Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

রোহিঙ্গা সংকটে নতুন অন্ধকার

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২৫, ১২: ৩৬
রোহিঙ্গা সংকটে নতুন অন্ধকার

খাবার নেই, স্বাস্থ্য সেবা নেই, শিক্ষা নেই, কাজ নেই। আছে শুধু অনিরাপত্তা আর অনিশ্চয়তা। বাংলাদেশের কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে বসে এভাবেই নিজের হতাশার কথা বলছিলেন জামিলদা খাতুন। তার আট সদস্যের পরিবার ২০১৭ সাল থেকে সেখানে আশ্রয় নিয়েছে। তারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে আগত রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিশাল জনগোষ্ঠীর অংশ, যাদের ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্মম অভিযান এখনও স্মৃতিতে তাজা।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

কক্সবাজারে বর্তমানে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সাত বছর পর এই মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে। অর্থনৈতিক সহায়তা কমছে, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে, আর নতুন করে সহিংসতার ছায়া নেমে আসছে।

রোহিঙ্গা শিবিরগুলোর সবচেয়ে তাৎক্ষণিক সংকট হলো অর্থায়নে ব্যাপক কাটছাঁট। দীর্ঘদিনের প্রধান দাতা আমেরিকা, তাদের উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডি বন্ধ হওয়ায় রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা কমে গেছে।

২০২৪ সালে যেখানে প্রায় ৩০ কোটি ডলার সহায়তা দেওয়া হয়েছিল, ২০২৫ সালে সেই পরিমাণ অনেক কমে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অথচ জাতিসংঘের হিসাব বলছে, পুরো সহায়তা কার্যক্রম চালাতে এই বছর প্রয়োজন ৯৩ দশমিক ৪ কোটি ডলার। যার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ অর্থই এখন পর্যন্ত জোগাড় হয়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

ফলে মাঠপর্যায়ে এর প্রভাব স্পষ্ট। ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্টের তথ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গা শিবিরে ৪০ শতাংশ শিশু অপুষ্টিতে, ২৫ শতাংশ নারী রক্ত স্বল্পতায় (অ্যানিমিয়া) ভুগছে। ইতিমধ্যে শিবিরের স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও স্কুলগুলো একের পর এক বন্ধ হচ্ছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সতর্ক করেছে, চলতি বছরের মধ্যে জ্বালানি শেষ হয়ে যাবে এবং বছরের শেষে খাদ্য রেশনও বন্ধ হতে পারে।

কক্সবাজারের একটি রোহিঙ্গা শিবির। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

রাখাইনে মিয়ানমারের সেনা জান্তা ও আরাকান আর্মির মধ্যে লড়াই নতুনভাবে রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুত করছে। আরাকান রাজ্যের বেশিরভাগ এলাকা এখন আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রণ করছে, তবে তাদের বিরুদ্ধেও রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

২০২৪ সালের শুরু থেকে দেড় লাখের বেশি নতুন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আসার সবচেয়ে বড় সংখ্যা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা রোহিঙ্গা নীতিতেও প্রভাব ফেলছে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর বাংলাদেশে আগামী বছর নতুন নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা বলছেন,রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোই সমাধান।

এদিকে শিবিরে সংগঠিত অপরাধচক্র, চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর দৌরাত্ম্য বাড়ছে। কিছু মহল মনে করছে, এই গোষ্ঠীগুলোকে এসব কাজে উৎসাহিত করা হচ্ছে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে। ফলে, শিবির এখন আরও বিপজ্জনক ও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।

এমন পরিস্থিতিতে চরম হতাশায় রোহিঙ্গারা এখন সমুদ্রপথে পালানোর ঝুঁকি নিচ্ছে। ২০২৫ সালের মে মাসে বঙ্গোপসাগরে একটি নৌকা ডুবে ৪০০ জনেরও বেশি শরণার্থী মারা যায়। তবুও কোনো দেশ তাদের নিতে রাজি হচ্ছে না।

আমেরিকার ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রোহিঙ্গা পুনর্বাসন কর্মসূচি বন্ধ করে দেয়। এর মাধ্যমে ২০২২ সাল থেকে ১৬ হাজার রোহিঙ্গা আমেরিকায় পুনর্বাসিত হয়েছিল।

