বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) নিয়ে বিতর্ক যেন থামছেই না। সবশেষ ১২তম আসরে দুর্নীতির অভিযোগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক মোখলেছুর রহমান শামীম, সাবেক সিকিউরিটি লিয়াজোঁ অফিসার জাকির হোসেন এবং সাবেক অডিট কমিটির সাবেক সদস্যসচিব রাকিবুল ইসলাম সানিকে অভিযুক্ত করেছে বিসিবি।
মঙ্গলবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইসিসির ২০২৪ সালের দুর্নীতিবিরোধী নীতিমালার বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের তদন্তের ভিত্তিতে এসব অভিযোগ গৃহীত হয়েছে।
এই তিনজনের বিরুদ্ধে গুরুতর কিছু অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে বিসিবির বিবৃতিতে। এর মধ্যে রয়েছে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ড, ম্যাচের ফলাফল বা ম্যাচের বিভিন্ন অংশ অনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা, ক্রিকেটারদের দুর্নীতির প্রস্তাব দেওয়া, তথ্য গোপন করা, তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং তদন্তে বাধা দেওয়া বা বিলম্বিত করার মতো বিষয়।
মোখলেছুর রহমান আমিনুল ইসলামের বোর্ডে পরিচালকের পাশাপাশি ছিলেন অডিট কমিটির চেয়ারম্যানও। বিপিএল চলাকালীন কল রেকর্ডসহ তাঁর বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে ম্যাচ ফিক্সিংয়ে সাহায্য করার অভিযোগ আনেন একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর। এরপর তদন্তের স্বার্থে তিনি নিজেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান।
বিসিবির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, তামিমের বোর্ড গঠিত হওয়ার পর থেকে নানাভাবে ফিক্সিংয়ের তদন্ত থেকে নিজের নাম সরানোর জন্য তদবির-সুপারিশ করেছেন মোখলেছুর। এমনকি রাজনৈতিক পরিচিতি কাজে লাগিয়েও চেষ্টা করেছেন প্রভাব বিস্তারের, তবে তা আমলে নেয়নি বিসিবি।
তার বিরুদ্ধে আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী নীতিমালার ২.১.১, ২.১.৪, ২.৪.৪ ও ২.৪.৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে আছে গত বিপিএলের কয়েকটি ম্যাচের ফলাফল বা অন্যান্য দিক অনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা, অন্যদের দুর্নীতিতে যুক্ত হতে সহায়তা করা, দুর্নীতির প্রস্তাব পাওয়ার তথ্য না জানানো এবং তদন্তের সঙ্গে যোগাযোগ আছে এমন তথ্য গোপন করা, মুছে ফেলা বা ধ্বংস করার অভিযোগ।
মোখলেছুরসহ অভিযুক্ত তিনজনকেই সব ধরনের ক্রিকেট-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অভিযোগের নোটিশ পাওয়ার পর ১৪ দিনের মধ্যে তারা জবাব দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এরপর আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী নীতিমালা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।এর আগে গত মে মাসে ২০২৫-২৬ বিপিএলে ফিক্সিংয়ে যুক্ত থাকার দায়ে বিভিন্ন মেয়াদে খেলোয়াড়সহ পাঁচজনকে শাস্তি দেয় বিসিবি। তবে আমিনুল ইসলামের সময়ে নিয়োগ পাওয়া বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শালের দেওয়া ৯০০ পাতার তদন্ত প্রতিবেদনে ছিল আরও কিছু নাম। সেই ধারায় দ্বিতীয় দফায় আনুষ্ঠানিকভাবে আরও তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।