নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩০০ ছাড়িয়েছে । স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার এ বন্যার ঘটনা ঘটে। খবর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির।
এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বাড়ছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আকস্মিক বন্যায় ৩৩০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং নিখোঁজ ১ হাজার ৫০০ এর বেশি মানুষ। নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে।
নেপাল-চীন সীমান্তের তিব্বতসংলগ্ন এলাকায় বন্যায় অন্তত ৭০০ বিদেশি পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। তীর্থযাত্রী ও পর্যটকে ব্যস্ত একটি সড়কও বন্যার স্রোতে ভেসে গেছে।নিখোঁজদের সন্ধানে হেলিকপ্টার ব্যবহার করছেন উদ্ধারকর্মীরা। দুর্গম শহর ও উপত্যকায় আটকে পড়া হাজারো মানুষের কাছে তাবু, খাবার ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
রয়টার্স জানায়, ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও বেঁচে ফেরার কিছু ঘটনা সামনে এসেছে। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ প্রাণে বেঁচে গেছেন।
এদিকে নেপালে অন্তত ২৮৮ ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন এবং চীনে আরও ২০০ ভারতীয় আটকা পড়েছেন বলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক্সে জানান, কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় অংশ নিতে যাওয়া দক্ষিণাঞ্চলীয় তামিলনাড়ু রাজ্যের অন্তত ২১ ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে।
নেপালে এর আগে আকস্মিক বন্যার অভিজ্ঞতা থাকা এক অভিজ্ঞ পর্বতারোহীর বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, দুর্যোগটি কতটা ‘বিস্ফোরক’ ও ‘ভয়াবহ’ ছিল, তা তিনি বিশ্বাসই করতে পারছেন না। বন্যার সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, সে বিষয়ে ধীরে ধীরে নতুন তথ্য সামনে আসছে।
বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক ধারণা, ‘হিমবাহ ধস ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত’ থেকেই এই বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।