
আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকায় চলছে বাংলা ভাষা সংক্রান্ত বিশেষ শিল্পপ্রদর্শনী ‘সংকলন’। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস এবং তার সুদূরপ্রসারী প্রভাবকে নতুনভাবে অনুসন্ধান করতেই এই আয়োজন বলে জানিয়েছেন আয়োকজরা।

একুশে ফেব্রুয়ারিতে শব্দের আধিপত্য ও রাজনীতি নিয়ে চরচার সঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. তারিক মনজুর

একুশে ফেব্রুয়ারিতে শব্দের আধিপত্য ও রাজনীতি নিয়ে চরচার সঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. তারিক মনজুর

বিবৃতিতে জানানো হয়, “বাংলা ভাষা নিজেই তদ্ভব, তৎসম, আরবি, ফারসি, পর্তুগিজ ও ইংরেজিসহ অসংখ্য ভাষা থেকে শব্দ গ্রহণ করে আজকের অবস্থানে পরিণত রূপ লাভ করেছে।

ইনকিলাব, ইনসাফ, আজাদী–শব্দগুলো কি বাংলা ভাষাকে বিকৃত করছে? ভাষার রাজনীতি কি আমাদের ক্ষতি করছে? শব্দের রাজনৈতিক ব্যবহার কি বাংলা ভাষায় বিভাজন বাড়াচ্ছে? বাংলা ভাষা কেন পরিচয়বাদী রাজনীতি থেকে বের হতে পারছে না? বাংলা কি দেশের অন্য ভাষাগুলোর ওপর আধিপত্য করছে?

আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসা মানুষের সাথে কথা বলেছে চরচা। ভিডিও: আব্দুল্লাহ খান

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে শনিবার সকালে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রভাতফেরিতে অংশ নেয় সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দেখা রিকশাচালক মো. আনোয়ারের সাথে। তিনি তার রিকশা ফুল দিয়ে সাজিয়ে রওনা হয়েছেন শহীদ মিনারে, ফুলে ফুলে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে। ভিডিও: তারিক সজীব

আঞ্চলিক ভাষাও তো মাতৃভাষা। কিন্তু আমরা দেখি আঞ্চলিক ভাষাকে অবজ্ঞার চোখে দেখা হয়, সেই ভাষা নিয়ে করা হয় উপহাস। কিন্তু তরুণদের সবাই কি আঞ্চলিক ভাষাকে ‘আনস্মার্ট’ মনে করে?

ইনকিলাব শব্দের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমানে জেন জি-দের ফিরে আসতে হবে মাতৃভাষার দিকে। দেশের উন্নয়নের দিকে। ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ চলবে না’ বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানুষের ঢল। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা সারিবদ্ধভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করছেন।

একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষার আত্মত্যাগের গৌরবের দিন, কিন্তু এই মর্যাদা কি সবার জন্য সমানভাবে নিশ্চিত? সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষা রাষ্ট্রভাষা হলেও আদিবাসী ও সংখ্যালঘু ভাষাগুলোর সংগ্রাম আজও চলমান। এই লেখা ভাষা আন্দোলনের উত্তরাধিকার আর উপেক্ষিত মাতৃভাষার বাস্তবতার প্রশ্ন তুলে ধরে।

বাবা-মা দুজনেই শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধী হলেও বদরুন নাহার তমার জীবন আট-দশজনের মতোই স্বাভাবিক। তিনি দেখলেন, বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগে মাধ্যম ইশারা ভাষা।

ভাষা কেবল উৎসবের বিষয় নয়; এটি নীতির প্রশ্ন, ন্যায়বিচারের প্রশ্ন, অন্তর্ভুক্তির প্রশ্ন। ভাষার প্রতি রাষ্ট্রের আচরণই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করে সে রাষ্ট্র কতটা মানবিক, কতটা গণতান্ত্রিক এবং কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক।

মাতৃভাষার অধিকারের জন্য যারা প্রাণ দিলেন, সেই ত্যাগের মহিমা কি তবে কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বার্থ রক্ষার পর থমকে গেল? আমরা কি তবে অন্যদের কথা ভুলে গেলাম? বিস্মৃতি বোধহয় আমাদের মজ্জাগত।

মাতৃভাষার অধিকারের জন্য যারা প্রাণ দিলেন, সেই ত্যাগের মহিমা কি তবে কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বার্থ রক্ষার পর থমকে গেল? আমরা কি তবে অন্যদের কথা ভুলে গেলাম? বিস্মৃতি বোধহয় আমাদের মজ্জাগত।