Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

শুধু সস্তায় পোশাক বানিয়ে টিকে থাকতে পারবে বাংলাদেশ?

রেজাউল করিম

রেজাউল করিম

প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০: ১৭
শুধু সস্তায় পোশাক বানিয়ে টিকে থাকতে পারবে বাংলাদেশ?
বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্প এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। ছবি: রয়টার্স

বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্প এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। আছে নানা চ্যালেঞ্জ। তবে অন্যতম সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, সস্তার পোশাক বানানোয় জোর দেওয়ার কৌশল। এতদিন এই কৌশলেই সুবিধা আদায় করতে পেরেছে বাংলাদেশ। কিন্তু ভবিষ্যতে কী হবে?

Advertisement
Advertisement
Advertisement

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এক গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে যে, কেবল সস্তা শ্রমের ওপর নির্ভর করে বিশ্ববাজারে টিকে থাকার দিন শেষ হয়ে আসছে বাংলাদেশের। লজিস্টিকস ব্যবস্থাপনা, পরিবহন কাঠামো, বন্দর সক্ষমতা এবং কাস্টমস প্রক্রিয়ার জটিলতা দূর করা না গেলে সামনের দিনগুলোতে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

ওই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে তৈরি পোশাক খাতের ভূমিকা অপরিসীম। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশই আসে এই খাত থেকে। জিডিপিতে এই খাতের অবদান প্রায় ১০ শতাংশ। তৈরি পোশাক শিল্পে বর্তমানে সরাসরি কর্মরত রয়েছেন ৪২ লাখেরও বেশি শ্রমিক, এর মধ্যে ৬০ শতাংশই নারী। এর বাইরে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প যেমন সুতা তৈরি, ডাইয়িং, প্যাকেজিং, পরিবহন এবং প্রসাধনী খাত মিলিয়ে পরোক্ষভাবে আরও প্রায় ১ কোটি মানুষের জীবিকা এই খাত থেকে আসে।

বর্তমানে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির মাত্র ২৭ শতাংশ আসে সিন্থেটিক বা ম্যান-মেইড ফাইবারের পোশাক থেকে। ছবি: রয়টার্স
বর্তমানে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির মাত্র ২৭ শতাংশ আসে সিন্থেটিক বা ম্যান-মেইড ফাইবারের পোশাক থেকে। ছবি: রয়টার্স

আইএমএফ-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, একক কোনো খাতের ওপর বেশি নির্ভরতা অর্থনৈতিক কাঠামোর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা কাঁচামালের দামের ওঠানামার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোতে স্থবিরতার কারণে এই শিল্পের উৎপাদন ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার সক্ষমতা ব্যাহত হলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, মূল্যস্ফীতি ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর।

বাংলাদেশ পোশাক বানায়, ব্র্যান্ড বানাতে পারে না কেন?dress

গবেষণায় বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাংকের লজিস্টিকস পারফরম্যান্স ইনডেক্সে (এলপিআই) বিশ্বে বাংলাদেশ আছে ৮৮ নম্বরে। অন্যদিকে প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনামের অবস্থান ৫০, ভারত ৩৮তম ও চীন ১৯তম।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ-র সাবেক সভাপতি এবং জায়ান্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক হাসান চরচা’কে বলেন, “বাংলাদেশ কম দামে পোশাক রপ্তানি করে–বিষয়টা একেবারে ঠিক নয়। প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে আমরা কয়েকটা কৌশল নিই। যেমন, প্রতিযোগী দেশগুলোর চেয়ে একটু কম দাম, ভালো মান ও দ্রুত ডেলিভারি দেওয়ার চেষ্টা করি আমরা। হয়তো আমাদের এই সুযোগটা আছে বলেই করতে পারি। না হলে আমরা অন্য কোনো কৌশল নিতাম।”

তবে কম দামকে ফারুক হাসান শুধু বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে দেখছেন না, বরং মাঝারি ও উচ্চমূল্যের বাজারে বাংলাদেশের দুর্বল উপস্থিতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে তৈরি পোশাক খাতের ভূমিকা অপরিসীম। ছবি: রয়টার্স
বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে তৈরি পোশাক খাতের ভূমিকা অপরিসীম। ছবি: রয়টার্স

২০২২ সালে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ যৌথভাবে পোশাক পণ্যের ন্যূনতম মূল্য ও উৎপাদন ব্যয় নির্ধারণের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছিল। বিজিএমইএ বলছে, এর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও ব্র্যান্ডগুলোর কাছ থেকে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে অস্বাস্থ্যকর মূল্য প্রতিযোগিতা বন্ধ করা।

