জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাংলাদেশ ভ্রমণে সতর্ক করল যুক্তরাজ্য

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাংলাদেশ ভ্রমণে সতর্ক করল যুক্তরাজ্য
ছবি: বাসস

বাংলাদেশে নির্বাচনকালে রাজনৈতিক সহিংসতা ও উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য আক্রমণের ঝুঁকি বিবেচনায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করেছে যুক্তরাজ্য।

গতকাল বুধবার যুক্তরাজ্যের ফরেন কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) এই ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে।

যুক্তরাজ্য তার নাগরিকদের জানিয়েছে, ভ্রমণের ক্ষেত্রে সাবধানতার সঙ্গে পরিকল্পনা করা উচিত এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুসরণ করা উচিত। বাংলাদেশের বিভিন্ন অংশে অত্যাবশ্যকীয় ভ্রমণ ছাড়া অন্য সব জায়গায় ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে এফসিডিও।

এফসিডিও পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায়ও অত্যাবশ্যকীয় ভ্রমণ ব্যতীত অন্য সব ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, “এসব অঞ্চলে, বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকায় নিয়মিত সহিংসতা ও অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যকলাপের খবর পাওয়া যায়।”

পার্বত্য চট্টগ্রামের এই তিন জেলা হলো—রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান।

সতর্কতা নোটিশে আরও বলা হয়েছে, যেসব অঞ্চলে ভ্রমণের বিরুদ্ধে পরামর্শ দেওয়া হয়, সেখানে এফসিডিওর সহায়তা প্রদানের সক্ষমতা মারাত্মকভাবে সীমাবদ্ধ থাকে।

এফসিডিও জানিয়েছে, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আর নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে ২২ জানুয়ারি। নির্বাচনকালীন সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতা ও উগ্রবাদীদের হামলার আশঙ্কা রয়েছে। রাজনৈতিক সমাবেশ ও ভোটকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে। নির্বিচার হামলার ঘটনাও ঘটতে পারে।

এফসিডিও বলেছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান ঘটে। সে সময় দেশজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এতে বহু মানুষ নিহত ও আহত হন। এফসিডিও জানায়, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিয়মিত সমাবেশ ও বিক্ষোভ করছে, যা খুব দ্রুত সহিংসতায় রূপ নিতে পারে এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।

বিশেষ করে ‘হরতাল ও বিক্ষোভের সময় দেশের বিভিন্ন শহরে অগ্নিসংযোগ, সহিংসতা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে, যা প্রাণহানির কারণও হতে পারে। এই আশঙ্কায় ব্রিটিশ নাগরিকদের সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এফসিডিও জনগণকে দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির প্রতি সতর্ক থাকতে বলেছে। বিক্ষোভ, রাজনৈতিক সমাবেশ ও বড় জমায়েত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোথাও বিক্ষোভ শুরু হতে দেখলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করতে এবং স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর নিয়মিত দেখতে বলা হয়েছে। ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ হলে ইমেইল নোটিফিকেশন নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

সম্পর্কিত