Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

ইমরানকে নিয়ে দৌড়ঝাঁপ, পাকিস্তানে রাজনৈতিক পরিবর্তন আসন্ন?

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১৭: ৫৮
ইমরানকে নিয়ে দৌড়ঝাঁপ, পাকিস্তানে রাজনৈতিক পরিবর্তন আসন্ন?
পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার, প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই-এর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান। ছবি: রয়টার্স

দীর্ঘ ও কঠিন এক গ্রীষ্মের পর পাকিস্তানের রাজনীতিতে যেন আবারও কিছুটা প্রাণচাঞ্চল্য ফিরছে। পার্লামেন্টের অধিবেশন বসেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন। আলোচনা ও কৌশল নির্ধারণের জন্য বৈঠক হচ্ছে। দীর্ঘদিন রাজনৈতিক দূরত্ব বজায় রাখা জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম-ফজলু-এর নেতা মাওলানা ফজলুর রহমানও আবার আলোচনার পরিসরে আসছেন। পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)-ও বিভিন্ন দলের সঙ্গে বসার বিষয়ে আগের তুলনায় বেশি সক্রিয়।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

মঙ্গলবার পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন-এ প্রকাশিত সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আরিফা নূরের নিবন্ধে দেশটির রাজনীতির এই পরিবর্তনকে শুধু সংসদীয় তৎপরতা হিসেবে দেখা হয়নি। বরং এর পেছনে থাকা ক্ষমতার উচ্চপর্যায়ের সমীকরণ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের রাজনৈতিক অবস্থান এবং সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ—এই তিনটি বিষয়কে একই সূত্রে দেখার চেষ্টা করা হয়েছে।

ইসলামাবাদের কনস্টিটিউশন অ্যাভিনিউয়ের পার্লামেন্ট ভবনে তাই এখন শুধু আইন পাসের আনুষ্ঠানিকতা নয়, রাজনৈতিক দর-কষাকষি ও সম্ভাব্য নতুন সমীকরণেরও আভাস মিলছে। তবে এই জাগরণ কতটা বাস্তব এবং কতটা ক্ষমতার অন্দরমহলের পুনর্বিন্যাস—সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

স্বাধীনভাবে ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরীক্ষার দাবি ছেলেদেরimran khan

ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে আদালতের আদেশ

Advertisement
Advertisement
Advertisement

সংসদীয় তৎপরতার পাশাপাশি পাকিস্তানের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ইমরান খানের স্বাস্থ্য ও তার চিকিৎসা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক শুনানি।

দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা আবেদন ও আলোচনা চলছিল। এ সময় তার স্বাস্থ্য নিয়ে একটি ‘অ্যালার্মিং’ মেডিক্যাল রিপোর্ট আদালতের নজরে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং হাসপাতালে থাকার নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশে পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং নিজস্ব চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়ার সুযোগও তৈরি হওয়ার কথা ছিল।

এটি ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ নির্বাচনের আগে গ্রেপ্তারের পর থেকেই ইমরান খানকে রাজনৈতিকভাবে কার্যত বিচ্ছিন্ন রাখার একটি ধারাবাহিকতা দেখা গেছে। ফলে আদালতের এমন নির্দেশকে স্বাভাবিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখেনি পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহল। বরং অনেকের মনে হয়েছে, এর পেছনে কোনো নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।

কিন্তু পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ সেই সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দেয়।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি সেই হাসপাতালে থাকেননি, যেটি আদালতের নির্দেশে প্রত্যাশিত ছিল। নিজস্ব চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শের সুযোগও তিনি পাননি। পরে তাকে আবার আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। ফলে আদালতের আদেশের বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়।

ইমরান খানের দল পিটিআই এ ঘটনায় আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ওই আবেদনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভী ছাড়াও সরকারের অন্য কয়েকজন মন্ত্রীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার ডন­-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালত এখন এই অভিযোগের পরবর্তী শুনানিতে বিষয়টির ব্যাখ্যা দিতে পারে।

আসল ক্ষমতা কোথায়?

এই ঘটনাই পাকিস্তানের রাজনীতির একটি পুরোনো প্রশ্নকে আবার সামনে এনেছে—রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত আসলে কোথায় এবং কীভাবে নেওয়া হয়?