এমনকি ভারতের নৌবাহিনীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে, তারা রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এমন তথ্যই জানানো হয়েছে। একজন রোহিঙ্গা শরণার্থী ফোনে তার ভাইকে জানান, ‘আমাদের হাত বেঁধে, চোখ ঢেকে বন্দির মতো নৌকায় তোলা হয়েছিল। তারপর সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হলো।’

জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার টমাস অ্যান্ড্রুজ বলেছেন, এই অভিযোগ প্রমাণের মতো যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। তবে ভারতের পক্ষ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন সবচেয়ে জরুরি হলো কক্সবাজারে মানবিক সহায়তার প্রবাহ অব্যাহত রাখা। এর মধ্যে পর্যাপ্ত খাদ্য, পানি ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং উন্নত আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। বাংলাদেশের উচিত রোহিঙ্গাদের জন্য কাজের সুযোগ ও স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণে কিছুটা শিথিলতা দেখানো।

একইসঙ্গে শিবিরের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন, যাতে শান্তিপূর্ণ রোহিঙ্গা নেতৃত্ব গড়ে উঠতে পারে। আন্তর্জাতিকভাবে যদি চীন চায় তাহলে এ ক্ষেত্রে তারা বড় ভূমিকা রাখতে পারে। দেশটির সঙ্গে আরাকান আর্মির সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়া রাখাইনে তাদের ব্যাপক বিনিয়োগও রয়েছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুটি এখন এক ভুলে যাওয়া সংকট। এটি ধীরে ধীরে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিতে পরিণত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি দ্রুত আন্তর্জাতিক মনোযোগ না ফিরে আসে, কক্সবাজারের এই মানবিক বিপর্যয় শুধুমাত্র বাংলাদেশের নয়, সমগ্র দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে।

বিষয়: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনমিয়ানমাররোহিঙ্গা শরণার্থীরোহিঙ্গা ক্যাম্পরোহিঙ্গাভারতঅন্তর্বর্তী সরকার
সর্বশেষ
  • ১

    উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে সিকৃবিতে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত

  • ২

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ৩

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

  • ৪

    মনপুরায় মেঘনার পাড়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

  • ৫

    মহাখালীতে এসকেএস টাওয়ারের পেছনের ভবনে আগুন

সম্পর্কিত
  • লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    চলতি মাসে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যে লং মার্চ করেছে তাকে সরকারের জন্য ‘ওয়েক আপ কল’ বলে উল্লেখ করছেন জোটটির নেতারা। প্রায় ১ হাজার গাড়ি নিয়ে এই লং মার্চ করে জোটের পক্ষ থেকে সরকারকে ৬ দফা দাবি দেওয়া হয়েছে। জোট নেতারা ওই ৬ দফায় বিদ্যুৎ, গ্যাস সংকট

  • বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    ১৭ বছরের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-গ্রেপ্তার আর রাজনৈতিক চাপ সামলে এখন সরকারে বিএনপি। গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর দলের শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ এখন সরকারের দায়িত্বে ব্যস্ত। মন্ত্রিসভা, সংসদ, প্রশাসন, অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্

  • কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    চীনের সরকার আসলে কী কী বন্ধ করে দেয় – শুধুই কি বিদেশি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়, নাকি দেশের ভেতরে থাকা সমালোচকদের ওপরও এই নিষেধাজ্ঞা আছে, এমন চিন্তাটা আসা খুবই স্বাভাবিক। তবে এখানে সরকারের লক্ষ্য এর চেয়েও বড়।

  • ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পেরিয়েছে। এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে তেলের বাজার তীব্রভাবে প্রভাবিত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে আমেরিকানদের ওপর। গ্যাসের দাম কয়েক সপ্তাহ ধরে ৪ ডলারের বেশি। বন্ধকী ঋণের সুদের হারও বেড়ে প্রায় ৭ শতাংশের দিকে যাচ্ছে। আবার ডিজেলের রেকর্ড