Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> ভাবনা

সেচ খরচ ও আর্সেনিকের ঝুঁকি হ্রাসকরণে 3F4D+MD নতুন সেচ পদ্ধতি

ড. মো. সাইদুর রহমান

ড. মো. সাইদুর রহমান

প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৬, ১৯: ৩৪
সেচ খরচ ও আর্সেনিকের ঝুঁকি হ্রাসকরণে 3F4D+MD নতুন সেচ পদ্ধতি

আমাদের দেশের কৃষক প্রায় ৬০ বছর যাবত গভীর/অগভীর নলকুপ দিয়ে কাঁচা/পাকা নালার মাধ্যমে সেচ দিয়ে উচ্চ ফলনশীল ধান চাষ করে আসছে। সেচের এ পদ্ধতিতে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার বেশি হয় এবং সেচ খরচও বেশি হওয়ায় বিজ্ঞানীরা এর বিকল্প হিসেবে ভেজানো ও শুকানো পদ্ধতি (AWD) ব্যবহার করে পানির ব্যবহার কমানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু এ পদ্ধতিতে অসুবিধা হলো কৃষকরা এটাকে ঝামেলা মনে করে গ্রহণ করতে কছুটা অনীহা প্রকাশ করে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

বর্তমানে জাপানি সংস্থা জাইকা ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে যেখানে 3F4D +MD পদ্ধতিতে সপ্তাহে এক দিন সেচ দিয়ে তিন দিন ভিজিয়ে রেখে পর পর চার দিন শুকানো হয় এবং এভাবে পর্যায়ক্রমে ছয় সপ্তাহ সেচ দিতে হয়। ধানের চারা রোপনের ৩৫-৪০ দিন পর্যন্ত সেচ দিয়ে খেতে পানি রেখে তারপর একটানা আট দিন শুকানো হয় (MD, মধ্য-মৌসুমি মাঠ শুকানো) এবং এরপর 3F4D পদ্ধতিতে সেচ দেওয়া শুরু করা হয়। পরপর ছয়টি 3F4D সেচ চক্র শেষ করার ১০-১১ দিন পর ফসল কাটা হয়।

জাপানে এ পদ্ধতিটির প্রয়োগে বেশ সাফল্য পাওয়া গেছে। এ পদ্ধতিতে ধান আবাদ করলে সেচের পানি কম লাগে। ফলে প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে সেচ খরচ গড়ে ৪0 শতাংশ পর্যন্ত কম হয়, ফসল উৎপাদনে সার কম লাগে, উৎপাদন কিছুটা বেশি হয় (১৩ শতাংশ), আগাছা খুবই কম জন্মায়, ধানে পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হয়। পোকামাকড় দমনে কীটনাশকের ব্যবহার কম হয় বলে স্বাস্থ্যঝুঁকি কম থাকে এবং ভূগর্ভস্থ পানির উত্তোলন কম হয়। এ সেচ পদ্ধতিতে সেচ দেওয়া হলে মাটির পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি পায়, ধানের গোছাপ্রতি কুশির সংখ্যা বেশি হয় এবং ধানের ছড়ায় ধান সংখ্যাও বেশি হয়। এ ছাড়া চিটা ধান কম হয়, ধানে বা চালে অর্থাৎ ভাতে আর্সেনিকের পরিমাণ কম থাকে। অধিকাংশ কৃষক মনে করে এ পদ্ধতিতে সেচ দেওয়া সহজ এবং উৎপাদিত চালের ভাতে আর্সেনিকের উপস্থিতি খুবই কম।

সেচকল মালিকরা এ বছর সেচ দিতে প্রতি বিঘা জমিতে পাঁচ থেকে সাত শ টাকা কম নিয়েছে। ভবিষ্যতে সবাই এ পদ্ধতিতে সেচের পানি নিলে সেচ চার্জ আরও কম নেওয়ার কথা জানিয়েছে যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে মডেল কৃষকদের মাধ্যমে দ্বিতীয় বার 3F4D সেচ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে। প্রকল্প গবেষকদের পক্ষে এশিয়ান আর্সেনিক নেটওয়ার্ক নামক একটি বেসরকারি সংস্থা এ নতুন সেচ প্রযুক্তির চালু করতে কাজ করেছে। এলাকার অসংখ্য কৃষক ভাইয়েরা এ পদ্ধতিতে ধান উৎপাদন দেখে বিশেষ করে সেচ খরচ কম এবং ভাতে আর্সেনিকের পরিমাণ কম থাকে বিধায় এ পদ্ধতিতে সেচ দিতে খুবই আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

পানি কম লাগে বিধায় সেচকল মালিকরাও এ পদ্ধতির প্রয়োগে তাদের সুবিধা হবে বলে মনে করে। এ বিষয়ে বিগত ১৬ জুন মডেল কৃষকদের নিয়ে প্রকল্প এলাকায় একটি ফোকাস গ্রুপ ডিস্কাশন এবং মাঠ দিবসের আয়োজন করা হয়। এটি করা হয় যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলার ফুলসারা ইউনিয়নের আরারদাহ গ্রামে এবং ধুলিয়ানি ইউনিয়নের কুষ্টিয়া গ্রামে। ওই মাঠ দিবসে প্রায় দুই শ পুরুষ ও মহিলা কৃষক উপস্থিত হয়। উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও জাইকার উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা। আরও উপস্থিত ছিলেন দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

