বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী কাজী এমামুল হক আলিমকে প্রকাশ্যে শাসানোর অভিযোগ উঠেছে উপজেলাটির কেদারপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাসানুজ্জামান খোকন ওরফে আর্মি খোকনের বিরুদ্ধে। আজ বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার একটি ভিডিও এরই মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভুক্তোভোগী বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী কাজী এমামুল হক আলিম বলেন, “অফিসে এসে বিএনপি নেতা হাসানুজ্জামান খোকন ওরফে আর্মি খোকন প্রথমেই আমাকে বলে এলাকায় ওনাকে আমরা জিরো করে ফেলেছি। একটা রাস্তা নির্মাণের বিষয়ে উনি এলাকায় বলেছেন হবে না। এরপর নাকি উপ-সহকারী প্রকৌশলী বলেছে হবে। এ ঘটনায় তিনি বিব্রত। এ সময় তাকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে একই রাস্তা নির্মানের জন্য ২ বার আবেদন হওয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে।”
এমামুল হক আলিম আরও বলেন, “এখানে কাউকে ছোট করার কোনো উদ্দেশ্য ছিলো না। এ ঘটনায় উনি হঠাৎ রেগে যায় ও নানা অনিয়মের অভিযোগ তোলে। এ সময় তাকে আমরা আশ্বস্ত করছি যদি অনিয়ম হয় তাহলে অবশ্যই সেটা খতিয়ে দেখা হবে। এ সময় তিনি উচ্চবাচ্য করে প্রকাশ্যে শাসিয়ে অফিসের পরিবেশ ঘোলাটে করে বের হয়ে যায়। পাশাপাশি আরও বলেন যদি কোন কাজ করতে হয় স্থানীয় জনগনকে সাথে নিয়ে ঠিকাদারকে কাজ করতে হবে। তা না হলে নানা বাধা বিঘ্নের সৃষ্টি করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে কেদারপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাসানুজ্জামান খোকন। তিনি দাবি করেন, রাস্তা নির্মাণের কাজ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে মাত্র। কারোর সাথে কোন ধরনের উচ্চবাচ্য কথাবার্তা অথবা শাসানো হয়নি। এমন অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যে।
বরিশাল জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীন বলেন, “ভুক্তোভোগী যদি আমাদের কাছে অভিযোগ করে অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা নেব।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাবুগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী অফিসার আসমা উল হুসনা বলেন, “আমরা এখানে এসেছি বাবুগঞ্জের মানুষের সেবা করতে। কিন্তু সরকারি কোনো কার্মকর্তার সঙ্গে তো খারাপ আচরণ ঠিক না। যদি অভিযোগ পাই অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”