Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

কটনে কি আটকে যাচ্ছে বাংলাদেশ?

রেজাউল করিম

রেজাউল করিম

প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১৯: ১১
কটনে কি আটকে যাচ্ছে বাংলাদেশ?
পোশাক কারখানায় কর্মরত শ্রমিকরা। ছবি: চরচা

বিশ্ববাজারের তুলা নির্ভর বা কটন পোশাকের চাহিদাকে পেছনে ফেলে শীর্ষে চলে এসেছে ম্যান-মেইড ফাইবার বা কৃত্রিম তন্তুর পোশাক। আন্তর্জাতিক ফ্যাশন সচেতন ক্রেতাদের বড় একটি অংশ এখন কটন ছেড়ে ঝুঁকছে অ্যাথলেজার, স্পোর্টসওয়্যার ও সিন্থেটিক কাপড়ের তৈরি পোশাকে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

গ্লোবাল ফ্যাশন ইনডেক্স ও বৈশ্বিক পোশাক খাতের বিশ্লেষণে দেখা যায়, বর্তমানে বিশ্বের মোট পোশাক চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশই দখল করে আছে পলিয়েস্টার, নাইলন ও ভিসকোসের মতো ম্যান-মেইড ফাইবার।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

এখানে বাংলাদেশের গল্পটা ঠিক উল্টো। প্রায় পৌনে চার দশকের অভিজ্ঞতা নিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হলেও, বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশই আটকে রয়েছে সেই কটন বা সুতি পোশাকে। বিশ্ববাজারের এই বিরাট পরিবর্তনের ঢেউ বাংলাদেশের কারখানাগুলোতে কিছুটা পৌঁছালেও, পরিবর্তনের গতি অত্যন্ত ধীর। তাই আন্তর্জাতিক বাজারের সিংহভাগ চাহিদা পূরণের পথে না এগিয়ে বাংলাদেশ পড়ে আছে সেই পুরানো, চেনা গণ্ডিতে।

আন্তর্জাতিক বাজার গবেষণা সংস্থা মোর্ডোর ইন্টেলিজেন্স ও গ্র্যান্ড ভিউ রিসার্চের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বৈশ্বিক ম্যান-মেইড ফাইবারে তৈরি পোশাকের বাজারের আকার বেড়ে প্রায় ৭০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। আর বলা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে তা প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যাবে।

বিশ্ববাজারের কটন পোশাকের চাহিদাকে পেছনে ফেলে শীর্ষে চলে এসেছে ম্যান-মেইড ফাইবার বা কৃত্রিম তন্তুর পোশাক। প্রতীকী ছবি: চরচা
বিশ্ববাজারের কটন পোশাকের চাহিদাকে পেছনে ফেলে শীর্ষে চলে এসেছে ম্যান-মেইড ফাইবার বা কৃত্রিম তন্তুর পোশাক। প্রতীকী ছবি: চরচা

টেক্সটাইল এক্সচেঞ্জের বার্ষিক ‘ম্যাটেরিয়ালস মার্কেট রিপোর্ট’ এবং আন্তর্জাতিক কটন উপদেষ্টা কমিটির তথ্য বলছে, বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত মোট টেক্সটাইল ফাইবারের প্রায় ৭০ শতাংশই পলিয়েস্টার, নাইলন, স্প্যান্ডেক্স ও ভিসকোসের মতো সিন্থেটিক ম্যান-মেইড ফাইবার। এর পেছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে বিশ্বব্যাপী স্পোর্টসওয়্যার ও অ্যাথলেজারের বিপুল চাহিদা।

এছাড়া ওয়ার্ড ট্রেড সেন্টার ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার পরিসংখ্যানে দেখা যায়, কটন পণ্যের গড় রপ্তানি মূল্যের তুলনায় ম্যান-মেইডভিত্তিক উচ্চ মানসম্পন্ন পোশাক ইউরোপ-আমেরিকার বাজারে প্রায় দেড় থেকে দ্বিগুণ বেশি দামে বিক্রি হয়।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিশ্ববাজারে সিন্থেটিক পোশাকের বিপুল চাহিদা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ এই খাতের খুব সামান্য অংশই দখল করতে পেরেছে।