বন্দরেই সময় চলে যায় অনেক

আইএমএফ–এর গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই পরিচালিত হয় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের মাধ্যমে। অথচ প্রয়োজনীয় কন্টেইনার টার্মিনাল, আধুনিক ক্রেন ও অটোমেটিক ক্লিয়ারেন্স ব্যবস্থার অভাবে কন্টেইনার জট চট্টগ্রাম বন্দরের নিত্যদিনের ঘটনা। চট্টগ্রাম বন্দরে একটি কন্টেইনার জাহাজকে গড়ে প্রায় চার থেকে ছয় দিন অপেক্ষা করতে হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশের শক্ত প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনামের ড্যানাং বা চীনের সাংহাই বন্দরে জাহাজ ভেড়ার ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য খালাস হয়ে যায়।

দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক, তবুও কেন দাম বাড়াতে পারছে না বাংলাদেশ?may-day-germents

পরিবহন ব্যবস্থার ধীরগতির কারণ শুধু বন্দরেই সীমাবদ্ধ নয়। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অতিরিক্ত যানজট এবং মহাসড়কের ধারণক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে ১৭ থেকে ২০ ঘণ্টার মতো সময় অপচয় হয়। অতিরিক্ত যাতায়াত ব্যয় ও সময় বেশি লাগার কারণে সাপ্লাই চেইনে বড় ধরনের বাধা তৈরি হয়।

ফারুক হাসান বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে আমদানি–রপ্তানি পণ্য যত দ্রুত সম্ভব বন্দরে হ্যান্ডলিং করতে হবে। বন্দরের কার্যক্রমে দক্ষতা বাড়ানো গেলে পণ্য পরিবহনে সময় কমবে এবং বাংলাদেশের পোশাক খাতের লিড টাইম কমানো সম্ভব হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশ যেহেতু বেসিক পোশাকের পাশাপাশি বেশি দামি পোশাকে যেতে চাইছে, দ্রুত ডেলিভারি দেওয়ার সক্ষমতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।”

রাস্তায় জটও মাথাব্যথা

গবেষণায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ফ্যাশন জগতে বর্তমানে “ফাস্ট ফ্যাশন” বা দ্রুত বাজারজাতকরণের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্রেতারা এখন অর্ডার দেওয়ার পর থেকে তাগাদা দেয় যাতে যত কম সময়ে সম্ভব পণ্যটা পৌঁছানো যায়। ইউরোপ ও আমেরিকার ক্রেতাদের কাছে পণ্য পৌঁছাতে যেখানে চীন ও ভিয়েতনামের সময় লাগে ৩০ থেকে ৩৫ দিন, সেখানে বাংলাদেশের বন্দর জট ও সড়ক পরিবহনের ধীরগতির কারণে গড়ে ৫৪ থেকে ৬৫ দিন সময় লেগে যায়।

এই বাড়তি ২০ থেকে ২৫ দিনের “লিড টাইম” ঘাটতির কারণে আন্তর্জাতিক অনেক নামীদামি ফ্যাশন ব্র্যান্ড বাংলাদেশ থেকে ক্রয়াদেশ সরিয়ে কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম বা ভারতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। অতিরিক্ত লিড টাইমের ক্ষতিপূরণ দিতে অনেক সময় রপ্তানিকারকদের জরুরি ভিত্তিতে উড়োজাহাজে করে পণ্য পাঠাতে হয়। তখন পরিবহন খরচ প্রায় চার গুণ বেড়ে যায়। রপ্তানিকারকদের লাভ তখন শূন্যে নেমে আসে।

ফারুক হাসান বলেন, “পোশাক রপ্তানিতে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যানজট ও পরিবহনজনিত বিলম্ব সরাসরি লিড টাইমের ওপর চাপ তৈরি করে। ফলে অবকাঠামোর উন্নয়ন শুধু যোগাযোগ সহজ করার বিষয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা ধরে রাখার সঙ্গেও সম্পর্কযুক্ত।”

চীনের ছুটে যাওয়া পোশাকের অর্ডার বাংলাদেশ কেন পাচ্ছে না?garments_worker

লজিস্টিকস ও উৎপাদন খরচে কী অবস্থা

আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের সামগ্রিক উৎপাদন খরচের প্রায় ১৫ শতাংশই ব্যয় হয় লজিস্টিকস ও পরিবহন খাতে। অন্যদিকে ভিয়েতনামে এই হার মাত্র ৮.৫ শতাংশ, ভারতে ৯.৭ শতাংশ এবং চীনে ৭.২ শতাংশ।

লজিস্টিকস ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সে দেরি হওয়া, কন্টেইনার ডেমারেজ চার্জ, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং সড়ক পথে চাঁদা। এর ফলে প্রতি ডলার মূল্যের পণ্য উৎপাদনে বাংলাদেশের খরচ প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় গড়ে ৬ থেকে ৮ সেন্ট বেশি পড়ে। বৈশ্বিক বাজারে যখন প্রতিযোগিতা চলছে, তখন এই অতিরিক্ত লজিস্টিকস ব্যয় ব্যবসায়ীদের নিট মুনাফা কমিয়ে দিচ্ছে।

এলডিসি থেকে উত্তরণের পর কী হবে?