আরিফা নূরের বিশ্লেষণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক এখানেই। তার যুক্তি হলো, ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়া, পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া কিংবা চিকিৎসার বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার মতো সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত সাধারণ প্রশাসনিক পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে—এমনটা ধরে নেওয়া কঠিন। একইভাবে, যদি কোনো পর্যায়ে সেই সিদ্ধান্ত আটকে দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলেও প্রশ্ন উঠবে—কে বা কারা এতটা ক্ষমতাবান যে আগের সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারে?

এখান থেকেই ‘হাই পলিটিক্স’ বা ক্ষমতার উচ্চপর্যায়ের সমীকরণের প্রসঙ্গ আসে।

অনেকের ধারণা, ইমরান খান ও পিটিআইকে কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা নিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার শীর্ষ স্তরে হয়তো মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। তবে এটি এখনো একটি রাজনৈতিক অনুমান, প্রতিষ্ঠিত তথ্য নয়। বিষয়টির বাস্তবতা বোঝার জন্য সুপ্রিম কোর্টে পিটিআইয়ের আদালত অবমাননার আবেদন কীভাবে এগোয়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হবে।

পাঁচ বছরের সময়চক্র

আরিফা নূর পাকিস্তানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি চমকপ্রদ সময়গত মিলের কথাও উল্লেখ করেছেন। ২০১৭ সালের গ্রীষ্মে নওয়াজ শরীফকে অযোগ্য ঘোষণার পর থেকে ২০২২ সালের এপ্রিলে তার সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট পর্যন্ত সময়কাল ছিল প্রায় পাঁচ বছর। আবার ২০২২ সালের অনাস্থা ভোট থেকে বর্তমান সময়ও প্রায় একই।

এটি নিছক কাকতালীয় হতে পারে। কিন্তু পাকিস্তানের মতো অস্থির রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সময়ের এই মিল রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করতে পারে।

কারাগার থেকে ইমরান খান কোনো ধরনের স্বস্তি পেলেই তার সব রাজনৈতিক সংকট শেষ হয়ে যাবে—এমনটা ভাবার কারণ নেই। তবে রাষ্ট্রীয় অবস্থানের সামান্য পরিবর্তনও রাজনৈতিক পরিবেশে বড় তাৎপর্য বহন করতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর অবস্থানের পর যদি কোনো ধরনের নমনীয়তা দেখা যায়, তাহলে তার পেছনের কারণ খুঁজে দেখা স্বাভাবিক।

কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ জনগণ

পাকিস্তানের রাজনীতির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো—ক্ষমতার অন্দরমহলের সমীকরণ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের অবস্থান প্রায়ই আড়ালে চলে যায়।

আরিফা নূরের বিশ্লেষণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তাটি এখানেই।

ইমরান খানের রাজনৈতিক শক্তির প্রধান উৎস কোনো কেবলমাত্র দলীয় সংগঠন বা ক্ষমতাবান কোনো গোষ্ঠী নয়; তার পেছনে রয়েছে বিপুল জনসমর্থন। এই সমর্থনের বড় অংশ তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ থেকে। উচ্চ কর, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, নিরাপত্তাহীনতা এবং অর্থনৈতিক সুযোগের সংকট মানুষের মধ্যে গভীর ক্ষোভ তৈরি করেছে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈপরীত্য আছে। ইমরান খানের সরকারও দক্ষতার ঘাটতি এবং নানা ব্যর্থতার জন্য সমালোচিত হয়েছে। তার দীর্ঘ কারাবাসও রাজনৈতিকভাবে তাকে দুর্বল করার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে তার জনপ্রিয়তা পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। কারণ তার সমর্থকদের বড় অংশ তাকে কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নয়, পরিবর্তনের সম্ভাবনা ও আশার প্রতীক হিসেবেও দেখছে।

এ কারণেই ইমরান খানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ শুধু তার মুক্তি বা ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের ওপর নির্ভর করছে না। নির্ভর করছে তার সমর্থকদের প্রত্যাশা তিনি কতটা পূরণ করতে পারবেন তার ওপরও।

প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা হলে কী হবে?

সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি এখানেই।

ইমরান খান ও পিটিআই যদি শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্র বা ‘এস্টাবলিশমেন্ট’-এর সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতায় পৌঁছান, তাহলে তাদের বিপুল জনসমর্থনের একটি অংশ কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে?