উপস্থিত সকলের ভাষ্য মোতাবেক, ওই এলাকার জন্য 3F4D পদ্ধতি ব্যবহার খুবই কার্যকরি একটি সেচ প্রযুক্তি। পরপর দুই মৌসুমে এটির প্রয়োগ কৃষকদের কম খরচে সেচ দেওয়া সম্ভব হবে বলে বিশ্বাসী করে তুলেছে। তাদের খুশির জায়গা হলো, এ পদ্ধতিতে উৎপাদিত ধানে আর্সেনিকের মাত্রা বেশ কমে যায়।

বেশিরভাগ মডেল কৃষকরা তাদের পরীক্ষামূলক প্লটের ধান নিজে খাবেন বলে সংরক্ষণ করেছেন। ওই এলাকার কৃষকরা মনে করে ধান চাষে সেচ খরচ যে সমস্ত এলাকায় বেশি এবং যেখানে আর্সেনিকের প্রকোপ রয়েছে সে সমস্ত এলাকায় 3F4D সেচ পদ্ধতির বিস্তার ঘটানো প্রয়োজন। প্রয়োজনে তারা নিজেরাও এ কাজে অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে।

এ সেচ প্রযুক্তিতে অসুবিধা যে কিছু নেই তা নয়। এ পদ্ধতিতে লাইন ধরে সঠিক দূরত্বে প্রতি গোছায় দু/তিনটি করে ধানের চারা লাগাতে হয়। ফলে চারা লাগানোতে সময় ও খরচ বেশি লাগে। এছাড়া প্লটে প্লটে যথাযথ ভাবে সেচ দিতে সময় ও শ্রমিক খরচও একটু বেশি লাগে। অধিক বালুময় ও নিচু জমিতে এ পদ্ধতিতে সেচ দেওয়া কঠিন।

জমিতে বেশি করে পানি রাখার মানসিকতা থেকে কৃষকদের বের করে আনা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার, গভীর নলকুপে অনেক প্লটে পানি দিতে হয় বিধায় এ পদ্ধতিতে পানি দেয়া কিছুটা দুষ্কর।

জাইকার অর্থায়নে এ গবেষণা কাজটি জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের ধান গবেষণা ইনষ্টিটিউট ও বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনষ্টিটিউট-এর সাথে যৌথভাবে পরিচালিত হচ্ছে। প্রযুক্তিটি মাঠ পর্যায়ে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছে। এছাড়া এ সেচ প্রযুক্তিটি কৃষি ডিপ্লোমা ইনষ্টিটিউটের কোর্স-কারিকুলামে অন্তর্ভূক্ত করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যা প্রযুক্তিটির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। গবেষক টিমের বিশ্বাস সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সহযোগিতা পেলে সেচের ক্ষেত্রে 3F4D এ পদ্ধতিটি অতিদ্রুত সকল কৃষকের নিকট গ্রহণযোগ্য হবে।

লেখক: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও জাইকার অর্থায়নে টোকিও বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত SANRICE প্রকল্পের সোসিওইকনোমিক কনসালটেন্ট।

বিষয়: কৃষি খাতকৃষিকৃষককৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কীটনাশক
সর্বশেষ
  • ১

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

  • ২

    মহাখালীতে পরিত্যক্ত ভবনে আগুন

  • ৩

    রাজধানীর ধানমন্ডিতে ভবনে আগুন

  • ৪

    হংকংয়ের বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব বাংলাদেশের

  • ৫

    মেঘের শারীরিক অবস্থা এখনো ‘অস্থিতিশীল’, মেডিকেল বোর্ড গঠন

সম্পর্কিত
  • মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    আমাদের দেশে মব আর নতুন কোনো বিষয় নয়। বরং দিনকে দিন কিছুটা স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠছে যেন। কখনও বাড়ে, কখনও একটু কমে- কিন্তু মব বিদায় হচ্ছে না কোনোভাবেই। উল্টো যেন মব রপ্তানির দেশে পরিণত হচ্ছে আমাদের এই বাংলাদেশ! ভাবে? চলুন, আলোচনার ভেতরে ঢোকা যাক। শুরুতেই বর্তমানে দেশের ভেতরে মব কি অবস্থায় আছ

  • সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরতে ইউনেসকো ১৯৬৬ সালে ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ঘোষণা করে। বিশ্বজুড়ে এর উদযাপন শুরু হয় ১৯৬৭ সালে; আর স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে।

  • রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    ২৩ আগস্ট রাতে সাবেক স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পুরো পরিবারের শেষ হয়ে যাওয়ার খবরটা প্রথম শুনে বুঝিনি যে এই ঘটনা সামনে অনেক চমক তৈরি করে রেখেছে। হত্যা রহস্য উন্মোচনের জন্য গোলকধাঁধা অপেক্ষা করছে–কে জানত? রাতে ঘুমিয়ে সকালে উঠেই শুনি দুই আসামি ধরা পড়েছে, এমনকি হত্যার দায়ও স্বীকার করে নিয়েছেন

  • সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    গত রোববার জাতীয় সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়েছে। এর মধ্যে বহুলালোচিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬’ নিয়ে পরে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে। এখানে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬’ নিয়ে কথা বলব। এই আইনের উদ্দেশ্য–বাবা–মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়া