জাতিসংঘের ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হয়ে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে যাচ্ছে। এলডিসি উত্তরণের পরপরই বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাজ্য, কানাডা ও জাপানের মতো প্রধান বাজারগুলোতে বিদ্যমান জিএসপি সুবিধা বা শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার হারাবে।

আইএমএফের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শুল্কমুক্ত সুবিধা তুলে নেওয়ার পর বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড়ে ৯.৭ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপ হতে পারে। এই বাড়তি শুল্কের কারণে বার্ষিক রপ্তানি আয় প্রায় ৫ থেকে ৭ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদি দেশীয় লজিস্টিকস ও অবকাঠামোগত খরচ অন্তত ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ না কমানো যায়, তবে এই বাড়তি শুল্কের চাপ সামলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করা বাংলাদেশি কারখানাগুলোর জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।

বিজিএমইএ এর সাবেক পরিচালক ও ডেনিম এক্সপার্টের এএমডি মহিউদ্দিন রুবেল চরচা’কে বলেন, “বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর তিন বছরের একটি অন্তর্বর্তী সময় পাবে। এরপর ২০২৯ সালের শেষের দিকে বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ‘এভরিথিং বাট আর্মস’ বা ইবিএ সুবিধার আওতায় বর্তমানে পাওয়া শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা হারাবে। বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির অর্ধেকেরও বেশি যায় ইউরোপীয় ইউনিয়নে। ফলে ইবিএর পরিবর্তে বাংলাদেশ যে সুবিধা পাবে, সেটিই দেশের তৈরি পোশাক খাতের ভবিষ্যৎ অনেকটা নির্ধারণ করবে। এর জন্য আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে।”

বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ব্যয় বৃদ্ধির চাপে কুপোকাত দেশের পোশাক খাতgarments_worker

জ্বালানির কারণেই কি খরচ বাড়ছে বেশি?

ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক লজিস্টিকসের পাশাপাশি কারখানাগুলো জ্বালানি সংকটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ না থাকা ও ঘন ঘন চাপ কমে যাওয়ার কারণে নিটিং, ডাইয়িং ও গার্মেন্টস ইউনিটগুলোর উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন বজায় রাখতে বিকল্প হিসেবে ব্যয়বহুল ডিজেল চালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এর ফলে কারখানার জ্বালানি ও পরিচালনা ব্যয় প্রায় ২০ থেকে ২২ শতাংশ বেড়ে যাচ্ছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের বারবার দাম বৃদ্ধির সঙ্গে ব্যাকআপ জেনারেটরের খরচ যোগ হওয়ায় পণ্যের সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে।

বিজিএমইএ সভাপতি ও রাইজিং ফ্যাশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদ হাসান খান চরচা’কে বলেন, “যেকোনো শিল্পের জন্য জ্বালানি খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা প্রতিনিয়ত সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করি, খুব দ্রুত এর সমাধান হবে।”

শুল্কমুক্ত সুবিধা তুলে নেওয়ার পর বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড়ে ৯.৭ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপ হতে পারে। ছবি: রয়টার্স
শুল্কমুক্ত সুবিধা তুলে নেওয়ার পর বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড়ে ৯.৭ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপ হতে পারে। ছবি: রয়টার্স

মহিউদ্দিন রুবেল আরও বলেন, “গ্যাসের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ ঊর্ধ্বমুখী, আবার গ্যাসের চাপ কম থাকায় জেনারেটরও ঠিকভাবে চলছে না। ফলে শিল্পমালিকরা গ্যাস ও বিদ্যুতের অনিশ্চয়তার কারণে ক্ষতির মুখে পড়ছেন।”

শুধু সস্তায় পোশাক বানিয়ে দিন চলবে?