চীনের ছুটে যাওয়া পোশাকের অর্ডার বাংলাদেশ কেন পাচ্ছে না?garments_worker

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো বলছে, বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানির প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশই এখনো ঐতিহ্যবাহী কটন বা সুতি পোশাকনির্ভর। যেখানে বিশ্বের মোট পোশাকের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ সিন্থেটিকের দখলে, সেখানে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির মাত্র ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ আসে ম্যান-মেইড ফাইবার বা মিশ্র ফাইবার থেকে। মোট বৈশ্বিক বাজারের মাত্র ২ শতাংশেরও কম অংশ বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সাথে তুলনা করলে দেখা যায়, চীন ও ভিয়েতনাম তাদের মোট পোশাক রপ্তানির যথাক্রমে প্রায় ৪০-৪৫ শতাংশ এবং ৫০-৫৫ শতাংশই ম্যান-মেইড ফাইভারে তৈরি পোশাকের মাধ্যমে করে থাকে। কটন থেকে ম্যান-মেইডে রূপান্তরের এই ধীরগতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চ মূল্যের পোশাকের বাজার ধরতে পারছে না বাংলাদেশ।

তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও জায়ান্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক হাসান চরচাকে বলেন, “ম্যান-মেইড ফাইবারটা পেট্রোকেমিক্যাল বেজড। আমরা এই ফাইবারটা কম খরচে তৈরি করতে পারছি না। অন্যদিকে আমাদের প্রতিযোগীরা, যেমন: চীন, তাইওয়ান ইত্যাদি দেশ খুব কম খরচে এগুলো তৈরি করে। তাই আমরা যখন বেশি টাকা খরচ করে ম্যান-মেইড ফাইবার তৈরি করছি এবং সেটা দিয়ে পোশাক তৈরি করছি, তখন আমাদের পোশাকের দাম বেড়ে যাচ্ছে। আর তখনই আমরা প্রতিযোগী দেশগুলো থেকে পিছিয়ে পড়ছি।”

বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক ও ডেনিম এক্সপার্টের এএমডি মহিউদ্দিন রুবেল চরচাকে বলেন, “আমরা ম্যান-মেইড ফাইবারের ‘র’ ম্যাটারিয়ালস উৎপাদন করতে পারছি না। চীন, তাইওয়ান ও ভারত থেকে এটা আমদানি করতে হয়। আর আমরা যখন এসব প্রতিযোগী দেশ থেকে আমদানি করে পোশাক তৈরি করছি, তখন এর খরচ বেড়ে যায়। এই খরচ দিয়ে আমরা বিশ্ব বাজারের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারছি না। এছাড়াও নতুন এক শিল্প গড়তে যে ধরনের অবকাঠামো দরকার সেটা আমাদের দেশে নেই। এর জন্য আমরা সরকারের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছি।”

মূলধনের সংকট, ঋণ জটিলতা ও অবকাঠামোর সমস্যা

পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই বিশাল সম্ভাবনাময় বাজারে বাংলাদেশের পিছিয়ে থাকার অন্যতম প্রধান কারণ হলো, প্রাথমিক মূলধনের ঘাটতি। কটন স্পিনিং বা কটন সুতা তৈরির কারখানার তুলনায় কৃত্রিম তন্তুর সুতা এবং বিশেষ ধরনের সিন্থেটিক কাপড় তৈরির কারখানা স্থাপনের প্রযুক্তি জটিল ও ব্যয়বহুল।

একটি পূর্ণাঙ্গ এমএমএফ বা ম্যান-মেইড ফাইবার কারখানা স্থাপন করতে যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয়, তার বড় অংশই উদ্যোক্তাদের ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভর করে জোগাড় করতে হয়। দেশের ব্যাংকিং খাতে সুদের উচ্চ হার এবং সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক ও স্থানীয় অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে ব্যাক টু ব্যাক ঋণপত্র বা এলসি খোলার ক্ষেত্রেও কিছুটা বন্ধুর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আর এটা অনেক ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাকেই নতুন প্রযুক্তিতে বড় অংকের টাকা বিনিয়োগ করা থেকে বিরত রাখছে।