পাকিস্তানের রাজনীতিতে এমন নজির আছে। নওয়াজ শরীফ ও তার দলও একসময় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রের সঙ্গে সমঝোতার রাজনীতিতে গিয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক সমঝোতা জনগণের অসন্তোষকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দূর করে না।

আজকের পাকিস্তানের সংকটও মূলত এখানেই।

ইমরান খান মুক্তি পেলেন, আবার ক্ষমতায় ফিরলেন-এতেই যদি মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় না কমে, কর্মসংস্থান না বাড়ে, নিরাপত্তাহীনতা দূর না হয় এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থা ফিরে না আসে, তাহলে তার রাজনৈতিক সাফল্যও দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে।

অর্থাৎ ইমরান খানকে ঘিরে মানুষের আশা এবং ইমরান খানের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সম্ভাব্য সমঝোতা-এই দুটি বিষয় এক নয়।

বেলুচিস্তান বড় সতর্কবার্তা

এখানে বেলুচিস্তানের পরিস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

আরিফা নূর মনে করিয়ে দিয়েছেন, শুধু রাজধানীর ক্ষমতার কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সমঝোতা করে একটি দেশের রাজনৈতিক সংকটের স্থায়ী সমাধান করা যায় না। জনগণকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে ‘উচ্চপর্যায়ের সমঝোতা’ যতই কার্যকর মনে হোক, তার স্থায়িত্ব প্রশ্নবিদ্ধ থেকে যায়।

বেলুচিস্তানের দীর্ঘস্থায়ী সংকট সেই বাস্তবতারই একটি উদাহরণ। সেখানে রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক দূরত্ব, বঞ্চনার অনুভূতি এবং প্রতিনিধিত্বের সংকট সমাধান না করে কেবল প্রশাসনিক বা ক্ষমতাকেন্দ্রিক উদ্যোগ নিলে সমস্যার মূল জায়গাটি অক্ষত থাকে।

এই দৃষ্টিকোণ থেকে পাকিস্তানের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবর্তনকে শুধু ইমরান খান বনাম সরকার কিংবা পিটিআই বনাম পিএমএল-এন হিসেবে দেখা ভুল হবে। এটি আসলে রাষ্ট্র, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং জনগণের সম্পর্কের প্রশ্ন।

সংসদীয় রাজনীতির সামনে বড় পরীক্ষা

বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের রাজনৈতিক দলগুলোর সামনে একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংসদীয় রাজনীতিকে যদি আবার কার্যকর করতে হয়, তাহলে রাজনৈতিক দলগুলোকে কেবল ক্ষমতা ভাগাভাগি বা নির্বাচনকেন্দ্রিক সমীকরণে আটকে থাকলে চলবে না।

পিপিপি, পিএমএল-এন, পিটিআই কিংবা অন্য দলগুলোর সামনে একই প্রশ্ন—তারা কি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সংকটকে রাজনৈতিক এজেন্ডার কেন্দ্রে আনতে পারবে?

পাকিস্তানে শাসনব্যবস্থার সংকটpakistan-ai

পার্লামেন্টে দলগুলোর বৈঠক, ফজলুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ কিংবা পিটিআইকে ঘিরে সম্ভাব্য সমঝোতা-এসব অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এগুলো তখনই অর্থবহ হবে, যখন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে পারবে।

বর্তমান সংসদীয় তৎপরতার মধ্যেও এর বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। ২৫ আগস্ট জাতীয় পরিষদে সরকারের প্রয়োজনীয় কোরামও নিশ্চিত হয়নি, কারণ পিপিপির সদস্যরা অনুপস্থিত ছিলেন। অর্থাৎ রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়লেও ক্ষমতার অংশীদারদের মধ্যে টানাপোড়েন এখনো রয়েছে।

সামনে কোন পথে পাকিস্তান?

পাকিস্তানের রাজনীতিতে এখন তিনটি সম্ভাব্য প্রবণতা পাশাপাশি কাজ করছে।

প্রথমত, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্র ও পিটিআইয়ের মধ্যে কোনো ধরনের সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। ইমরান খানের চিকিৎসা ও আদালতের সাম্প্রতিক নির্দেশ ঘিরে যে পরিবর্তনের আভাস দেখা যাচ্ছে, সেটি সেই সম্ভাবনাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিতে দিচ্ছে না।

দ্বিতীয়ত, সংসদীয় দলগুলোর মধ্যে নতুন সমঝোতা ও পুনর্বিন্যাস হতে পারে। ফজলুর রহমান ও পিপিপির সাম্প্রতিক তৎপরতা এই সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়।

