Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> ভাবনা

আষাঢ়ে মেঘের দূত

নজরুল জাহিদ

নজরুল জাহিদ

প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৬, ০৯: ৪১
আষাঢ়ে মেঘের দূত

আটমাস অতিক্রান্ত; আর মাত্র চারমাস পরেই সাজার মেয়াদ শেষ। তারপরই সে তার প্রিয়ার কাছে ফিরতে পারবে। এতদিন সহ্য করতে পারলেও আজ এই আষাঢ়ের প্রথম দিনে বিরহজ্বালা এমন তীব্র হয়ে উঠল কেন? কেন মন এমন উচাটন আর শরীর এতটা স্পর্শলোভী হয়ে উঠল যে, প্রিয়তমাকে বার্তা পাঠানোর জন্যে মেঘের শরণ নিতে হলো?

Advertisement
Advertisement
Advertisement

প্রশ্নটা এখানে রেখে, আসুন একটু গল্পের পেছন থেকে ঘুরে আসি।

আপনারা জানেন, হিমালয় অঞ্চলে তুষারশুভ্র কৈলাস পর্বতে স্ফটিকের প্রাসাদ ও রত্নখচিত অট্টালিকায় পরিপূর্ণ এক পৌরাণিক নগরী ছিল। উদ্যান, পদ্মপুকুর, পুষ্পবৃক্ষ এবং বহমান ঝর্ণাধারা দ্বারা পরিবেষ্টিত সেই নগরীর নাম অলকপুরী। চন্দ্রালোক ও স্বর্গীয় দীপ্তিতে উদ্ভাসিত, প্রকৃতি ও সংস্কৃতির অপরূপ সামঞ্জস্যে ভরা, সেই নগরীতে যক্ষদের বাস। যক্ষরা ধনসম্পদে সমৃদ্ধ। সৌন্দর্য, সঙ্গীত আর প্রেম তাদের নিত্য সাথী। সেখানে বিচ্ছেদের বেদনা নেই। দুঃখকষ্ট নেই। এখানকার মানুষেরা যক্ষ নামে পরিচিত।

এই নগরীর শাসকের নাম কুবের। যদিও তিনি শাসন করেন অনেকটা একজন রাজার রাজ্য শাসনের মতোই। তবু তিনি ঠিক আমাদের আজকের রাজনৈতিক অর্থের ‘রাজা’ নন, বরং একজন দৈব সার্বভৌম শাসক। তিনি ধনপতি এবং অলকপুরী তথা যক্ষ জগতের অধিপতি।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

এখানকার এক সাধারণ দম্পতি, কতদিন ধরে তারা বিবাহিত, তাদের সন্তান আছে কি না, তাদের বয়স কত–এসব জানা যায় না। তবে নিশ্চিতভাবে যা জানা যায়, তা হলো–যৌবনের উচ্ছ্বাসে ভরপুর কামজ ও প্রেমজ আনন্দময় জীবন তাদের। লেখক তাদের কোনো নাম দেননি। পুরুষটিকে কেবল ‘যক্ষ’ আর নারীটিকে ‘যক্ষপ্রিয়া’ বলে ডেকেছেন। নাম দিলে তাদের চিরকালীন বিরহবেদনা আর দুর্নিবার মিলনাকাঙ্ক্ষা কেবল দুজন ‘ব্যক্তি’র গল্প হয়ে দাঁড়াত হয়তো। তাই সর্বনামে ডেকে তাদেরকে সর্বকালের প্রতীক্ষাকাতর বিরহী প্রেমিক আর প্রেমিকা করে তুলেছেন।

মঙ্গার স্থায়ী সমাধান: একটি ইতিহাসmonga-1

এই যক্ষ কুবেরের অফিসে চাকরি করে। মোটামুটি উচ্চপদে। কিন্তু পত্নী বা কান্তা বা দয়িতা যক্ষপ্রিয়ার সাথে প্রেম ও গার্হস্থ্য সুখে মগ্ন থাকায় সে প্রায়ই কর্তব্যে অবহেলা করে। আজকাল নতুন বিয়ের পর যেমন অফিসে ঢুকতে লোকেদের বিলম্ব ঘটে, কাজে ভুলভাল হয়, যক্ষের ক্ষেত্রেও অমন ঘটছিল। ফলে কুবের রাগ করে তাকে এক বছরের জন্য নির্বাসন দিয়ে দিল। ‘যক্ষপ্রিয়া’ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে, অলকপুরী থেকে বহুদূরে, রামগিরি পাহাড়ে গিয়ে তাকে এক বছর বাস করতে হবে। মানে দাঁড়াল, “যে নারীর জন্য আমার কাজে অবহেলা, যাও এবার তার থেকে একবছর দূরে গিয়ে থাকো!”