কাঁচামালের শতভাগ আমদানি নির্ভরতা এবং কাস্টমস ব্যবস্থার জটিলতা তৈরি পোশাক খাতের এই আধুনিকায়নে আরেক বড় সমস্যা তৈরি করেছে। ম্যান-মেইড ফাইবার তৈরির প্রধান উপাদান পেট্রোকেমিক্যালস ও আধুনিক ফিলামেন্ট ইয়ার্ন বাংলাদেশে তৈরি হয় না বললেই চলে। ফলে কারখানাগুলোকে এগুলো আমদানি করতে হয় চীন, তাইওয়ান বা ভারতের মতো দেশ থেকে।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্বজুড়ে ফাস্ট ফ্যাশনের মূল ভিত্তিই হলো, দ্রুততম সময়ে পণ্য বাজারে পাঠানো বা শর্ট লিড টাইম। কিন্তু বাংলাদেশে আমদানিকৃত কাঁচামাল বন্দর থেকে ছাড়ে কাস্টমসের দীর্ঘসূত্রিতা এবং বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার নানা প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতায় এই লিড টাইম অনেক বেড়ে যাচ্ছে। দ্রুত কাঁচামাল না পাওয়ার ঝুঁকির কারণে আন্তর্জাতিক বায়িং হাউসগুলোও অনেক সময় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের কাছে বড় আকারের ম্যান-মেইড ফাইবারের পোশাকের অর্ডার দিতে চায় না।

অন্তর্বর্তী থেকে বিএনপি: ব্যবসা-বাণিজ্যে আশার আলো নাকি আরও সংকট? garments_worker

ফারুক হাসান বলেন, “এই ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলার জন্য সরকারের আর্থিক সহায়তা দরকার। আমি প্রেসিডেন্ট থাকার সময় সরকারকে এই প্রস্তাব দিয়েছিলাম। যদি আমাদের ইনসেনটিভ দেওয়া যেত, তাহলে আমরা এটা করতে পারতাম। আর আমরা যদি এখানে ভালো ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাত তৈরি করতে না পারি তাহলে ম্যান-মেইড ফাইবার দিয়ে তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ পাব না।”

অভাব আছে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও দক্ষ মানবসম্পদের

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ম্যান-মেইড ফাইবারে বাংলাদেশের পিছিয়ে থাকার অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি হলো, উচ্চ প্রযুক্তির এই বিশেষ খাতের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নিশ্চয়তা না থাকা। কটন পোশাকের ডাইং ও ওয়াশিং প্রসেসের সাথে সিন্থেটিক ফাইবার ডাইং এবং কেমিক্যাল প্রসেসিংয়ের প্রযুক্তিগত পার্থক্য রয়েছে। জ্বালানির সামান্য বিঘ্ন বা গ্যাসের চাপের ওঠানামা করলেই কারখানায় বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল নষ্ট হয় এবং উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দেয়। অর্থাৎ কটন বেজড মেশিনগুলো বিদ্যুৎ বা গ্যাসের যে প্রেসারে চলতে পারে, ম্যান-মেইড ফাইবারের মেশিনগুলো তাতে চলতে পারে না।

দেশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে জ্বালানির সরবরাহের নিশ্চয়তা না থাকাটা ম্যান-মেইড ফাইবার খাতের নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রধান ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। বহু উদ্যোক্তা কারখানা নির্মাণের পরিকল্পনা করেও শুধু টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার অনিশ্চয়তার কথা ভেবে সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছে। এছাড়াও, প্রযুক্তি এবং অবকাঠামোর পাশাপাশি বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ মানবসম্পদ ও গবেষণার। পেট্রোকেমিক্যাল পলিমার সায়েন্স, ফেব্রিক ডিজাইন এবং বিশেষ কেমিক্যাল ফিনিশিংয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান ও ট্রেন্ড অ্যানালিস্টের সংখ্যা খুবই কম।

কটন স্পিনিং তৈরির কারখানার তুলনায় কৃত্রিম তন্তুর সুতা এবং বিশেষ ধরনের সিন্থেটিক কাপড় তৈরির কারখানা স্থাপনের প্রযুক্তি জটিল ও ব্যয়বহুল। প্রতীকী ছবি: চরচা
কটন স্পিনিং তৈরির কারখানার তুলনায় কৃত্রিম তন্তুর সুতা এবং বিশেষ ধরনের সিন্থেটিক কাপড় তৈরির কারখানা স্থাপনের প্রযুক্তি জটিল ও ব্যয়বহুল। প্রতীকী ছবি: চরচা