আইএমএফ তার প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, সস্তা ও বেসিক পোশাক (যেমন: সাধারণ টি-শার্ট বা সুতির প্যান্ট) বানিয়ে রপ্তানি বাড়ানোর পুরনো মডেল আর কাজ করবে না। বাংলাদেশকে ম্যান-মেইড ফাইবার (এমএমএফ) বা কৃত্রিম তন্তু, সিন্থেটিক ফ্যাব্রিক এবং বেশি দামি কারিগরি পোশাক যেমন স্পোর্টস, অ্যাক্টিভওয়্যার, জ্যাকেট, ওয়াটারপ্রুফ পোশাক উৎপাদনের দিকে যেতে হবে।

সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে জাতীয় অগ্রাধিকার খাত বিবেচনা করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রীpm-tarique-rahaman

বর্তমানে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির মাত্র ২৭ শতাংশ আসে সিন্থেটিক বা ম্যান-মেইড ফাইবারের পোশাক থেকে। আর ভিয়েতনামের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৭০ শতাংশ। বেশি দামের ভ্যালু এডেড পোশাক তৈরিতে কাঁচামাল আমদানি ও দ্রুত ক্লিয়ারেন্সে লজিস্টিকস ব্যবস্থা নিখুঁত হওয়া দরকার। তাই পণ্য বৈচিত্র্যকরণ নীতি বাস্তবায়নে অবকাঠামোগত গতিশীলতা বাড়াতে হবে।

আইএমএফ কী সুপারিশ করেছে

টেকসই অর্থনীতি ও তৈরি পোশাক খাতের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে চাইলে কী কী করতে হবে, এ ব্যাপারে আইএমএফ–এর গবেষণাপত্রে বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট সংস্কার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, কাস্টমস প্রক্রিয়ার শতভাগ অটোমেশন ও পেপারলেস ক্লিয়ারেন্স চালু করা, যাতে বন্দর থেকে পণ্য খালাসের সময়সীমা অর্ধেকে নেমে আসে। দ্বিতীয়ত, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডোর ও রেলভিত্তিক কন্টেইনার পরিবহন বৃদ্ধি করা, যাতে সড়কের ওপর নির্ভরতা ও যানজট কমানো যায়।

তৃতীয়ত, গভীর সমুদ্রবন্দর (যেমন: মাতারবাড়ি বন্দর) ও পোর্টস লজিস্টিকসে বেসরকারি খাত এবং বৈদেশিক সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিআই) সহজ করতে হবে। চতুর্থত, বাণিজ্য শুল্ক কাঠামোর আধুনিকায়ন এবং রপ্তানি সম্পর্কিত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতে হবে।

আইএমএফ মনে করে, এসব নীতিগত সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন করা হলে লজিস্টিকস ব্যয় কমবে এবং এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে বাংলাদেশ বিশ্ববাজারে শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পারবে।

বিষয়: রপ্তানিপোশাকপোশাকশিল্পআইএমএফরপ্তানি আয়পোশাক শ্রমিকবাণিজ্যবাংলাদেশ
সর্বশেষ
  • ১

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

  • ২

    মহাখালীতে পরিত্যক্ত ভবনে আগুন

  • ৩

    রাজধানীর ধানমন্ডিতে ভবনে আগুন

  • ৪

    হংকংয়ের বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব বাংলাদেশের

  • ৫

    মেঘের শারীরিক অবস্থা এখনো ‘অস্থিতিশীল’, মেডিকেল বোর্ড গঠন

সম্পর্কিত
  • লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    চলতি মাসে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যে লং মার্চ করেছে তাকে সরকারের জন্য ‘ওয়েক আপ কল’ বলে উল্লেখ করছেন জোটটির নেতারা। প্রায় ১ হাজার গাড়ি নিয়ে এই লং মার্চ করে জোটের পক্ষ থেকে সরকারকে ৬ দফা দাবি দেওয়া হয়েছে। জোট নেতারা ওই ৬ দফায় বিদ্যুৎ, গ্যাস সংকট

  • বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    ১৭ বছরের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-গ্রেপ্তার আর রাজনৈতিক চাপ সামলে এখন সরকারে বিএনপি। গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর দলের শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ এখন সরকারের দায়িত্বে ব্যস্ত। মন্ত্রিসভা, সংসদ, প্রশাসন, অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্

  • কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    চীনের সরকার আসলে কী কী বন্ধ করে দেয় – শুধুই কি বিদেশি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়, নাকি দেশের ভেতরে থাকা সমালোচকদের ওপরও এই নিষেধাজ্ঞা আছে, এমন চিন্তাটা আসা খুবই স্বাভাবিক। তবে এখানে সরকারের লক্ষ্য এর চেয়েও বড়।

  • ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পেরিয়েছে। এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে তেলের বাজার তীব্রভাবে প্রভাবিত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে আমেরিকানদের ওপর। গ্যাসের দাম কয়েক সপ্তাহ ধরে ৪ ডলারের বেশি। বন্ধকী ঋণের সুদের হারও বেড়ে প্রায় ৭ শতাংশের দিকে যাচ্ছে। আবার ডিজেলের রেকর্ড