ছবি: এআই দিয়ে নির্মিত
ছবি: এআই দিয়ে নির্মিত

তা-ই হলো।

যক্ষ তার প্রিয়াকে রেখে নির্বাসনে আছে। ভালো লাগে না একাকী জীবন। অতি ক্লেশে তবু আট মাস পার হলো। তারপর, আজকের মতো, এক আষাঢ় মাসের প্রথম দিনে আকাশের দিকে তাকিয়ে যক্ষের মনটা বড় চঞ্চল হয়ে উঠল। সে দেখল, একটা ঘনমেঘ নিচু হয়ে নেমে আসছে রামগিরি পর্বতের উপর। যেন দাঁত দিয়ে মাটি খুঁড়তে থাকা নতদেহ হাতি। আর এই দৃশ্য, এই নরম মাটিতে হাতির দাঁতের প্রথিত হওয়ার কল্পনা, যক্ষের মনকে আর্দ্র ও যৌনকাতর করে তুললো। এমন দৃশ্যে আসঙ্গসংশ্লেষে থাকা সুখীজনের চিত্তও ব্যাকুল হয় আর ইচ্ছুকজন দূরে রেখে দীর্ঘদিনের যৌনতাবঞ্চিত যক্ষের মন তো আর্দ্র হবেই!

বৃষ্টি হবো হবো করছে–এমন ভারী ঘন মেঘের নাম পুষ্করাবর্ত মেঘ। সেদিনের মেঘটিও ছিল এমন। এই বুঝি ঝরঝর করে ঝরে পড়বে। সেই জলভারাক্রান্ত কামনামদির মেঘের সামনে দাঁড়িয়ে যক্ষ ভাবল, আমি যেমনই থাকি, আসন্ন বর্ষায় রতিবঞ্চিতা প্রিয়ার পক্ষে একা থাকা কঠিন। তাই মেঘটিকে ডেকে কুরচি ফুলের অর্ঘ্য দিল, আর একটি বার্তা যক্ষপ্রিয়ার কাছে পৌঁছে দিতে বলল।

কেন বর্ষার প্রারম্ভে এই যৌনকাতরতা, কেন কুরচি ফুলের অর্ঘ্য, মেঘকে এই কাজে রাজি করতে কী কী ‘লোভ’ দেখানো হলো, যেতে পথে মেঘকে কোন কোন নদী পার হতে হবে, সেই সব নদীরা কেন বিশেষভাবে আবেদনময়ী আর কেন অশেষভাবে সম্ভাবনাময়, কেন মেঘকেই বার্তাবাহক হিসেবে যোগ্য মনে হলো, মেঘের কাছে পাঠানো মেসেজের কোড বা ওটিপি কী ছিল, যাতে যক্ষপ্রিয়া বোঝে এটা তার স্বামীই দিয়েছে–এবং বিবিধ বিষয়ে অনেক কথা আছে। স্থানাভাবে কেবল দুটি কথা বলি।

ন্যায়বিচার পাওয়া সবার অধিকারcourt

বর্ষা ঋতু সেই যুগে কর্মহীন বাণিজ্যহীন ছিল। প্রবাসী পুরুষরা তাই বর্ষার আগেই ঘরে ফিরে আসত। তাদের নারীরা তখন অপেক্ষায় থাকত। এক বর্ষায় না এলে আরেক বছর তাদের অপেক্ষা করতে হতো। তখন তো ক্যালেন্ডার ছিল না। জ্যৈষ্ঠের শেষে আষাঢ়ের শুরুতে ঘন মেঘের উড়ে আসতে দেখে নারীরা বুঝে নিত ‘আজ আমার শ্যামরাই আসিতে পারে…’ তারা প্রস্তুতি নিত; ‘কুঞ্জ সাজাতো।’ যক্ষও বুঝেছিল এমন ‘আষাঢ়স্য প্রথমদিবসে’ নিশ্চয় যক্ষপ্রিয়ার প্রতীক্ষা কাতরতার শীর্ষে পৌঁছাবে, ফলে এখনই সময়!

ছবি: এআই দিয়ে নির্মিত
ছবি: এআই দিয়ে নির্মিত

কিন্তু সে কেন বুঝল না যে, অচেতন মেঘ সচেতন মানুষের মতো বার্তাবাহক হতে পারে না? হ্যাঁ, দেড় হাজার বছর আগে মেসেঞ্জার বা ইমেইল বা চিঠি ছিল না। কিন্তু, কারণ সেটা না। কারণ হলো–যক্ষ নির্বাসনের আট মাসে প্রণয়ের অষ্টদশায় উপনীত হয়েছিল। আমরা জানি, প্রণয়ের দশটা দশা আছে–