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের অনেক কারখানা এখনো বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীদের উচ্চ বেতনে নিয়োগ দিয়ে এই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করছে, যা সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। একই সাথে কারখানা পর্যায়ে নিজস্ব গবেষণা ও উন্নয়ন বা রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগ না থাকায় গ্লোবাল ফ্যাশন ট্রেন্ডের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন নতুন উদ্ভাবন কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও জায়ান্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক হাসান বলেন, “আমরা বিদ্যুৎ ও গ্যাসের যে লাইন ব্যবহার করি, সেটা ম্যান-মেইড ফাইবার ইন্ডাস্ট্রির জন্য উপযুক্ত নয়। এর ডাইংয়ের মেশিনগুলো চালানোর জন্য বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বেশি প্রেসার দরকার। দেশে যেখানে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানিই নিশ্চিত হচ্ছে না, সেখানে উন্নতমানের লাইন একটু দূরের বিষয়। তারপরও সরকারের কাছে আমাদের আবেদন, নতুন একটা শিল্পের জন্য এই ব্যবস্থাটা করা দরকার।”

ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জগুলো কী

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক নীতিমালার পরিবর্তন এবং এলডিসি উত্তরণের মতো বড় মাইলফলক বাংলাদেশের সামনে এসে হাজির হয়েছে। এখন বাংলাদেশকে দ্রুত এই খাতে অগ্রসর হতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন পরিবেশগত বিধান ও কার্বন ট্যাক্সের মতো বিষয়গুলো মোকাবিলা করতে হলেও উন্নত প্রযুক্তির ম্যান-মেইড ফাইবারের কোনো বিকল্প নেই। এছাড়াও, সরকারি পর্যায়ে কাস্টমস নীতি সহজীকরণ, কম সুদে বিশেষ ফান্ডের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী ঋণ সুবিধা এবং বিশেষ শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশ দ্রুত এই সিন্থেটিক বিপ্লবে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান চরচাকে বলেন, “আমরা একের পর এক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছি। এবারের সংকটটা একটু গভীর। তবে এই সংকট বর্তমান সরকারের নয়। এটা আগের সরকারের রেখে যাওয়া সংকট। আমরা বর্তমান সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি, খুব শিগগিরই সমস্যার সমাধান হবে। প্রতিনিয়ত সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়। তাই আমাদের সব কথাগুলো তাদেরকে জানাতে পারি।”

বিষয়: পোশাকপোশাকশিল্পবাংলাদেশ
সর্বশেষ
  • ১

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

  • ২

    মহাখালীতে পরিত্যক্ত ভবনে আগুন

  • ৩

    রাজধানীর ধানমন্ডিতে ভবনে আগুন

  • ৪

    হংকংয়ের বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব বাংলাদেশের

  • ৫

    মেঘের শারীরিক অবস্থা এখনো ‘অস্থিতিশীল’, মেডিকেল বোর্ড গঠন

সম্পর্কিত
  • লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    চলতি মাসে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যে লং মার্চ করেছে তাকে সরকারের জন্য ‘ওয়েক আপ কল’ বলে উল্লেখ করছেন জোটটির নেতারা। প্রায় ১ হাজার গাড়ি নিয়ে এই লং মার্চ করে জোটের পক্ষ থেকে সরকারকে ৬ দফা দাবি দেওয়া হয়েছে। জোট নেতারা ওই ৬ দফায় বিদ্যুৎ, গ্যাস সংকট

  • বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    ১৭ বছরের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-গ্রেপ্তার আর রাজনৈতিক চাপ সামলে এখন সরকারে বিএনপি। গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর দলের শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ এখন সরকারের দায়িত্বে ব্যস্ত। মন্ত্রিসভা, সংসদ, প্রশাসন, অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্

  • কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    চীনের সরকার আসলে কী কী বন্ধ করে দেয় – শুধুই কি বিদেশি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়, নাকি দেশের ভেতরে থাকা সমালোচকদের ওপরও এই নিষেধাজ্ঞা আছে, এমন চিন্তাটা আসা খুবই স্বাভাবিক। তবে এখানে সরকারের লক্ষ্য এর চেয়েও বড়।

  • ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পেরিয়েছে। এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে তেলের বাজার তীব্রভাবে প্রভাবিত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে আমেরিকানদের ওপর। গ্যাসের দাম কয়েক সপ্তাহ ধরে ৪ ডলারের বেশি। বন্ধকী ঋণের সুদের হারও বেড়ে প্রায় ৭ শতাংশের দিকে যাচ্ছে। আবার ডিজেলের রেকর্ড