তৃতীয়ত, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, জনগণের অসন্তোষ যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর আস্থার সংকট আরও গভীর হতে পারে। আর তখন রাজনীতির মূলধারার বাইরে আরও কঠোর বা চরম বিকল্পের প্রতি আকর্ষণ বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে-যে আশঙ্কার কথাই আরিফা নূর নিজের বিশ্লেষণে তুলে ধরেছেন।

পাকিস্তানের রাজনৈতিক জাগরণকে অতিরিক্ত আশাবাদী দৃষ্টিতে দেখার সুযোগ নেই। ছবি: রয়টার্স
পাকিস্তানের রাজনৈতিক জাগরণকে অতিরিক্ত আশাবাদী দৃষ্টিতে দেখার সুযোগ নেই। ছবি: রয়টার্স

অতএব, পাকিস্তানের বর্তমান রাজনৈতিক জাগরণকে অতিরিক্ত আশাবাদী দৃষ্টিতে দেখার সুযোগ নেই। আবার এটিকে নিছক ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ চালবাজি বলেও উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। কিছু পরিবর্তনের লক্ষণ অবশ্যই দেখা যাচ্ছে। কিন্তু সেই পরিবর্তন কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করবে ক্ষমতার শীর্ষপর্যায়ের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে তার ওপর।

আরিফা নূরের বিশ্লেষণের সারকথা তাই খুবই তাৎপর্যপূর্ণ: উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে কাউকে ক্ষমতার কাঠামোর মধ্যে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে, কিন্তু জনগণকে সেই প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরি করা যায় না।

ইমরান খানকে ঘিরে পাকিস্তানের রাজনীতির বর্তমান অধ্যায় তাই শুধু একজন নেতার ভবিষ্যৎ নির্ধারণের লড়াই নয়। এটি পাকিস্তানের গণতন্ত্র, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যকার সম্পর্ক পুনর্নির্ধারণের একটি পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে সেই রাজনীতি, যে রাজনীতি শুধু ইসলামাবাদের ক্ষমতার করিডরে নয়-দেশের সাধারণ মানুষের জীবন ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গেও যুক্ত থাকতে পারবে।

বিষয়: পাকিস্তানভূরাজনীতিইমরান খানবিশ্ব রাজনীতিপিটিআইরাজনীতি
সর্বশেষ
  • ১

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

  • ২

    মহাখালীতে পরিত্যক্ত ভবনে আগুন

  • ৩

    রাজধানীর ধানমন্ডিতে ভবনে আগুন

  • ৪

    হংকংয়ের বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব বাংলাদেশের

  • ৫

    মেঘের শারীরিক অবস্থা এখনো ‘অস্থিতিশীল’, মেডিকেল বোর্ড গঠন

সম্পর্কিত
  • লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    চলতি মাসে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যে লং মার্চ করেছে তাকে সরকারের জন্য ‘ওয়েক আপ কল’ বলে উল্লেখ করছেন জোটটির নেতারা। প্রায় ১ হাজার গাড়ি নিয়ে এই লং মার্চ করে জোটের পক্ষ থেকে সরকারকে ৬ দফা দাবি দেওয়া হয়েছে। জোট নেতারা ওই ৬ দফায় বিদ্যুৎ, গ্যাস সংকট

  • বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    ১৭ বছরের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-গ্রেপ্তার আর রাজনৈতিক চাপ সামলে এখন সরকারে বিএনপি। গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর দলের শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ এখন সরকারের দায়িত্বে ব্যস্ত। মন্ত্রিসভা, সংসদ, প্রশাসন, অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্

  • কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    চীনের সরকার আসলে কী কী বন্ধ করে দেয় – শুধুই কি বিদেশি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়, নাকি দেশের ভেতরে থাকা সমালোচকদের ওপরও এই নিষেধাজ্ঞা আছে, এমন চিন্তাটা আসা খুবই স্বাভাবিক। তবে এখানে সরকারের লক্ষ্য এর চেয়েও বড়।

  • ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পেরিয়েছে। এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে তেলের বাজার তীব্রভাবে প্রভাবিত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে আমেরিকানদের ওপর। গ্যাসের দাম কয়েক সপ্তাহ ধরে ৪ ডলারের বেশি। বন্ধকী ঋণের সুদের হারও বেড়ে প্রায় ৭ শতাংশের দিকে যাচ্ছে। আবার ডিজেলের রেকর্ড