১। চক্ষুপ্রীতি: চোখের দেখায় ভালো লাগা

২। মনঃপ্রীতি: মনের মিলন স্থাপিত হওয়া বা মন থেকে চাওয়া

৩। সঙ্গসংকল্প: প্রিয়া বা প্রিয়কে কাছে পাওয়ার বাসনা

৪। অনিদ্রা: আশা পূর্ণ না হলে ঘুম টুটে যাওয়া

৫। কৃশতা: খাবারে অভক্তি আসাতে শুকিয়ে যাওয়া

৬। অবসাদ: মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়া

৭। হ্রীত্যাগ: লজ্জা ত্যাগ, মানে হিতাহিতজ্ঞানশূন্য হয়ে যাচ্ছেতাই করা

৮। উন্মাদ: মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা

৯। মূর্ছা: প্রিয়ার বিহনে সংজ্ঞা হারানো

১০। মৃত্যু: ব্যাখ্যা নিষ্প্রয়োজন

আপনি কার লোক?who are you

যক্ষের অষ্টদশাপ্রাপ্ত হয়েছিল, তাই সে মেঘকেই বার্তাবাহক মনে করেছে। তাই সে মেঘকে অনুনয় করে বলছে যে, মেঘ, তুমি তাকে বলো, “তোমার সহচর দূরে রয়েছে, প্রতিকূল পথ তার পথ রুদ্ধ করে আছে, আর মাত্র কয়েক মাস অপেক্ষা করো; শরৎ এলে অভিশাপ শেষ হবে, আমরা আবার একসঙ্গে হব।”

এই সময় একটা মজার ঘটনাও ঘটে। তার মনে হয়েছে–আচ্ছা, মেঘ তো যাবে বার্তা নিয়ে। কিন্তু যদি যক্ষপ্রিয়াকে চিনতে না পারে। ঠিকানার পাশাপাশি চেহারারও বর্ণনা দেওয়া দরকার। তাই যক্ষ বলছে, হে জলদ, তুমি কেমন করে চিনবে, তাকে শুনে নাও তার সৌন্দর্যের বিবরণ...

তন্বী শ্যামা শিখরিদশনা পক্ববিম্বাধরোষ্ঠী

মধ্যে ক্ষামা চকিতহরিণীপ্রেক্ষণা নিম্ননাভিঃ

শ্রোণীভারাদলসগমনা স্তোকনম্রা স্তনাভ্যাং

যা তত্র স্যাদ্ যুবতিবিষয়ে সৃষ্টিবাদ্যেব ধাতুঃ

হালকা গড়নের যুবতী যার গায়ের রং কাঞ্চন বা হালকা স্বর্ণালী বা শ্যামলা। তার দাঁত চিকন। ঠোঁট যেন পাকা বিম্বফলের (তেলাকুচা) মতো লাল। ক্ষীণ কোমরে গভীর নাভি; চোখে আছে চমকে ওঠা চঞ্চল হরিণের চাহনি। স্তনজোড়া নিজেদের ভারে কিছুটা নুইয়ে আছে। ভারী নিতম্বের কারণে তার চলন ঈষৎ ধীর ও মন্দলয়ের। এমন রূপের প্রতিমা এজন্যই প্রকৃষ্ট যে, সে হলো স্রষ্টার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি।

লেখক: গবেষক ও অধিকারকর্মী

বিষয়: বর্ষাকালবৃষ্টিবৃষ্টিপাত
সর্বশেষ
  • ১

    উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে সিকৃবিতে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত

  • ২

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ৩

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

  • ৪

    মনপুরায় মেঘনার পাড়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

  • ৫

    মহাখালীতে এসকেএস টাওয়ারের পেছনের ভবনে আগুন

সম্পর্কিত
  • মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    আমাদের দেশে মব আর নতুন কোনো বিষয় নয়। বরং দিনকে দিন কিছুটা স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠছে যেন। কখনও বাড়ে, কখনও একটু কমে- কিন্তু মব বিদায় হচ্ছে না কোনোভাবেই। উল্টো যেন মব রপ্তানির দেশে পরিণত হচ্ছে আমাদের এই বাংলাদেশ! ভাবে? চলুন, আলোচনার ভেতরে ঢোকা যাক। শুরুতেই বর্তমানে দেশের ভেতরে মব কি অবস্থায় আছ

  • সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরতে ইউনেসকো ১৯৬৬ সালে ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ঘোষণা করে। বিশ্বজুড়ে এর উদযাপন শুরু হয় ১৯৬৭ সালে; আর স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে।

  • রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    ২৩ আগস্ট রাতে সাবেক স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পুরো পরিবারের শেষ হয়ে যাওয়ার খবরটা প্রথম শুনে বুঝিনি যে এই ঘটনা সামনে অনেক চমক তৈরি করে রেখেছে। হত্যা রহস্য উন্মোচনের জন্য গোলকধাঁধা অপেক্ষা করছে–কে জানত? রাতে ঘুমিয়ে সকালে উঠেই শুনি দুই আসামি ধরা পড়েছে, এমনকি হত্যার দায়ও স্বীকার করে নিয়েছেন

  • সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    গত রোববার জাতীয় সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়েছে। এর মধ্যে বহুলালোচিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬’ নিয়ে পরে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে। এখানে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬’ নিয়ে কথা বলব। এই আইনের উদ্দেশ্য–বাবা–মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়া