও শ্রমবাজারে দল বেঁধে ফিরে আসছেন। তবে লকডাউনের ছয় বছর পরও এই পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি হওয়া ইঙ্গিত করে যে, এর পেছনে অন্য কোনো কারণও রয়েছে।

নারীদের এই পিছিয়ে পড়ার পেছনে আরও কিছু কারণের কথা বলা হচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে ডে-কেয়ারের আকাশছোঁয়া খরচ, অফিসে ফিরে কাজ করার কঠোর নিয়ম, মেনোপজের প্রভাব এবং নারীদের প্রতি করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা কমে যাওয়া।

২০২৩ সালে নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন যখন পদত্যাগের ঘোষণা দেন, তখন তিনি প্রধান কারণ হিসেবে অতিরিক্ত মানসিক ও শারীরিক ক্লান্তির কথা উল্লেখ করে বলেছিলেন, তার শক্তি আর অবশিষ্ট নেই।

২০১৭ সালে মাত্র ৩৭ বছর বয়সে দায়িত্ব নেওয়ার সময় তিনি ছিলেন বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নারী সরকারপ্রধান।

এছাড়া ১৯৯০ সালে পাকিস্তানের বেনজির ভুট্টোর পর দ্বিতীয় নির্বাচিত নেতা হিসেবে ক্ষমতায় থাকাকালীন মা হন জেসিন্ডা।

বিপুল ক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা থাকা একজন শক্তিশালী নারীই যদি ক্যারিয়ার ও সংসার সব একসঙ্গে সামলাতে না পারেন, তবে প্রশ্ন জাগে, সাধারণ চাকরিজীবী মায়েদের অবস্থা তাহলে কী হবে?

যা-ই হোক না কেন, খুব কম নারীই আসলে ট্র্যাডওয়াইফদের দেখানো এই জীবনযাত্রাকে মনে-প্রাণে পেতে চান।

বরং কিংস কলেজ লন্ডনের গবেষকদের মতে, ইন্টারনেটে ঘরে তৈরি রুটি বা লিনেনের অ্যাপ্রন (কিংবা নারা স্মিথের মতো জমকালো পোশাক, যিনি নিজে অবশ্য নিজেকে ট্র্যাডওয়াইফ বলতে নারাজ) দেখার এই আকর্ষণ মূলত আধুনিক কর্মক্ষেত্রের ক্লান্তিকর চাহিদার প্রতি নারীদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

১৯৮৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ সোশ্যাল অ্যাটিটিউডস সার্ভের উত্তরগুলো বিশ্লেষণ করে গবেষকরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, তরুণ প্রজন্মের কাছে ঘরকন্যার কাজ আকর্ষণীয় মনে হওয়ার অর্থ এই নয় যে তারা আদর্শগতভাবে পুরনো প্রথায় ফিরে যাচ্ছে।

বরং এটি জীবনের একটু ভারসাম্য বা শান্তির আকুতি। এই গবেষণার সহ-প্রধান অধ্যাপক হিযুং চাং লিখেছেন, “ট্র্যাডওয়াইফ ট্রেন্ডটি কোনো অতীতবিলাস বা নস্টালজিয়া নয়, এটি আসলে একটি সতর্কসংকেত।”

সর্বোপরি, করপোরেট লিডার শেরিল স্যান্ডবার্গ নারীদের কর্মক্ষেত্রে আসার জানানোর ১৩ বছর পর, অনেক নারীই এখন কর্মক্ষেত্র ছেড়ে চলে যাওয়ার পথ ধরছেন।

সম্পর্কিত