ads

রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেন কীভাবে?

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেন কীভাবে?
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির বাসভন ও কার্যালয় বঙ্গভবন। ছবি: বাসস

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আর পদে থাকছেন না বলে সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে। খবরে বলা হচ্ছে, তিনি পদত্যাগ করতে পারেন। তবে এখন পর্যন্ত বঙ্গভবন থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কিছু জানানো হয়নি।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে।

Advertisement

২০২৪ সালে ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণের দাবি উঠেছিল। ওই সময় তার পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিল বিভিন্ন সংগঠন। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার মো. সাহাবুদ্দিনকে সরাতে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ফাইল ছবি
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ফাইল ছবি

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে তিনি পদত্যাগ করতে চান। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাকে ‘অপমান’ করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২৪ ফেব্রুয়ারি কালের কণ্ঠকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাহাবুদ্দিন বলেন, সরকার চাইলে তিনি দায়িত্বে থাকবেন, না হলে পদত্যাগ করবেন।

গত ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি তাকে সরানোর পথে যায়নি। সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট সংসদে নজিরবিহীন ক্ষোভ প্রকাশ করে।

বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে।

সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদের উপ-অনুচ্ছেদ ৩-এ বলা আছে, রাষ্ট্রপতিকে স্পিকার বরাবর চিঠি দিয়ে পদত্যাগ করতে হবে।

মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

আর ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

সংবিধানের ১২৩ (২) অনুচ্ছেদে বলা আছে, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের ফলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পদটি শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। ফাইল ছবি
রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। ফাইল ছবি

যদি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন তার মেয়াদ পূর্ণ করতেন, তাহলে তার উত্তরাধিকারী-কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি পদে বহাল থাকবেন বলে সংবিধানে বলা আছে।

বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রপতির অভিশংসন সম্পর্কেও বিধান রয়েছে। ৫২ (১) অনুচ্ছেদে বলা আছে, এই সংবিধান লংঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসিত করা যাবে। তার জন্য সংসদের মোট সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের স্বাক্ষরে অনুরূপ অভিযোগের বিবরণ লিপিবদ্ধ করে একটি প্রস্তাবের নোটিশ স্পিকারের কাছে পাঠাতে হবে। স্পিকারের কাছে ওই নোটিশ দেওয়ার দিন থেকে ১৪ দিন আগে বা ৩০ দিনের পর এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে না। সংসদ অধিবেশনরত না থাকলে স্পিকার দ্রুত সংসদ আহ্বান করবেন।

এই অনুচ্ছেদের অধীন কোনো অভিযোগ তদন্তের জন্য সংসদ কর্তৃক নিযুক্ত বা আখ্যায়িত কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা কর্তৃপক্ষের কাছে সংসদ রাষ্ট্রপতির আচরণ জানাতে পারবেন। ওই অভিযোগ বিবেচনাকালে রাষ্ট্রপতির উপস্থিত থাকার এবং প্রতিনিধি পাঠানোর অধিকার থাকবে।

অভিযোগ-বিবেচনার পর মোট সংসদ সদস্য অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে অভিযোগ যথার্থ বলে ঘোষণা করে সংসদ কোনো প্রস্তাব আনলে সেই তারিখেই রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হবে।

সম্পর্কিত