Advertisement Banner

শাহবাগে শিবির-ছাত্রদল দফায় দফায় সংঘর্ষ

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
শাহবাগে শিবির-ছাত্রদল দফায় দফায় সংঘর্ষ
শাহবাগে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের পর থানার সামনে জড়ো হয় দুইপক্ষের নেতা-কর্মীরা। ছবি: চরচা

ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে রাজধানীর শাহবাগে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

আজ বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ থেমে থেমে চলে রাত ১০টা পর্যন্ত। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম সলিমুল্লাহ হলের শিক্ষার্থী ও ছাত্রশিবির কর্মী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে একটি পোস্ট শেয়ার করেন। পরে তিনি দাবি করেন, তার আইডি হ্যাক হয়েছিল। এ ঘটনায় তিনি শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়।

অভিযোগ, জিডি করতে যাওয়ার সময় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা আবদুল্লাহ আল মাহমুদকে মারধর করে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীরা শাহবাগ থানার সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে থানার ভেতর ও বাইরে কয়েক দফা হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ মারধরের শিকার হন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শাহবাগে অবস্থান নিয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ছাত্রশিবিরের ‘গুপ্ত রাজনীতি’ বন্ধের দাবি জানান। পরে ডাকসুর কয়েকজন নেতার উপস্থিতিতে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা সেখানে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

রাত সোয়া ৯টার দিকে থানার সামনে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

শাহবাগ থানার সামনে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, “তারেক রহমান ও তার কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশ্লীল ফটোকার্ড ছড়ানোর ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ছাত্রদলের নেতারা থানায় এসেছিলেন।”

রাকিব দাবি করেন, “কে বা কারা ফেসবুকে ‘শাহবাগে আসুন’–এমন পোস্ট দেওয়ার পর ৩-৪ জন সেখানে উপস্থিত হলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তারা হাজারো নেতা-কর্মীর মধ্যে পড়ে আহত হন। এ সময় ঢাবি ছাত্রদলের সহসভাপতি তাদের রক্ষার চেষ্টা করেন এবং পরে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও পুলিশ মিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।”

ছাত্রদল সভাপতি বলেন, “ছাত্রশিবিরের ‘গুপ্ত রাজনীতি’র কারণেই এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ‘গুপ্ত’ শব্দকে কেন্দ্র করে যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতায় এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া পোস্ট ও ফটোকার্ড ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।” তিনি বলেন, “গুপ্ত রাজনীতির অবসান চাই।”

রাত পৌনে ১০টার দিকে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা থানার সামনে থেকে সরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা অভিমুখে চলে যান। অন্যদিকে ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও কোনো মন্তব্য করেননি।

এদিকে শাহবাগ থানা এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থানার ভেতরে অবস্থান করছেন এবং পুলিশ ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলম বলেন, “ছাত্রশিবিরের এক শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ফেসবুকে একটি পোস্ট শেয়ার করেছিলেন, যদিও পরে তিনি দাবি করেন এটি ভুয়া এবং তার আইডি হ্যাক করা হয়েছিল। এ ঘটনায় জিডি করতে তিনি শাহবাগ থানাতে আসেন। বিষয়টি জানাজানি হলে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সেখানে জড়ো হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশ মাহমুদকে নিরাপত্তার জন্য থানার একটি কক্ষে সরিয়ে রাখে।”

ডিসি মো. মাসুদ আলম তিনি বলেন, “পরে আরও কয়েকজন নেতা-কর্মী থানায় এলে উত্তেজনা বেড়ে যায় এবং একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপ করে এবং জড়িতদের আলাদা করে দেয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থাও করা হয়েছে।”

ডিসি মাসুদ আলম আরও জানান, পরে আবারও কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা তৈরি হলেও পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

তিনি বলেন, “পোস্টকারীকে অভিযুক্ত করে ছাত্রদল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অন্যদিকে আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জিডি করতে এলেও তা সম্পন্ন করতে পারেননি। বর্তমানে তাকে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত দুই পক্ষের নেতা–কর্মীরা থানার আশপাশে অবস্থান নিয়ে ছিল।

সম্পর্কিত