বরিশালের আগৈলঝাড়ায় নারী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় তার স্বামী আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম মারুফ সেরনিয়াবাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান চরচাকে বলেন, “আজ বুধবার দুপুরে আসামি মারুফ সেরনিয়াবাতকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”
গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে আত্মগোপনে থাকা ইউপি সদস্য মারুফ সেরনিয়াবাতকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার মারুফ সেরনিয়াবাত আগৈলঝারা উপজেলার সেরাল গ্রামের বাসিন্দা ও গৈলা মডেল ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। মৃত শীলা আক্তার মহিলা আওয়ামী লীগের উপজেলা শাখার বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এবং গৈলা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছিলেন। তিনি তিন কন্যা সন্তানের জননী ও মারুফ সেরনিয়াবাতের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন।
শীলা আক্তারের পরিবারের সদস্যরা জানায়, গত ২৫ জুলাই বিকেলে উপজেলার সেরাল গ্রামের ভাড়া বাসায় পারিবারিক কলহের জেরে শীলাকে তার স্বামী মারুফ সেরনিয়াবাত মারধর করেন। পরে ওই বাসায় শীলার ঝুলন্ত লাশ দেখে স্থানীয়রা প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) ও হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
মৃতের বাবা সেরাল গ্রামের আব্দুস সালাম হাওলাদার বলেন, “এক বছর আগে মারুফ সেরনিয়াবাত আমার মেয়ে শীলা আক্তারকে বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকে তারা সেরাল গ্রামের একটি ভাড়া বাসায় থাকতো। কারণে-অকারণে মারুফ প্রায়ই শীলাকে মারধর করত।”
এ ঘটনায় মৃতের বড় ভাই আলামিন হাওলাদার বাদী হয়ে গত ২৯ জুলাই আগৈলঝাড়া থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে শীলার স্বামী ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম মারুফ সেরনিয়াবাতের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।